338912

খাশোগি হ’ত্যা মা’মলার রায় ঘোষণা

সৌদি আরবের নির্বাসিত সাংবাদিক জামাল খাশোগি হ’ত্যায় জ’ড়িতদের ৭ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত কা’রাদ’ণ্ড দিয়েছেন দেশটির পাবলিক প্রসিকিউশন সার্ভিস। ভিন্নমতাবলম্বী সাংবাদিক জামাল খাশোগি হ’ত্যার দায়ে আটজনকে এ দণ্ড দেয়া হয়। এরমধ্যে দিয়ে পূর্বে ৫ জনকে দেয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল হয়ে গেলো।

পাবলিক প্রসিকিউশন সার্ভিসের বরাতে সৌদি প্রেস এজেন্সি জানায়, হ’ত্যার দায়ে ৫ জনকে ২০ বছর এবং বাকি তিন জনকে সাত থেকে ১০ পর্যন্ত কা’রাদ’ণ্ড দেয়া হয়েছে। দ’ণ্ডপ্রাপ্তদের পরিচয় জানা যায়নি।

গেলো মে মাসে খাশোগির ছেলে বলেছিলেন, হ’ত্যা’কারীদের তারা ক্ষমা করে দিয়েছেন। তার অর্থ হলো খাশোগির পরিবার মৃ’ত্যুদ’ণ্ড চায় না। চূড়ান্ত রায়ে তাই মৃ’ত্যুদ’ণ্ড পাওয়া ৫ জনকে কা’রাদণ্ড’ দেয়া হয়।

২০১৮ সালের ২ অক্টোবরে ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে গিয়ে নিখোঁজ হন খাশোগি। পরে তুর্কি কর্তৃপক্ষ তথ্য প্রমাণসহ জানায়, কনস্যুলেটে সৌদি আরবের ভাড়া করা একদল খু’নির হাতে নি’র্মম হ’ত্যার শিকার হন তিনি।

হ’ত্যার পর তার ম’রদে’হ টু’করো টু’করো করা হয়। ঝ’লসিয়ে দেয়া হয় এসিড দিয়ে। ২ বছর হতে চললেও এখনো তার মর’দে’হের হদিস মেলেনি। ওয়াশিংটন ডিসির আরব সেন্টার থেকে খালিল জাহশান জানান, এটিই চূড়ান্ত রায়। হ’ত্যা মা’মলার রায় পূনর্বিবেচনার কোনো সুযোগ নেই।

আল জাজিরাকে খাশোগির পারিবারিক বন্ধু জাহশান বলেন, এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো জামাল খাশোগির ম’রদে’হ কোথায়? আমি চাই তার ম’রদে’হের সঙ্গে কী হয়েছে তাও উদঘাটন করা হোক।

পুরো রায় আমার কাছে কারচু’পি মনে হচ্ছে। সৌদি আরবের বিচার কার্যক্রম অনুযায়ী ক্ষ’তিগ্রস্ত পরিবার চাইলে সাজা কমানো বা অর্থের বিনিময়ে সাজা মওকুফ করতে পারে। খাশোগির পরিবার এমন একটি ঘোষণাও দিয়েছিল। পুরো বিষয়টি তাদের উপর চাপ দিয়ে করা হয়েছে- এতো সন্দেহের অবকাশ নেই। খাশোগির পরিবার স্বেচ্ছায়, জ্ঞাতসারে ওই ঘোষণা দেয়নি বলে আমার মনে হয়। বলেন খাশোগির পারিবারিক বন্ধু। ৫৯ বছর বয়সী ওয়াশিংটন পোস্টের কলামিস্ট খাশোগি সৌদি সরকারের কট্টর সমালোচক ছিলেন।

বেশ কয়েকটি পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থা তাদের প্রতিবেদনে দাবি করে হত্যার মিশন সম্পর্কে আগে থেকে জানতেন সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। তার নির্দেশে হ’ত্যা করা হয়েছে বলেও খবর প্রকাশ হয়। চূড়ান্ত রায়ের পরও খাশোগি হ’ত্যায় ক্রাউন প্রিন্সের জড়িত থাকার অভিযোগের বিষয়টি মীমাংসা না হওয়ায় রায় নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

খাশোগি হ’ত্যার শুরু থেকে এতে জড়িত থাকার কথা অব্যাহতভাবে অস্বীকার করে সৌদি আরব। কয়েক সপ্তাহ পর আন্তর্জাতিক চাপে যখন স্বীকারে বাধ্য হয় তখন হ’ত্যাকা’ণ্ডকে দু’র্বৃত্তের কর্মকাণ্ড বলে অভিহিত করে।

২০১৯ সালের জুনে জাতিসংঘের বিশেষদূত অ্যাগনেস ক্যালামার্ড তার প্রতিবেদনে হ’ত্যাকা’ণ্ডে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানসহ দেশটির কর্মকর্তারা জড়িত থাকার অকাট্য প্রমাণ পেয়েছেন বলে দাবি করেন। খাশোগি হ’ত্যার জন্য সৌদি কর্মকর্তাদের দায়ী করেন ইস্তাম্বুল প্রসিকিউটরও।

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী খাশোগি হত্যাকাণ্ড বিশ্বব্যাপী সৌদিবিরোধী ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে হু’মকিতে পড়ে ক্রাউন প্রিন্সের ভাবমূর্তি।

জামাল খাশোগি ছিলেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ এরদোয়ানের পরিচিত। হ’ত্যাকা’ণ্ড ঘটে তুরস্কে। সবমিলিয়ে তখন তুর্কি-সৌদি সম্পর্ক ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মার্চে তুর্কি প্রসিকিউটর জানান, মোহাম্মদ বিন সালমানের সাবেক দুই জ্যেষ্ঠ সহকারীসহ সৌদি আরবের ২০ নাগরিক খাশোগি হ’ত্যায় জড়িত।

রায়ে, সৌদির সাবেক গোয়েন্দা উপপ্রধান আহমেদ আল আসরিকে হ’ত্যার পরিকল্পনা এবং ভা’ড়াটে খু’নির দল জোগাড়ের জন্য অভিযুক্ত করা হয়। খু’নির দলকে নেতৃত্ব দেয়া, হ’ত্যার জন্য প্ররোচিত করা এবং নির্দেশ দেয়ার জন্য সৌদি আরবের রয়েল কোর্ট এবং মিডিয়া অ্যাডভাইজার সৌদ আল খাহতানিকে দায়ী করা হয়। সৌদি মিলিটারি এবং গোয়েন্দা বিভাগের এক কর্মকর্তাকে হা’মলায় অংশ নেয়ার জন্য দায়ী করে তুর্কি প্রসিকিউশন।

ad

পাঠকের মতামত