মুম্বাইয়ে ফ্লেমিঙ্গোদের উল্লাস (ভিডিও)
ডেস্ক রিপোর্ট।। করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ উদ্ভুত পরিস্থিতিতে দেশে দেশে চলছে লকডাউন। তবে এই লকডাউন শুধু মানুষের জন্য। মানুষ যখন ঘরবন্দি তখন অন্য প্রাণীিরা যেন উল্লাস করছে প্রাণ খুলে।
কোথাও দেখা যাচ্ছে, কুমিরেরা রাস্তায় উঠে আসছে। তিমির দল সৈকতে চলে আসছে। পাখিরা উল্লাসে ডানা মেলছে শহরের আকাশে।
কয়েকদিন ধরে ভারতের মহারাষ্ট্রের রাজধানী মুম্বাইয়ের আকাশেও এমন দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। ঘনবসতি আর কারখানার দূষণে মুম্বাইয়ের পরিবেশ প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের অনুকূলে নয়। কিন্তু লকডাউনে মুম্বাই যেন ফিরে পেয়েছে তার আদি প্রকৃতি। যার নমুনা দেখাচ্ছে ফ্লেমিঙ্গো পাখিরা। মুম্বাইয়ের পুকুর, লেক বা শহরের আকাশে তাদের সর্বত্র বিচরণ দেখা যাচ্ছে।
তবে মুম্বাইয়ে ফ্লেমিঙ্গো পাখির বিচরণ কম হলেও প্রতি বছর কম-বেশি তাদের দেখা যায়। বছরে নির্দিষ্ট কয়েক মাস থাকে এই পাখি। এদেরকে অতিথি পাখি বলা হয়। সাধারণত প্রতি বছর সেপ্টেম্বর থেকে মে মাসের মধ্যে এরা খাদ্যের সন্ধানে দক্ষিণ এশিয়ায় আসে।
এ বিষয়ে মুম্বাই ন্যাচারাল হিস্ট্রি সোসাইটি (বিএনএইচএস) এর পরিচালক রাহুল খট বলেন, গত বছর প্রায় ১ লাখ ৩৪ হাজার ফ্লেমিঙ্গো দেখা গিয়েছিল। তবে এবার রেকর্ড সংখ্যায় পাখি দেখা যাবে। ইতিমধ্যে ১ লাখ ২৫ হাজার গণনা করা হয়েছে।
বিএনএইচএস এর পাখি মনিটরিংয়ের দায়িত্ব পালন করেন খট। তিনি আরও জানান, গত ২৫ মার্চ থেকে লকডাউন চলছে। এই পরিস্থিতি থাকলে চলতি মাসের মধ্যে পাখিদের সংখ্যা অনেক বাড়বে।
খট জানান, সাধারণত মানুষের বিচরণ কম থাকে এমন যায়গায় অতিথি পাখিরা থাকতে পছন্দ করে। বর্তমানে শহরে মানুষের আনাগোনা কম। ফলে শহরের বিভিন্ন পুকুর ও লেকে পাখিদের দেখা যাচ্ছে।
লকডাউনের মধ্যে প্রাণিদের এমন বিচরণে প্রকৃতির ভারসাম্যকে গুরুত্ব দিচ্ছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্মতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক মোহাম্মক হক।
তিনি বলেন, একটু বাইরে তাকালেই দেখা যাবে মানুষ ছাড়া অন্য সকলেই মনের অনাবিল আনন্দে চারদিকে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কোথাও যেন তাদের নেই বাধা। নিজের আত্ম-সচেতনতাকেই তারা প্রাধান্য দেয়। অন্যকে আক্রান্ত করা তাদের স্বভাব নয়। সুন্দর পৃথিবীতে ভারসাম্যময় সহাবস্থানই তাদের ঐকান্তিক কামনা।
করোনারভাইরাসে ভারতে এ পর্যন্ত ৫৩ হাজার মানুষকে সংক্রমিত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। মারা গেছে প্রায় ২ হাজার ১০০ জন। সুস্থ হয়েছেন ২১ হাজার রোগী।






