339303

২১ দিনের কন্যার মুখ দেখা হলো না বাবার

বিয়ে’র সাত বছর পরে বড় ভা’ইয়ের কন্যা সন্তান দেখ’তে ঢাকার উ’ত্তরা’র একটি হাস’পাতা’লে ছুটে যান তারেক হো’সেন কাউয়ুম (২৭)। মঙ্গল’বার মা’রা যায় সেই নব’জাতক। ভা’ইয়ে’র মে’য়ের লা’শ নি’য়ে প’রিবা’রের পাঁচজন ও তার শ্যা’ল’ক রও’য়ানা হন ঝাল’কা’ঠির উদ্দে’শ্যে। মৃ’ত্যু’শো’ক ‘বুকে চে’পেও নি’জের ২১ দিন আ’গে জ’ন্ম নেওয়া সন্তা’নের মুখ দেখার জন্য অপে’ক্ষা তারে’কের। কি’ন্তু প্রিয় সন্তানে’র মুখ দেখা হ’লো না তার।

বরিশা’লের উজি’রপুর উপজে’লার ”আটিপাড়া গ্রামে ঢাকা-বরি’শাল মহা”সড়কে বুধবার বিকালে বাস-অ্যা’ম্বু’লেন্স-কাভা’র্ডভ্যা’নের ত্রি’মুখি সংঘ’র্ষে তা’রেক’সহ মা’রা যান ছয়জ’ন। এক পরিবা’রে’র সবার’ মৃ’ত্যু’তে শো’কে’র মা’তম চলছে নি’হ’ত’দের গ্রা’মের বা’ড়ি সদর উপ’জে’লার বা’উকাঠি’তে।

নিহ’তে’র স্বজ’নদের সঙ্গে কথা বলে জা’না গেছে, স’ন্তান জ’ন্মের পাঁ’চদিন আ’গে তারেক ঢাকা যান চাক’রিতে যোগ’দা’নের জন্য। সন্তা’ন জন্মে’র পর স’রাসরি তার মুখ দে’খা হয়নি। মোবাই’লে ছবি দে’খেই খু’শি ছিলে’ন। প্রিয় সন্তা’নকে ছু’য়ে’ দেখা হ’লো না তার। স্বামী, ভাই’সহ পরি”বারের ৬ জন’কে হারি’য়ে নি’র্বা’ক তারে’কের স্ত্রী ঝি’লিমি’ল আক্তা’র মরিয়ম। কোলে ২১ দিন’ বয়সে’র স’ন্তান উম্মে ফা’তিমা’কে নিয়ে লা’শে’র পা’শে আ’হাজা’রি করছে’ন । কান্না যেন থাম’ছে না তার। সন্তা”নের মুখের দিকে তাকা’চ্ছে’ন, আর চোখ বেয়ে অ’শ্রু ঝর”ছে অ’ঝো’রে।

এদিকে ‘দু’র্ঘ’টনার খবর শুনে বু’ধবা’র স’ন্ধ্যার পর থেকেই নিহ’ত’দের বা’ড়িতে ‘ভি’ড় করেন স্থা’নীয়’রা। বিভিন্ন স্থান থেকে আ’ত্মীয় স্ব”জনরাও আসে’ন নি’হ’তের প’রিবারের লোক’জন’কে সা’স্ত্বনা দিতে। তাদের কান্না’য় বা’তাস ভারি হয়ে যায়। ভোর ৪টায় অ্যাম্বু’লেন্সযো’গে লা’শ নি’য়ে ঝাল’কাঠির’ বাউ’কাঠি’ গ্রা’মের বাড়ি’তে এলে হৃ’দয়বি’দারক ঘটনা ঘটে। স্বজ’নহা’রাদের আহা’জারি দেখে প্রতি’বেশীরা’ও চোখে পা’নি ধ”রে রাখতে পারেননি। এমন ম’র্মা’ন্তিক মৃ’ত্যু’কে কি’ছুতেই মেনে নিতে পার’ছেন না প্রতি’বে’শীরাও। নি’হ’তের স্ব’জ’নদের সা’ন্ত্ব’না দিতে এসে কান্না’য় ভেঙে পড়’ছেন তারাও। তাদের নানা স্মৃতি নিয়েও কর’ছেন আ’লোচ’না।

নি’হ’তরা হ’লেন, বাউকা’ঠি গ্রা’মে’র তারেক হো’সেন কা’উয়ুম (২৭), তার বড় ভাই আ’রিফ হোসেন (৩৫), মা ক’হিনুর বে’গম (৬৫) ছোট বোন শি’উলী বেগম (৩০) ও ভাই’য়ের শ্যা’লক ন’জরুল ইসলাম (২৮)।

অ্যা’ম্বু’লেন্সে ছিল আ’রিফের মৃ’ত চার দিন বয়সে’র কন্যা স’ন্তান। বা’উকা’ঠি গ্রামের সিরাজুল ইসলা’মের ছেলে তা’রেক ও আরি’ফ ঢাকা উ’ইন’ডে ওয়াশিং কো’ম্পা’নিতে চাকরি ক’রতেন। তাদের বোন শি’উলী বে’গম ঢাকা সিএম’এই’চয়ের না’র্স ছিলেন। তারা ঢাকাতেই থাকতেন। আরি’ফের স্ত্রী তা’মান্না আক্তা’র তিন্নি (২৭) সন্তা”ন প্র’স’বের পর হা’সপাতা’লে চিকিৎসা’ধীন রয়ে’ছেন। নি’হ’ত’র আ’ত্মা’র শা’ন্তি কা’ম’নায় সকা’ল থে’কে বা”ড়ির পা’শের একটি এ’তিম’খানায় চল’ছে কো’র’আন খত’ম।

এদিকে বৃহস্প’তিবা’র সকাল ১০ টায় বাড়ি’র পা’শের মা’দ্রাসা মা”ঠে নি’হত’দের মধ্যে ৫ জ’নের জানা’জা নামাজ অ’নুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মা’নুষ। পরে পারি’বা’রিক কবর স্থানে তা’দের লা’শ দা’ফ’ন করা হয়। নি’হ’ত’দের মধ্যে শি’উলী আ’ক্তা’রের লা’শ’ ঢা’কা সিএ’মএইচে পাঠা’নো হ’য়েছে। সে’খানে ময়’না’তদ’ন্ত শে’ষে সে’নাবা’হিনীর তত্ত্বা’বধা’য়নে গ্রামে’র বাড়ি’তে লা’শ’ দা’ফ’ন করা হ’বে।

ad

পাঠকের মতামত