316674

ওরা তো গোবরও খাচ্ছে

জয়নাল হাজারী ॥ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বিশেষ করে বিজিপি বা হিন্দু অধ্যষিত রাজ্যগুলোতে ব্যাপকভাবে করোনা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য মানুষ গোমূত্র আর গোবর খাচ্ছে। এটা খাওয়ার জন্য সেখানকার বিজিপির শীর্ষ নেতারাই বলেছে। কোন প্রাণীর বিষ্ঠা অন্য প্রাণীতে উপকার করে না। সকল প্রাণীর খাদ্যের দূষিতটাই বিষ্ঠায় পরিণত হয়। সুতরাং এগুলো কোন রোগের উপকার করে এমন চিন্তা করা বাস্তব সম্মত নয়। তবুও এসব খাওয়ার জন্য ভারতের বড়-বড় নেতারাই বলেছে। এগুলো খাওয়াতে উপকার আছে এমন তথ্য বা প্রমাণ কেউ দিতে পারেনি। মোট কথা ব্যাপারটি মোটেই বিজ্ঞান সম্মত নয়। সব চাইতে আশ্চর্যের ঘটনা হচ্ছে যেসব এলাকায় লোকেরা গোমূত্র ও গোবর খাচ্ছে ওইসব এলাকায় গোবর খাওয়ার বিরুদ্ধে কেউ কোন কথা বলতে পারে না। আসল কথা হচ্ছে গোবর খাওয়াতে কোন রোগ ভাল হয়েছে এর কোন বাস্তব প্রমাণ নেই। অপর দিকে ভারতে কিংবা সারাবিশ্বে গোবর খেতে যারা বলেছে তাদের বিরুদ্ধে কেউ টু শব্দটি পর্যন্ত করেনি।

অন্যদিকে আমাদের দেশে কিছু কিছু ক্ষেত্রে চুন থেকে নুন খসলেই ভূমিকম্প শুরু হয়। আমাদের সেতুমন্ত্রী বলেছিলেন আমরা করোনার চাইতে শক্তিশালী। সঙ্গে সঙ্গে চতুরদিকে হৈচৈ শুরু হলো। যেন আগুন লেগে গেছে। কেউ একটি বারও চিন্তা করলো না। উনি কথাটি কেন বলেছিলেন? আমার মনে হয় ওনার উদ্দ্যেশ্য একেবারেই খারাপ ছিল না। করোনায় আতঙ্কিত মানুষদের সাহস দেয়ার জন্যই তিনি এটা বলেছিলেন। এই কথায় কারো কি কোন রকমের ক্ষতি হয়েছে? তাহলে কেন এত হৈচৈ। কেন অনেকের মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়লো। যে কথাটির উদ্দ্যেশ্য খারাপ ছিল না এবং যে কথাটিতে কারো কোন প্রকার ক্ষতি হয় নাই। সেটা নিয়ে সোসালমিডিয়াতে এক শ্রেণীর লোক সুপরিকল্পিতভাবে দেশে বিদেশে সেতুমন্ত্রীর ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করেছে। আমার ধারণা সেতুমন্ত্রী নয় আসল ষড়যন্ত্র হচ্ছে নেত্রীকে খাটো করা। তবে তারা সফলকাম হয়নি। বরং নেত্রী যেভাবে দেশে করোনা মোকাবিলা করছে তা সারাবিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। এদিকে এপ্রিলের ৯তারিখ বিকেল ৫টায় আমি একটি ফেসবুকে লাইভ ভাষণ দিয়েছিলাম। সেখানে আমি বলেছিলাম, করোনা রোগীদেরকে অপারেশন করে ফুসফুসের ভাইরাসগুলো মেরে ফেলা যায়কিনা তা ডাক্তার সাহেবদেরকে দেখার জন্য। সেখানে আমি বলেছিলাম আমি ডাক্তার নই।

আমি কথাটি অন্যকাউকে নয় শুধুমাত্র ডাক্তারদেরকেই বলেছিলাম। একশ্রেণীর কুচক্রী আমার ভাষণটির শুধুমাত্র কয়েক সেকেন্ড কেটে নিয়ে ব্যাপকভাবে ভাইরাল করেছে। এতে আমার ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা হয়েছে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে যেহেতু হৃদরোগের জন্য অপারেশন করে রোগীদের ভাল করা হয়। তেমনিভাবে ফুসফুস অপারেশন করেও করোনা ভাল করা যায় কিনা সেব্যাপারে ডাক্তারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলাম। ফুসফুসের রোগীদের ফুসফুসের অংশবিশেষ কেটে ফেলেও মানুষকে বাঁচিয়ে রাখা যায়। ফুসফুসে পানি এলে সেটাও বাইরে থেকে ইনজেশন দিয়ে বাইরে আনা যায়। সেই চিন্তা থেকেই আমি কথাটি বলেছিলাম। সঙ্গে সঙ্গে মনে হলো যেন আগুন লেগে গেছে। যদিও আমি তিন মিনিটের একটি ভাষণে সেটি অনেকটাই দূর করতে পেরেছি। শুধু পুরো ভাষণ নয়, কেবলমাত্র ফুসফুস সম্পর্কে যেগুলো বলেছিলাম কেবল পুরো সেই কথাগুলো তুলে ধরতো তাহলেই ভুলবোঝাবুঝির কোন অবকাশ থাকতো না। কিন্তু তারা তো মানুষকে ভুল বোঝানোর জন্যই এটা করেছে। এখনো আমি বলি আমার যারা অনুরাগী তারা দয়া করে আমার পুরো ভাষণটি শুনুন তারপর যা ইচ্ছে তা বলুন, আমি মাথা পেতে নিব। কেউ বলছে কালো জিরা খাওয়ার জন্য, কেউ বলছে মধু, কেউ বলছে আদামনি শাক এখন সকলের মতো আমিও আমার একটি মনোভাবের কথা বলেছি এভাবে বলার অধিকার সকল মানুষেরই আছে। সক্রেটিসের একটি বক্তব্যের জন্য তাকে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে। অথচ তার মৃত্যুরপর প্রমাণ হয়েছে তার তথ্যটাই সঠিক। আমি শুনেছি ইউরোপের কয়েকটি দেশ ইতিমধ্যে ফুসফুস অপাশেনের ব্যাপারে গবেষণা করে অনেক দূর এগিয়ে গেছে।

আমার প্রশ্ন আমার কথাটিতে কোন খারাপ উদ্দ্যেশ্য ছিল কিনা? যদি কোন খারাপ উদ্দ্যেশ্য থাকে সেটা বলুন। আর বলতে হবে এতে কারও কোন ক্ষতি হয়েছে কিনা। আমি আমার একটি মতামত দিয়েছি সম্ভব হলে এটি গ্রহণ করবেন, না হলে না। অথচ এটা নিয়ে এতো ব্যঙ্গউক্তি, এতো নিন্দার ঝড় কেন? বিএনপি জামায়েতসহ সমাজের কোন শ্রেণীর অনুবুতিতে আমার কথাটি সামান্যতম কোন আঘাত করেনি। তাহলে আমার উদ্দ্যেশ্য ও খারাপ ছিল না। আমার কথাতে কেউ ক্ষতিগ্রস্তও হয়নি। এমনকি আমার মতামত দেয়ার অধিকারও আছে তাহলে এতো নিন্দা কেন? গত মেয়র নির্বাচনের সময় তাপসের সঙ্গে আমার একটি ছবি ভাইরাল করে যেই কুচক্রীরা তাপসকে পরাস্ত করতে চেয়েছিল

সেদিন তো এই কুচক্রীরাই আমার ব্যাপারে বলেছিল ত্যাগী, নির্যাতিত তিনবারের এমপি, মুক্তিযোদ্ধা বর্তমানে উপদেষ্টা কত প্রশংসা আমাকে বড় করে তাপসকে ছোট করতে। চেয়েছিল পারেনি।
সেই পক্ষই এখন আমাকে হেয় করার চেষ্টা করেছে। যারা আমার মুজিববর্ষের পোস্টার ছিড়েছে যেখানে বঙ্গবন্ধু ও নেত্রীর ছবি ছিল তারা এটা করেছে বলে আমার ধারণা। আমি যে জেল থেকে আসামি মুক্তির কথা বলেছিলাম সেটা মোতাবেক আসামি ছাড়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কই এটার তো কারও মুখে প্রশংসা শুনলাম না। আমার সারা দুনিয়ার অনলাইন যোদ্ধাদের বলি ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে দাতভাঙ্গা জবাব দিবে ওদের চক্রান্ত কেবল সেতুমন্ত্রী বা আমার বিরুদ্ধে নয় ওদের টার্গেট জননেত্রী শেখ হাসিনা। ওনার জন্য সবাই দোয়া করবেন। করোনার অভিশাপ থেকে আল্লাহ আমাদের মুক্ত করুন।
শেষে কবির ভাষায় বলি-
হে মোর দুভাগা দেশ যাদেরে করেছ করেছো অপমান,
অপমানে হতে হবে তাদের সবার সমান। উৎস: হাজারিকা প্রতিদিন।

ad

পাঠকের মতামত