358955

ছয় মাস পর লাশ উদ্ধার, চার বছর পর গ্রেপ্তার আসামি

নিউজ ডেস্ক।। রাজধানীর মিরপুরে চাঞ্চল্যকর আবুল কালাম হত্যাকাণ্ডের অন্যতম আসামি শ্রী সুমন কুমার ওরফে সুমনকে (২৭) গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর)। পিবিআই ঢাকা মেট্রোর বিশেষ পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম আজ সোমবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, গত ১ জুন সুমনকে রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে সুমনকে আজ সোমবার আদালতে নেওয়া হয়। পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, আবুল কালামকে হত্যার ছয় মাস পর মাটি খুঁড়ে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনার ৪ বছর পরে হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যতম আরেক আসামি আকবরকে গত ২৮ মে পিবিআই ঢাকা মেট্রোর (উত্তর) তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মো. মাহমুদুর রহমানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম রাজধানীর রূপনগর থানার দুয়ারীপাড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ সুপার জানান, রূপনগর থানার দুয়ারীপাড়া এলাকার গ্রিল ওয়ার্কসপ কর্মচারী আবুল কালাম (২৩) ২০১৭ সালের ১৩ এপ্রিল নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় অপহরণ ও খুনের অভিযোগে নিহতের ভাই রূপনগর থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে ডিবি পুলিশ এই মামলার এজাহারভূক্ত আসামি মো. শামীম মৃধা এবং মো. স্বাধীন মীরকে গ্রেপ্তার করে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের পর হত্যাকাণ্ডের ৬ মাস পরে ২০১৭ সালের ২৭ অক্টোবর আসামি শামীমের ভাড়া বাসার মেঝের মাটি খুঁড়ে নিহত আবুল কালামের কঙ্কাল উদ্ধার করে পুলিশ।

পরবর্তীতে ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে আবুল কালামের মৃতদেহ শনাক্ত করা হয়। আসামি স্বাধীন মীর আদালতে আবুল কালাম হত্যাকাণ্ডে জড়ি থাকার কথা স্বীকার করেন। এ ছাড়া শামীম, আকবর ও সুমনের জড়িত থাকার কথাও জানান। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ডিবি পুলিশ আসামি আকবর ও সুমনের এর প্রকৃত নাম ঠিকানা শনাক্ত করতে না পেরে শামীম মৃধা ও স্বাধীন মীরের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। কিন্তু বাদীর না-রাজী আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি অধিক তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন।

আসামি আকবরকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের বরাতে পিবিআই জানায়, নিহত আবুল কালামের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আসামি শামীমের মনোমালিন্য হয়। শামীম ও তার বন্ধু স্বাধীন, আকবর ও সুমন ঘটনার দিন আবুল কালামকে কৌশলে বাসা থেকে অপহরণ করে রাজধানীর বোটানিক্যাল গার্ডেনের ভেতর ডোবার কাছে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন লাশ ঘাসের নিচে লুকিয়ে রাখেন।

পরে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার ভয়ে পরদিন রাতে আসামিরা লাশ তুলে বস্তায় ভরে আসামি শামীমের ভাড়া করা দুয়ারীপাড়ার বাসার মেঝেতে গর্ত করে পুঁতে রাখেন। পরবর্তীতে আসামি শামীম ও স্বাধীনের দেওয়া তথ্য মতে মেঝে খুঁড়ে আবুল কালামের কঙ্কাল উদ্ধার করে পুলিশ।

 

ad

পাঠকের মতামত