335299

তিন কিশোরকে পি’টিয়ে হ’ত্যা, ৫ কর্মকর্তা গ্রে’প্তার

ডেস্ক রিপোর্ট।। যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে তিন কিশোরকে পি’টিয়ে হ’ত্যা মা’মলায় সংস্থাটির বরখাস্ত হওয়া সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল মাসুদসহ পাঁচ কর্মকর্তাকে গ্রে’প্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার রাতে তাদের গ্রে’প্তার করা হয়।

আবদুল্লাহ আল মাসুদ ছাড়াও গ্রে’প্তারকৃত অন্যরা হচ্ছেন- সহকারী তত্ত্বাবধায়ক মাসুম বিল্লাহ, সাইকো-সোশ্যাল কাউন্সিলর (প্রবেশন অফিসার) মুশফিকুর রহমান, শরীর চর্চা শিক্ষক ওমর ফারুক ও কারিগরী শিক্ষক শাহানুর আলম।

যশোরের পুলিশ সুপার মো. আশরাফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আজ শনিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, তিন কিশোরকে পি’টিয়ে হ’ত্যার মা’মলায় কয়েকজনকে হেফাজতে নিয়ে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের পর ওই পাঁচজনকে গ্রে’প্তার করা হয়।

গতকাল শুক্রবার রাতে নি’হত কিশোর পারভেজ হাসানের বাবা রোকা মিয়া যশোর কোতয়ালি থানায় একটি হ’ত্যা মা’মলা দায়ের করেন। মা’মলায় তিনি যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের অজ্ঞাত কর্মকর্তাদের অ’ভিযুক্ত করেন। রোকা মিয়ার মা’মলায় ওই পাঁচ কর্মকর্তাকে গ্রে’প্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মা’মলাটির তদ’ন্তকারী কর্মকর্তা, যশোরের চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ পরিদর্শক রোকিবুজ্জামান।

যশোর গো’য়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোমেন দাশ বলেন, তারা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী হওয়ায় খুবই স’তর্কতার সঙ্গে তাদের জি’জ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

জি’জ্ঞাসাবাদে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওই তিন কিশোরকে খুবই নির্মমভাবে পে’টানো হয়। গত বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা থেকে তাদেরকে পে’টানো শুরু হয়। একেকজনকে পি’টিয়ে ‘আ’হত করে সহকারী পরিচালকের কক্ষে ফেলে রাখা হয়।

সূত্র জানায়, এর আগে যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের প্রধান নি’রাপত্তা কর্মী কেন্দ্রে বন্দী এক কিশোরকে তার চুল কেটে দিতে বলেন। ওই কিশোর রাজি না হওয়ায় তাকে গা’লিগালা’জ করেন নি’রাপত্তা কর্মী। এ ঘটনায় বন্দী কিশোরের ওই নি’রাপত্তা কর্মীর বিরু’দ্ধে মা’ম’লাও করে। এরপর গত ৩ জুলাই বন্দী কয়েকজন কিশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের প্রধান নি’রাপ’ত্তা কর্মীর ওপর হা’মলা করে তার একটি হাত ভে’ঙে দেয়।

এ হামলার এ ঘটনায় দায়ী ১৮ জনকে সিসি ক্যামেরার ভিডিওচিত্র থেকে শ’নাক্ত করে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ। গত বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে ওই ১৮ জনকে সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল মাসুদের কক্ষে ডেকে নেওয়া হয়। সেখান থেকে একেকজন করে ডেকে অপর একটি কক্ষে নিয়ে নির্দয়ভাবে পে’টানো হয়। কক্ষের জানালার গ্রিল দিয়ে হাত-পা বের করিয়ে বাইরে থেকে টেনে ধরে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে পে’টানো হয়। এ ক্ষেত্রে অ’ভিযুক্তরা কয়েকজন বন্দী কিশোরের সহায়তা নেন।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত যশোর জেনারেল হাসপাতালে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে তিনটি ম’র’দেহ নেওয়া হয়। এরপর বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত আ’হত ১৪ কিশোরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গতকাল শুক্রবার সকালে আ’হত আরেকজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ওই কর্মকর্তা এসব কিশোরকে পি”টিয়ে কেন্দ্রের অভ্যন্তরে চিকিৎসা দেবেন বলে চিন্তা করেছিলেন। কিন্তু কিশোরদের মৃ’ত্যু হলে তারা বিষয়টি আর চেপে রাখতে পারেননি। এ সময় তারা কিশোরদের দুই পক্ষের সং’ঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রচার করেন। পুলিশকেও তারা প্রথমে এ কথা জানান।

তবে জেলা প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে বৃহস্পতিবার শেষ রাত পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করে বুঝতে পারেন শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের কর্মকর্তারা তাদেরকে মি’থ্যা বলছেন। পরে ওই রাতেই ১০ জনকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জি’জ্ঞাসাবাদ করা হয়। জি’জ্ঞাসাবাদ শেষে এ পাঁচ কর্মকর্তাকে গ্রে’প্তার দেখানো হয়।

যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে হতাহতের ঘটনায় সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল মাসুদকে সাময়িক ব’রখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের একটি ত’দন্ত কমিটি গঠন করেছে।

ad

পাঠকের মতামত