359745

করোনা নিয়ন্ত্রণে সারাদেশে ১৪ দিনের ‘শাটডাউনের’ সুপারিশ

নিউজ ডেস্ক।। দেশে কয়েকটি জেলায় লকডাউন দেওয়া হলেও সংক্রমণ পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আবারো সারাদেশে ১৪ দিনের ‘শাটডাউন’ দেওয়ার সুপারিশ করেছে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি।

বৃহস্পতিবার কোভিড কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মােহাম্মদ সহিদুল্লাহ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া ও জনগণের জীবনের ক্ষতি প্রতিরোধ করার জন্য কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে সারা দেশে কমপক্ষে ১৪ দিন সম্পূর্ণ ‘ ‘শাটডাউনের’ দেওয়ার সুপারিশ করছে। জরুরি সেবা ছাড়া যানবাহন, অফিস-আদালতসহ সবকিছু বন্ধ রাখা প্রয়েজন। এ ব্যবস্থা কঠোরভাবে পালন করতে না পারলে আমাদের যত প্রস্তুতিই থাকুক না কেন স্বাস্থ্য ব্যবস্থা অপ্রতুল হয়ে পড়বে।

অন্যান্য দেশ, বিশেষত পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের অভিজ্ঞতা কঠোর ব্যবস্থা ছাড়া এর বিস্তৃতি প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। ভারতের শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞের সঙ্গেও আলােচনা করা হয়েছে। তাদের মতামত অনুযায়ী, যে সব স্থানে পূর্ণ ‘Shutdown’ প্রয়ােগ করা হয়েছে সেখানে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ হয়েছে।

এদিকে সম্প্রতি প্রকাশিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, খুলনা বিভাগের দশটি জেলার সব কটিই সংক্রমণের অতি উচ্চ ঝুঁকিতে আছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৮১ জনের মধ্যে ২৩ জন খুলনা বিভাগের ও ২০ রাজশাহী বিভাগের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ি খুলনা বিভাগের ৬ জেলায় দ্রুত রোগী সংখ্যা বাড়ছে। এরমধ্যে যশোরে শনাক্তের হার, ৫৩.৩৫, চুয়াডাঙ্গা ৪৬.৩৫, কুষ্টিয়া ৩০.৭৫, ঝিনাইদহ ৫১, নড়াইল ৪৩.৩৩, মেহেরপুরে ৫১.৬৪। এছাড়া উচ্চ ঝুকিতে থাকা নাটোর ৩০.৩২, নওগাঁ ২৮.০৪, ফরিদপুর জেলার শনাক্তের হার ৪৩.২৬, গোপালগঞ্জ ৫০, মাদারীপুরে ৫৫.৩৫ ও পিরোজপুর ৬১.৯০ শতাংশ। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থ্যার তথ্য বলছে, ৬৪টি জেলার মধ্যে ৪০টিই সংক্রমণের অতি উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।

খুলনা প্রতিনিধি জানান, চুয়াডাঙ্গায় ৪১ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৪১ জনই পজিটিভ বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তবে সিভিল সার্জন এ এস এম মারুফ হাসানের দাবি, পদ্ধতিগত জটিলতার কারণে ভুল তথ্য পরিবেশিত হয়েছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৯২ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৮৯ জন করোনা পজিটিভ হয়েছেন। খুলনার সরকারি ও বেসরকারি তিনটি হাসপাতালে একদিনে ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে।

রাজশাহীর প্রতিনিধি জানান, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত এটিই একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। নতুন ভর্তি হয়েছেন ৫৪ জন। ৩০৯টি শয্যার বিপরীতে রোগী ভর্তি ছিলেন ৪০৪ জন।

 

ad

পাঠকের মতামত