হাদির লাশের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করতে চায় ফিরনাসের চাচা : আম্মার
লন্ডনে যাওয়ার জন্য ওসমান হাদির ভাই ওমর শরীফ স্ক্রিপ্ট দাঁড় করিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের জিএস সালাউদ্দিন আম্মার। এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এমন ধারনা পোষণ করেন
মূলত হাদির স্ত্রীকে রেখে তার সন্তানকে যুক্তরাজ্য নিয়ে যেতে চাওয়ার পর থেকেই ওমর শরীফ প্রশ্নের মুখে পড়েছেন।
এ বিষয়ে রোববার এক ফেসবুক পোস্টে আম্মার বলেন, ধরেন আপনার বাবারা দুই ভাই। আপনার বাবা মারা যাওয়ার সময় আপনি অনেক ছোট, আপনার আম্মুতো পরের মেয়ে।
বাংলাদেশের কালচারে স্বামী মারা যাওয়ার পর আর কতোটুকুই বা সিদ্ধান্ত তার হাতে থাকে? তো আপনার বড় চাচা হঠাৎ সিদ্ধান্ত নিলো যে আপনার বাবার সম্পত্তিগুলো আপনি বড় হওয়ার আগে পর্যন্ত দেখভাল উনি করবেন এবং আপনাকে মানুষের মতো মানুষ করার জন্য শহরে নিয়ে যাবেন।
ওমর শরীফের সমালোচনা করে আম্মার বলেন, এক্সাক্টলি দিস ইজ দ্যা পয়েন্ট! ১১মাসের শিশু ফিরনাসের দেখভাল দেখিয়ে শহীদ হাদির লাশের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করতে চায় ফিরনাসের বড় চাচা। এটাও বলে দিলো যে শহীদ ওসমান হাদির স্ত্রীকেও রেখে দাও, সন্তানকে দাও। মানে শহীদ ওসমান হাদির স্ত্রীর কোনো অনিরাপত্তা নাই? দুনিয়ার একমাত্র অনিরাপত্তায় ভোগা ব্যক্তি উনি।
পুরো স্ক্রিপ্ট সাজিয়েছেন জানিয়ে রাকসু জিএস বলেন, ওমর ভাই! স্ক্রিপ্ট একটু বেশিই সস্তা হয়ে গেলো! সিঙ্গাপুরের সর্বোচ্চ চিকিৎসা ফেলে তখনই ওনার পরিকল্পনা ছিলো লন্ডনের হাসপাতালে ট্রান্সফার করবেন। তারপর নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে সেখানেই থেকে যাবেন। গল্পটা এমনই। লন্ডনে যাওয়ার খায়েশ থাকলে আপনি যেতেই পারেন কিন্তু যে স্ক্রিপ্টে যেতে যাচ্ছেন এবং যাকে জড়াইছেন সেটা শহীদ হাদির সন্তান না শুধু, তার উত্তরসূরী।
ওসমান হাদির সন্তানকে নিয়ে আম্মার বলেন, ওরে শহীদ হাদির আদর্শে বড় করতে হবে। ওরে নিয়ে টানাটানি না করে নির্লজ্জের মতো একা একা চলে যান লোভনীয় সরকারি চাকরি আর নিরাপদ জীবন নিয়ে। আলহামদুলিল্লাহ আমার কোনো ভাই নাই, আমি মারা যাওয়ার পর আমার লাশের বিনিময়ে ১টা সুবিধাও যেনো কেউ গ্রহণ না করে এটা আমার অছিয়ত। শুধু বিচার…
আরেক পোস্টে আম্মার বলেছেন, শহীদ ওসমান হাদির ভাই ওমর হাদির লাশ ক্যাশের কাহিনী আজ স্পষ্ট। এটি দেখিয়ে দেয় মানুষের আসল পরিচয় মৃত্যু কিংবা সংকটের পরই সবচেয়ে স্পষ্ট হয়।
একজন শহীদের স্ত্রী যখন সরকারি সুবিধা বা চাকরির প্রলোভন প্রত্যাখ্যান করে বলেন, “আমি চাকরি চাই না, আমি বিচার চাই” তখন সেটি কেবল ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত থাকে না বরং তা ন্যায়বিচার, আত্মসম্মান এবং আদর্শের প্রতি এক দৃঢ় অবস্থান হয়ে ওঠে।









