যে কারণে মিন্নি সা’ক্ষী থেকে ফাঁ’সির আ’সামি
বরগুনার বহুল আ’লোচিত শাহনেওয়াজ রিফাত শরীফ হ’ত্যা মা’ম’লায় মিন্নিসহ ছয় আ’সামির মৃ’ত্যুদ’ণ্ড ও প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অ’র্থদ’ণ্ড করা হয়েছে। এছাড়া চারজনকে বে’কসুর খা’লাস দিয়েছেন আদালত। বুধবার দুপুর পৌনে ২টায় এ মা’মলার রায় ঘোষণা করেন বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আ’দালতের বি’চারক মো. আছাদুজ্জামান।
এই মা’মলায় প্রধান সা’ক্ষী ছিলেন রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি। পরে তাকে সাত নম্বর আ’সামি করে ২৪ জনের বি’রু’দ্ধে বরগুনার জ্যেষ্ঠ বি’চারিক আ’দালতে চার্জশিট (অ’ভিযোগপত্র) দাখিল করে পুলিশ। মা’মলার প্রধান ও প্রত্যক্ষ সা’ক্ষী মিন্নিকে আ’সামি করার পেছনে যেসব কারণ রয়েছে, তার কিছুটা জানা গেছে পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার মাধ্যমে।
জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন ওই কর্মকর্তা জানান, মিন্নিকে রিফাত শরীফ হ’ত্যা মা’মলায় অ’ভিযুক্ত করার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। যার মধ্যে প্রথমত মিন্নি তার স্বামী রিফাত হ’ত্যার ঘট’নায় সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে আ’দালতে জ’বানব’ন্দি দিয়েছেন। তা ছাড়া মা’মলায় এ’জাহারভুক্ত দুই নম্বর আ’সামি রিফাত ফরাজী, তার ভাই তিন নম্বর আসা’মি রিশান ফরাজী, ছয় নম্বর আ’সামি রাব্বি আকন এবং ১২ নম্বর আ’সামি টিকটক হৃদয় আদালতে দেওয়া স্বী’কারো’ক্তি’মূলক জ’বানবন্দিতে মিন্নির সম্পৃ’ক্ততার কথা স্বী’কার করেছে।
তিনি আরও জানান, রিফাত হ’ত্যা’য় নয়ন ব’ন্ডের সঙ্গে পরিকল্পনায় ছিল মিন্নি। ২৬ জুন ঘ’টনার দু’দিন আগে রিফাত শরীফ হেলাল নামে তার এক বন্ধুর মোবাইল ফোন ছি’নিয়ে নেয়। হেলাল রিফাত শরীফের বন্ধু হলেও নয়ন ব’ন্ডের খুব ঘনিষ্ঠ। তাই ছিনিয়ে নেওয়া মোবাইল ফোন উ’দ্ধারের জন্য নয়ন ব’ন্ড দ্বা’রস্থ হয় মিন্নির। নয়ন ব’ন্ডের অনুরোধে হ’ত্যাকা’ণ্ডের দু’দিন আগে রাতে সেই ফোন রিফাত শরীফের কাছ থেকে উ’দ্ধার করে মিন্নি। কিন্তু এ ফোন উ’দ্ধার করতে গিয়ে রিফাত শরীফের মা’রধ’রের শি’কার হন মিন্নি। পরে হ’ত্যা’কা’ণ্ডের আগের দিন নয়নের সঙ্গে দেখা করে মিন্নি সেই ফোন তার হাতে তুলে দেন। এ সময় মিন্নি তার স্বামী রিফাত শরীফের হাতে যে মা’রধ’রের শি’কার হয়েছেন তার প্রতি’শোধ নিতে বলেন নয়নকে। এরপর ওইদিন বিকেলে বরগুনা কলেজ মাঠের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে নয়ন ব’ন্ড ও তার বা’হিনীর সঙ্গে রিফাত শরীফকে মা’রধরে’র বিষয়ে সভা করেন মিন্নি। তা ছাড়া রিফাত শরীফ হ’ত্যা’কা’ণ্ডের আগে এবং পরে নয়ন ব’ন্ডের সঙ্গে মিন্নির একাধিকবার মোবাইল ফোনে কথা হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তা জানান, হাম’লার আগ মু’হূর্তে রিফাত শরীফের সঙ্গে মিন্নি কলেজ থেকে বের হলেও পরি’কল্পনা অনুযায়ী কলেজের সামনে তাকে মা’রধ’রের কোনো প্রস্তুতি দেখতে না পেয়ে সময়ক্ষেপণ করেন। এর জন্য মিন্নি রিফাত শরীফের বা’ধা উপেক্ষা করে আবার কলেজে প্রবেশ করেন। এর কিছুক্ষণ পরই নয়ন ব’ন্ড বাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্য একত্র হয়ে রিফাত শরীফকে আ’টক করে মা’রধ’র করতে করতে কলেজের সামনের রাস্তা দিয়ে পূর্বদিকে নিয়ে যায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী রিফাতকে মা’রধ’র করা হচ্ছে দেখেই মিন্নি স্বাভাবিকভাবে হাঁ’টছিলেন। তবে পরিকল্পনার বাইরে গিয়ে নয়ন ব’ন্ড রিফাত শরীফকে মা’রধ’র শুরু করলে মিন্নি তখনই এগিয়ে আসেন।
গত বছরের ২৬ জুন হ’ত্যাকা’ণ্ডের পর রিফাত শরীফের বাবা আব্দুল হালিম দুলাল শরীফ মিন্নিকে প্রধান সা’ক্ষী করে বরগুনা থানায় হ’ত্যা মা’মলা করেন। এরপর ১৩ জুলাই রিফাত হ’ত্যাকা’ণ্ডে মিন্নি জ’ড়িত থাকার অ’ভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। পরদিন মিন্নিকে গ্রে’প্তারের দাবি জানিয়ে মানববন্ধন করা হয়। সূত্র: আমাদের সময়






