বাবার কষ্ট কমাতে আল্লাহর কাছে আকবরের মেয়ের আকুতি
‘তোমার হাত পাখার বাতাসে’ খ্যাত কণ্ঠশিল্পী আকবর বেশকিছুদিন থেকে অসুস্থ হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তবে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। অসুস্থ বাবাকে বাঁচাতে শিল্পীর চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে আল্লাহর কাছে আকুতি জানিয়েছে। এ নিয়ে সে ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছে।
আকবরের মেয়ে অথৈ ফেসবুকে লিখেছে, ‘আমার আব্বুর অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। চিকিৎসক বলেছে যেকোনো সময় যা কিছু হয়ে যেতে পারে। সবাই আমার অব্বুর জন্য দোয়া করবেন। যেন আব্বু তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে পারেন। আব্বু খুব কষ্ট পাচ্ছেন। আল্লাহ তুমি আমার আব্বুর কষ্ট একটু কমিয়ে দাও। আব্বুকে তাড়াতাড়ি সুস্থ করে দাও। আমিন।’
উপমহাদেশের প্রখ্যাত গায়ক কিশোর কুমারের গাওয়া ‘একদিন পাখি উড়ে’ নতুন করে গেয়েছিলেন আকবর আলী। হানিফ সংকেতের ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’তে এই গান তাকে আলোচনায় নিয়ে আসে। পরবর্তীতে তার গাওয়া ‘তোমার হাতপাখার বাতাসে’ গানটি দেশ-বিদেশের দর্শক-শ্রোতার কাছে তাকে ব্যাপক পরিচিতি পাইয়ে দেয়।
আকবরের পুরো নাম আকবর আলী গাজী। তিনি শ্রোতাদের মাঝে পরিচিত আকবর নামেই। খুলনার পাইকগাছায় জন্ম হলেও আকবরের বেড়ে ওঠা যশোরে। গান শেখা হয়নি। তবে আকবরের ভরাট কণ্ঠের কদর ছিল যশোর শহরে। ২০০৩ সালে যশোর এম এম কলেজের একটি অনুষ্ঠানে গান গেয়েছিলেন আকবর। বাগেরহাটের এক ব্যক্তি আকবরের গান শুনে মুগ্ধ হন। তিনি জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’তে চিঠি লেখেন আকবরকে নিয়ে। এরপর ‘ইত্যাদি’ কর্তৃপক্ষ আকবরের সঙ্গে যোগাযোগ করে। ওই বছর ‘ইত্যাদি’ অনুষ্ঠানে কিশোর কুমারের ‘একদিন পাখি উড়ে’ গানটি গেয়ে রাতারাতি পরিচিতি পেয়ে যান আকবর। গায়ক হিসেবে পরিচয় পাওয়ার আগে তিনি যশোরে রিকশা চালাতেন।
বর্তমানে আকবর রাজধানীর মিরপুর ১৩ নম্বরে থাকেন। তার বড় মেয়ে আছিয়া আকবর অথৈ হারমান মেইনার স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। ছেলে কামরুল ইসলাম ও মহরম থাকে গ্রামের বাড়ি যশোরে।
প্রসঙ্গত, গত বছর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আকবরকে চিকিৎসার জন্য ২০ লাখ টাকা (সঞ্চয়পত্র) অনুদান দেন। আপাতত সেই অনুদানের টাকায় তার চিকিৎসা করানো হচ্ছে বলে জানান তার স্ত্রী কানিজ ফাতেমা।




