333191

নরসিংদীর রায়পুরায় বিয়ের আট মাসের মাথায় যৌতুকের বলি গৃহবধূ

নিউজ ডেস্ক।। নরসিংদীর রায়পুরায় বিয়ের আট মাসের মাথায় হাবিবা আক্তার (১৯) নামে এক গৃহবধূ যৌতুকের বলি হয়েছেন বলে অ’ভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঘটনার পর থেকেই ঘা’তক স্বামী মো. সাকিব মিয়া প’লাতক রয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩টায় উপজেলা আমিরগঞ্জ পূর্বপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। নি’হত হাবিবা একই ইউনিয়নের করিমগঞ্জ নয়াহাটির ব্যবসায়ী মো. জাকির হোসেনের মেয়ে।

খবর পেয়ে সন্ধ্যায় আমিরগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই রিয়াজ উদ্দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে ‘নি’হতের লা’শ সুরতহাল শেষে ময়না তদ’ন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল ম’র্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

পারিবারিক সূত্র জানায়, হাবিবা হাসনাবাদ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় সাকিবের সঙ্গে প্রেমে জ’ড়িয়ে পড়েন। গত আট মাস আগে পরিবারে অমতে দুজন বিয়ে করেন। হাবিবার বাবা বাদে দুই পরিবারে সবাই তাদের বিয়ে মেনে নেয়। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে স্বামী তার ওপর অ’মানবিক নির্যা’তন চালায়। পরে মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে হাবিবার পরিবার সাকিবকে আট লাখ টাকা দেয়। সেই টাকায় একটি ট্রলি কিনেন সাবিক।

তিন দিন আগে আবারও যৌতুকের দাবিতে স্বামী তাকে মেরে বাবার বাড়ি পাঠায়। সেখানে দুদিন থাকার পর গতরাতে হাবিবার মা ও এক বোন তাকে বুঝিয়ে-শুনিয়ে শ্বশুরবাড়ি পাঠায়। আজ বিকালে ছেলের বাড়ির লোকজন মেয়ের পরিবারকে জানায় হাবিবা আ’ত্মহ”ত্যা করেছে। খবর পেয়ে হাবিবার মা-বাবা, ভাই-বোন ও আত্মীয়-স্বজনরা এসে দেখতে পান শোবার ঘরের চৌকির ওপর তার নিথর দেহটি রাখা আছে।

হাবিবার বড় বোন ফারজানা জানায়, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য সাকিব প্রায়ই হাবিবার ওপর অমানবিক নি’র্যাত’ন চালাত। তিন দিন আগেও নি’র্যা’তন করা হয়েছে। পরে বাপের বাড়ির চলে আসেন হাবিবা। গতকাল রাতে হাবিবা তার শ্বশুরবাড়ি চলে আসেন। এরপর স্বামী তাকে অ’মান’বিক নি’র্যা’তন চালিয়ে হ’ত্যা করেন।

আমিরগঞ্জ পুলিশ ফাঁ’ড়ির ইনচার্জ এসআই রিয়াজ উদ্দিন জানান, প্রাথমিকভাবে আ’ত্মহত্যা’র কোনো লক্ষণ ধরা পড়েনি। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অ’ভিযো’গ পেয়েছি। গৃহবধূর শ্বশুরবাড়ির অ’ভিযোগ আ’ত্মহ’ত্যা অপরদিকে বাবার বাড়ির অ’ভিযোগ যৌ’তুকের জন্য হ’ত্যা করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, ময়না ত’দন্ত রিপোর্ট হাতে আসার পর মৃ’ত্যুর প্রকৃত রহস্য জানা যাবে। ঘটনার পর থেকেই গা ঢাকা দিয়েছে নিহত গৃহবধূর স্বামী।

ad

পাঠকের মতামত