উন্নয়ন প্রকল্পে নজর রাখতে চায় দুদক

hc-dudok-32316সরকারের বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পের ওপর নজর রাখতে চায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ লক্ষ্যে প্রকল্পে কীভাবে দুদকের দক্ষ কর্মকর্তা নিযুক্ত করা যায় তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা চলছে। দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধ জোরদার করতে পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ এ কথা বলেন।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। দুদক চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন দুদক কমিশনার এএফএম আমিনুল ইসলাম। কমিশনার ড. নাসির উদ্দিনের সঞ্চালনায় খসড়া কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন মহাপরিচালক ড. শামসুল আরেফিন। দুদক সচিব আবু মো. মোস্তফা কামালসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের ওপর নজর রাখার বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। নিয়ম মেনে প্রকল্পের কাজ না হলে বা কোনো অস্বচ্ছতা পাওয়া গেলে সরকারকে অবহিত করবেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।

ইকবাল মাহমুদ সভায় উপস্থিত উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা দেখেছেন, বহু আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মূলত কাউকে আমরা গ্রেফতার করতে চাই না। দুর্নীতি সংঘটনের শুরুতেই বন্ধ হোক, এটা চাই। এ কারণে কমিশন স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে যাচ্ছে।

সভায় উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নে তারা যে অর্থ সহায়তা দেন তা তাদের দেশের জনগণের করের টাকা। এই টাকা যেন কোনোভাবেই অস্বচ্ছভাবে ব্যয় করা না হয়। তারা দুদকের পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনার প্রতি স্বাগত জানিয়ে দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধ আরও গতিশীল করার পরামর্শ দেন।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ অফিসের প্রতিনিধি সৈয়দ খালেদ আহসান দুদকের উদ্যোগের প্রতি স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশে রিসাইক্যাল ডেভেলপমেন্টের পরামর্শ দেন। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কান্ট্রি ডিরেক্টর কাজুহিকো হিগোচি পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা তৈরিতে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবেলার পরামর্শ দেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ঢাকা অফিসের প্রোগ্রাম ম্যানেজার জুলিয়া জ্যাকবি দুদকের পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনাকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে মূল্যায়ন করার পরামর্শ দেন।

এতে বক্তব্য রাখেন জিআইজেডের রুলস অব ল’ কর্মসূচির হেড অব প্রোগ্রাম প্রমিতা সেনগুপ্ত, অস্ট্রেলিয়া হাইকমিশনের প্রথম সচিব টম নেটলোটন, আইএলও প্রতিনিধি হাসিনা বেগম প্রমুখ।

ad

পাঠকের মতামত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *