ধূমপায়ীদের যে কারণে করোনা ঝুঁকি বেশি
নিউজ ডেস্ক।। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, অন্য যে কোনও মানুষের চাইতে সিগারেট, মারিজুয়ানা কিংবা ই-সিগারেট সেবনকারীদের কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত ও গুরুতর অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি বেশি। যে কোনও মহামারিকালীন সময়ে উদ্বেগ কাটাতে অনেকেই ধূমপান করে থাকেন। কিন্তু এই অভ্যাস করোনায় আক্রান্ত হওয়া বা আক্রান্ত হওয়ার পর বিপদের কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
করোনাভাইরাস মূলত ফুসফুসে আঘাত হানে। আর ধূমপায়ীদের ফুসফুস অন্যদের তুলনায় বেশি দুর্বল থাকে বলে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে। ধূমপান মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও দুর্বল করে দেয়। ঝুঁকি কমাতে তাই ধূমপানের মাত্রা কমিয়ে আনতে এবং সম্ভব হলে একেবারে ছেড়ে দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের অধ্যাপক ড. জনাথন উইনিকফ মার্কিন সংবাদ মাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস’কে বলেন, ‘মহামারির এই সময়ে ধূমপান ছেড়ে দেওয়া কেবল আপনার নিজের জীবন বাঁচাতে পারে তাই নয়, আক্রান্ত হলেও আপনাকে হয়তো হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন নাও হতে পারে। এভাবে আপনি অন্য আরেকজনের জীবনও রক্ষা করতে বাঁচাতে পারেন।’
ম্যাসাচুসেটসের অ্যাটর্নি জেনারেল মরা হিলিকে নিয়ে উইনিকফ বৃহস্পতিবার যৌথভাবে অঙ্গরাজ্যটির বাসিন্দা বিশেষ করে তরুণদের উদ্দেশ্যে এক নির্দেশনাও দিয়েছেন। এতে ধূমপান ও ভ্যাপিংয়ের (ই-সিগারেটের মাধ্যমে ধোঁয়া সেবন) কারণে করোনাভাইরাসের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালের টোবাকো রিসার্চ অ্যান্ড ট্রিটমেন্ট সেন্টারের শিশুরোগ চিকিৎসা বিষয়ক গবেষণার পরিচালক উইনিকফ ধূমপায়ীদের উদ্দেশ্য করে আরও বলেন, ‘আপনি ওই যন্ত্র কিংবা সিগারেট মুখের কাছে আনছেন, ধোঁয়া টেনে ভেতরে নিচ্ছেন। বারবার একই কাজ করছেন। এভাবে আপনি হাতের সমস্ত জীবাণু শরীরের ভেতর পাঠিয়ে দিচ্ছেন। তাই আমি ধূমপায়ী অনেক রোগীকে অন্যদের তুলনায় বেশি কাশি দিতে ও শ্লেষ্মা নির্গত হতে দেখেছি।’
তিনি আরও বলেন, কেবল সিগারেট বা ই-সিগারেট নয়, গাঁজা কিংবা মারিজুয়ানা সেবনও করোনার এই সিজনে ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনতে পারে।
সিগারেট সেবনকারীদের শারিরীক ক্ষতি নিয়ে নানান গবেষণা হলেও ই-সিগারেট তুলনামূলক নতুন হওয়ায় এর ক্ষয়ক্ষতি সংক্রান্ত পর্যাপ্ত তথ্য বিজ্ঞানীদের হাতে নেই। তবে কয়েকটি গবেষণা বলছে, ই-সিগারেট ফুসফুস ও শ্বাসনালীর জ্বালাপোড়ার কারণ হতে পারে।
চীনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর যাদের অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছিল তাদের মধ্যে ধূমপায়ীদের সংখ্যা অন্যদের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি ছিল। নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনের সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধান থেকে এই তথ্য জানা গেছে।




