সড়কে পলিথিনে মুড়িয়ে করোনায় মৃ’ত ছেলের লা’শ রেখে পালালেন বাবা-ভাই!
নিউজ ডেস্ক।। নিজেরা করোনায় আ’ক্রান্ত হতে পারে এই ভয়ে, আর গ্রামে লাশ সৎকারের বাধার শঙ্কায় করোনায় মৃ’ত ছেলের লাশ কাঁথা ও পলিথিনে মুড়িয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যান বাবা-ভাই।
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একে সাইদুল হক ভূইয়া জানান, চেতন চন্দ্র ঢাকার এয়ারপোর্ট এলাকায় রিকশা চালাতেন। ৬-৭ দিন আগে তিনি করোনা ভাইরাসে আ’ক্রা’ন্ত হন। এরপর গত শনিবার রাতে তিনি মা’রা যান।
ছোট ছেলের মৃ’ত্যু’র পর বাবা নকুল চন্দ্র দাস বড় ছেলে অতুল চন্দ্রকে সঙ্গে নিয়ে টাঙ্গাইলের কালিহাতীর বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। কিন্তু মৃ’ত সন্তান থেকে করোনায় আ’ক্রান্ত হওয়ার ভ’য়, আর গ্রামে লা’শ সৎকারের বাধার শঙ্কায় গত ১৪ জুন রাতে কাঁথা ও পলিথিনে মুড়িয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে লা’শ ফেলে রেখে পালান তারা।
তিনি বলেন, ১৫ জুন সকালে জেলার দেলদুয়ার উপজেলার ডুবাইল এলাকায় মহাসড়কের পাশ থেকে পুলিশ অজ্ঞাত লা’শটি উ’দ্ধার করে দেলদুয়ার থানায় হস্তান্তর করে। এরপর দেলদুয়ার থানা পুলিশ অজ্ঞাত লা’শটি টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল ম’র্গে পাঠান। পরে টাঙ্গাইল সিআইডির ক্রা’ইম সিন টিম তার ফিঙ্গার প্রিন্টের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করে। মৃ’ত চেতন চন্দ্র দাস জেলার কালিহাতী উপজেলার আমজানী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারসহ ঢাকার আব্দুল্লাপুরে বাস করছিলেন।
ওসি আরও বলেন, ‘পরিচয় শনাক্তের পর জানতে পারি, মৃ’ত চেতন চন্দ্র দাস করোনা রোগী ছিলেন। ময়নাতদন্ত শেষে মৃ’ত ব্যক্তির কাকা পূন্য চন্দ্রের কাছে লা’শ হস্তান্তর করা হয়। এ সময় লা’শ দাহ করতে খরচ হিসেবে পাঁচ হাজার টাকা দেওয়া হয় তাকে।’ পরে মৃ’ত চেতন চন্দ্র দাসের লাশ সৎকার করে টাঙ্গাইল জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ। ওইদিন টাঙ্গাইল শহরের কাগমারী রানীদিনমনি মহাশ্মশানে তার সৎকার সম্পন্ন করা হয়।




