339156

মেসিকে ক্ষেপিয়ে বিপদে বার্তোমেউ

লিওনেল মেসি বার্সেলোনায় থাকছেন, তবে যে আগুন তিনি জ্বালিয়ে দিয়েছেন সেটি কি এতো তাড়াতাড়ি নিভছে? ক্ষুদে জাদুকরের এক ঘোষণায় পুরো ফুটবল দুনিয়া টলে উঠেছে। সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা খেতে যাচ্ছেন বোধহয় বার্সা সভাপতি হোসে মারিয়া বার্তোমেউ। এই ঘটনায় নিজের ইমেজ নিয়েই সংকটে পড়ে গেছেন তিনি। এরইমধ্যে তার বিরুদ্ধে সমর্থকদের মনে ক্ষোভের পাহাড় জমেছে। শুরু হয়েছে একের পর এক অভিযোগও। আগামী কয়েক মাসে নিঃসন্দেহে বড়সড় ধাক্কা খেতে যাচ্ছেন বার্তোমেউ এবং তার নেতৃত্বাধীন বর্তমান কমিটি। আগামী মার্চের নির্বাচনেই হয়তো দেখা যাবে ক্লাবের সর্বকালের সেরা ফুটবলারের সঙ্গে ঝামেলায় জড়ানোর প্রভাব। নির্বাচনের আগে কি কি সমস্যায় পড়তে পারেন বার্তোমেউ সেদিকে নজর দেয়া যাক।

লিওনেল মেসি: বার্তোমেউয়ের প্রধান সমস্যা এখন ক্লাবের সর্বকালের সেরা ফুটবলার। বলা চলে, মেসিকে তিনি উগরে দিতেও পারছেন না আবার গিলতেও পারছেন না। আর্জেন্টাইন মহাতারকার সঙ্গে তার সম্পর্ক যে কতোটা ঝাঁঝালো, সাক্ষাৎকারে সরাসরিই জানিয়েছেন মেসি। ক্লাব অধিনায়ক, সর্বকালের সেরা ফুটবলার এসব মিলিয়ে সমর্থকদের ভোটটা পাবেন মেসিই। কাজেই এই লড়াইয়ে বার্তোমেউয়ের জেতা অসম্ভবই মনে হচ্ছে আপাতত দৃষ্টিতে।

স্কোয়াডের অন্য সদস্যরা: কেবল ক্লাব অধিনায়কই নন, বার্তোমেউয়ের ওপর ক্ষ্যাপা বর্তমান স্কোয়াডের অনেক ফুটবলারই। বিশেষ করে সুয়ারেজ, ভিদালের মতো অভিজ্ঞরা। বিশেষ করে ক্লাবের অভ্যন্তরীণ বিষয় বাইরে ফাঁস হওয়ার জন্য ফুটবলাররা দায়ী করে থাকেন বার্তোমেউকেই।

নির্বাচন এবং আত্মবিশ্বাসে ঘাটতি: মার্চেই নির্বাচন। এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে ব্যাকফুটে আছেন সভাপতি নিজেই। পরিস্থিতি সামলাতে তাকে হিমশিম খেতে হয়েছে। এ অবস্থায় আগামী নির্বাচনে ভোট আদায়ে তিনি কতটুকু সক্ষম হবেন? বিশেষ করে তার নেতৃত্ব নিয়ে যেখানে সরাসরিই প্রশ্ন তুলেছেন মেসি সহ অনেকেই।

বর্তমান কমিটি: নিজের কমিটির ওপরই আস্থা রাখতে পারছেন না বার্তোমেউ। অনেকেই ক্ষুব্ধ তার ওপর। এ অবস্থায়ও উল্টো তাদেরকেই সমর্থন দিয়ে যেতে হচ্ছে বার্তোমেউকে।

আর্থিক সংকট: করোনাভাইরাসের প্রভাব পড়েছে সব ক্লাবের ওপরই। শনির দশা লেগেছে বার্সার অর্থনীতিতেও। গেল মৌসুমেই অন্তত ১৫৪ মিলিয়ন ইউরো হারিয়েছে কাতালানরা। এই মৌসুমেও তার প্রভাব পড়বে নিশ্চিতভাবেই। ক্লাবের খরচাপাতির পাশাপাশি সবার বেতনকাঠামোর ব্যালেন্স করাও কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এ অবস্থায় বর্তমান কমিটি কতোটা পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে সেটাও দেখার বিষয়।

বার্কাগেট কেলেঙ্কারি: বার্কাগেট কেলেঙ্কারিতে বর্তমান কমিটির সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে দেশটির পুলিশ। পুলিশ রিপোর্ট অনুযায়ী, অনুমোদন ছাড়াই ব্যক্তিস্বার্থে একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সঙ্গে চুক্তি করেন ক্লাবের কয়েকজন কর্মকর্তা, যারা ভুয়া আইডি বানিয়ে অপপ্রচার চালাতো সাবেক এবং বর্তমান তারকাদের নামে। এই ঘটনায় চলতি বছরই একসঙ্গে বার্সার ৬জন কর্মকর্তা পদত্যাগও করেন। ঘটনা ধামাচাপা পড়েনি এখনো। আগামী নির্বাচনে এই কেলেঙ্কারির ঘটনাও বড় প্রভাবক হয়ে উঠতে পারে।

ad

পাঠকের মতামত