373980

রাফিনিয়ার জোড়া গোলে ক্লাসিকো জিতে সুপার কাপ বার্সেলোনার

সৌদি আরবের জেদ্দায় উত্তাপ–উত্তেজনায় ভরা এল ক্লাসিকোতে শেষ হাসি হাসল এফসি বার্সেলোনা। ভাগ্যছোঁয়া এক শটে ম্যাচের নায়ক বনে যাওয়া ব্রাজলিয়ান উইঙ্গার রাফিনিয়ার গোলেই স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে ৩-২ গোলে জিতে শিরোপা নিশ্চিত করে কাতালানরা। তবে ম্যাচজুড়ে দাপট দেখিয়ে আলোচনায় ছিলেন রিয়াল মাদ্রিদের আরেক ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।

ম্যাচের ৭৩ মিনিটে রাফিনহা জয়সূচক গোলটি করেন। গোলটি কিছুটা ভাগ্যের জোরেই আসে, শট নেওয়ার সময় তিনি পিছলে গেলেও বল রিয়াল ডিফেন্ডার রাউল আসেনসিওর গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে গোলরক্ষক থিবো কর্তোয়াকে পরাস্ত করে।

প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে নাটকীয়ভাবে তিনটি গোল হয়। এর মধ্যে রিয়াল মাদ্রিদ দুটি এবং বার্সেলোনা একটি গোল করে। বার্সেলোনার হয়ে রাফিনহা ছাড়াও রবার্ট লেভানডোভস্কি গোল করেন। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে গোল দুটি করেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এবং গনজালো গার্সিয়া।

হাঁটুর চোটের কারণে সেমিফাইনাল মিস করা কিলিয়ান এমবাপে ৭৬ মিনিটে মাঠে নামেন, তবে তিনি সমতা ফেরাতে পারেননি। ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে বার্সেলোনা মিডফিল্ডার ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। ২০২৫ সালের স্প্যানিশ সুপার কাপ ফাইনালেও বার্সেলোনা রিয়ালকে পরাজিত করেছিল। ২০১১ সালের পর প্রথম দল হিসেবে সুপার কাপ ধরে রাখল কাতালান জায়ান্টরা।

শুরুটা ছিল শান্ত, সৌদি আরবের গরম আবহাওয়ার মতোই ধীরগতির। প্রথম ১৫ মিনিটে ঝুঁকি কম, ছন্দ খোঁজার চেষ্টা দুই দলের। এরপরই আগুন ধরান ভিনিসিয়ুস—গতি আর শক্তির মিশেলে বার্সার রক্ষণ ভেঙে প্রথম বড় হুমকি তৈরি করেন তিনি। যদিও গোলকিপার জোয়ান গার্সিয়া তখন সামলে দেন।

বার্সেলোনা বল দখলে আধিপত্য দেখালেও আক্রমণে ছিল কিছুটা ধীরতা। লামিন ইয়ামালের লং-রেঞ্জ হুমকি রিয়ালের রক্ষণ ঠেকিয়ে দেয়। প্রথমার্ধের শেষদিকে ম্যাচে গতি বাড়ে। এক দারুণ আক্রমণে ইয়ামালের ক্রস থেকে সহজ সুযোগ নষ্ট করেন রাফিনিয়া, কিন্তু পরক্ষণেই রদ্রিগোর ভুলে পাওয়া রিবাউন্ড থেকে নিখুঁত শটে বার্সাকে এগিয়ে দেন এই ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার।

চাপের মাঝেই রিয়াল জবাব দেয়। ভিনিসিয়ুস একক নৈপুণ্যে অসাধারণ এক গোল করে সমতা ফেরান—ড্রিবল, ফিনিশিং—সবই ছিল শিল্পের মতো। তবে থেমে থাকেনি নাটক। রবার্ট লেভানডভস্কি বক্সে উপস্থিত থেকে পেদ্রির পাসে আবার বার্সাকে এগিয়ে দেন। বিরতির আগেই গনজালো পোস্টে লেগে আসা বল থেকে গোল করে রিয়ালকে ফের ম্যাচে ফেরান।

দ্বিতীয়ার্ধে ক্লাসিকো তার চেনা রূপ নেয়—তীব্র গতি, দ্বন্দ্ব, উত্তেজনা। ভিনিসিয়ুস বারবার পরীক্ষা নেন জোয়ান গার্সিয়ার, রদ্রিগোও সুযোগ খোঁজেন। মাঝেমধ্যে ধাক্কাধাক্কি আর বাকবিতণ্ডা যোগ করে বাড়তি নাটক।

শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত আসে রাফিনিয়ার পা থেকে। বক্সের কিনারায় পিছলে পড়েও নেওয়া তার শট ডিফ্লেকশনে দিক বদলে যায়; পুরোপুরি ভুল পায়ে পড়ে যান থিবো কোর্তোয়া। তৃতীয়বারের মতো এগিয়ে যায় বার্সা—এবার আর ফেরার পথ পায়নি রিয়াল।

শেষ মুহূর্তে সমতার সুযোগ এসেছিল, কিন্তু জোয়ান গার্সিয়া সঠিক জায়গায় দাঁড়িয়ে বার্সার শিরোপা নিশ্চিত করেন। নাটকীয়, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এক ক্লাসিকোর শেষে ট্রফি ওঠে বার্সেলোনার হাতে—রাফিনহার ভাগ্যছোঁয়া গোল আর ভিনিসিয়ুসের ঝলক—দুটোই ম্যাচটিকে স্মরণীয় করে রাখল।

ad

পাঠকের মতামত