মিরাজের ঘূর্ণিতে বিপদে শ্রীলঙ্কা
খেলাধূলা ডেস্ক।। অ্যাসেন বানদারাকে নিজের চতুর্থ শিকারে পরিণত করলেন মিরাজ। মাত্র তিন রান করে মিরাজের বলে বন্ড হন তিনি। আর মিরাজের তৃতীয় শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা। ব্যক্তিগত ৯ রান করে ফিরে যান তিনি। এর আগে দারুণ এক ডেলিভারিতে কুশল পেরেরাকে বোল্ড করেন মিরাজ। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ৩০ ওভারে ৬ উইকেটে ১২৫ রান।
এর আগে মেহেদি হাসান মিরাজের হাত ধরে প্রথম উইকেট পায় বাংলাদেশ। অফ স্ট্যাম্পের বাইরের বল ফুল লেংথে খেলতে চেয়েছিলেন দানুশকা গুনাথিলাকা। ঠিক মতো কেলতে পারেননি বাঁহাতি এই ওপেনার। ফলে সহজ ক্যাচ নেন মিরাজ। ১৮ বলে ২১ রান করেন গুনাথিলাকা। মিরাজের পর শ্রীলঙ্কা শিবিরে আঘাত আনেন মুস্তাফিজুর রহমান। পাথুম নিসানকাকে আফিফ হোসেনের ক্যাচ বানিয়ে সাজঘরে ফেরান।
মিরাজ-মুস্তাফিজের পর বাংলাদেশকে স্বস্তি এনে দিলেন সাকিব আল হাসান। তার ঘূর্ণিতে পরাস্ত হয়েছেন কুশল মেন্ডিস। ড্রাইভ করতে চেয়েছিলেন মেন্ডিস। একটু ঝুলিয়ে দেওয়া বলে ঠিক মতো শট খেলতে পারেননি তিনি। পয়েন্টে ঝাঁপিয়ে ক্যাচ মুঠোয় নেন আফিফ হোসেন। এর মধ্যদিয়ে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করলেন সাকিব। প্রতিযোগিতা মূলক ক্রিকেটে ৯৯৯ উইকেট নিয়ে এই ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন সাকিব। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তার উইকেট ৩৬২টি। টি-টোয়েন্টিতে ৩১০ এবং লিস্ট ‘এ’ক্রিকেটে তার ৩২৮ উইকেট।
এর আগে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ২৫৮ রানের টার্গেট দেয় বাংলাদেশ। দলের হয়ে তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ অর্ধশতকের দেখা পেয়েছেন।
রবিবার মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ ওয়ানডে ক্রিকেট দলের অধিনায়ক তামিম ইকবাল। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে দুশমন্থ চামিরার বলে প্রথম স্লিপে ধনাঞ্জয়া ডি সিলভার হাতে ক্যাচ দিয়ে শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন লিটন দাস। লিটনের বিদায়ের পর বাজে শটে আউট হন সাকিব আল হাসান। অফস্পিনার গুনাথিলাকার বল ডাউন দ্য উইকেটে এসে উড়াতে গিয়ে লং অনে ক্যাচ দেন ৩৪ বলে ১৫ রান করা সাকিব।
তবে শুরু থেকেই চালিয়ে খেলেন তামিম ইকবাল। তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের ৫০তম ফিফটি। তবে বেশিদূর এগোতে পারেননি তিনি। ধনাঞ্জয়া ডি সিলভার বলে এলবিডব্লিউর শিকার হওয়ার আগে ৭০ বলে ৫২ রান করেন তামিম। তার আউট হওয়ার পর মাঠে এসে প্রথম বলে শূন্য রানে আউট হন মোহাম্মদ মিথুন। মিথুনের বিদায়ের পর দলের হাল ধরেন ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’ খ্যাত মুশফিকুর রহিম। তুলে নেন ক্যারিয়ারের ৪৩তম অর্ধশতক। ৮৭ বলে ৮৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি।
এদিন ইসুরু উদানার বলে ওয়াইড লং অফ দিয়ে ডাবলস নিয়ে ক্যারিয়ারের ২৪তম হাফ সেঞ্চুরির দেখা পান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ৬৯ বলে ২টি চার ও ১টি ছয়ে অর্ধশতক হাঁকান তিনি। শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেটে ২৫৬ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। আফিফ হোসেন ২৭ ও সাইফুদ্দিন ১৩ রানে অপরাজিত ছিলেন।




