মৃত্যুর মিছিলে চীনকে ছাড়িয়ে গেল স্পেন
নিউজ ডেস্ক।। করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত-বিধ্বস্ত পুরো বিশ্ব। বর্তমানে ভাইরাসটি ভয়াবহ তাণ্ডব চালাচ্ছে ইতালি, স্পেন ও ব্রিটেনে। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ ও মৃতের সংখ্যা। এ প্রাণঘাতী ভাইরাসে ইউরোপের তিন দেশে প্রতি দু’দিনে দ্বিগুণ হারে মানুষ মারা যাচ্ছেন। ইতালিতে মহামারী করোনায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের শিকার মিলান প্রদেশের লম্বার্ডি শহর। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে মৃত্যু বাড়লেও কমেছে নতুন রোগীর সংখ্যা। এর চেয়েও বাজে অবস্থার দিকে ধাবিত হচ্ছে ব্রিটেনের রাজধানী লন্ডন ও স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদ।
এ দুই শহরে জ্যামিতিক হারে বাড়ছে সংক্রমণ ও মৃত্যু। ইতোমধ্যে মৃতের সংখ্যায় চীনকে পেছনে ফেলেছে স্পেন। পিছিয়ে নেই যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কও। ‘বিশ্বের রাজধানী’ খ্যাত শহরটিতে বুলেট গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে করোনা। এভাবে চলতে থাকলে লন্ডন-মাদ্রিদকেও ছাড়িয়ে যাবে নিউইয়র্ক। খবর বিবিসি, রয়টার্স, এনডিটিভি, আনন্দবাজার, ইন্ডিয়া টুডে, এপি, সিএনএন, গার্ডিয়ান, আলজাজিরা ও ওয়ার্ল্ডওমিটারের।
করোনাভাইরাসের নতুন পরিসংখ্যান বলছে, কিছু শহরে করোনায় মৃতের সংখ্যা ব্যাপক হারে বাড়ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রাণঘাতী করোনার আক্রমণে এখন সবচেয়ে করুণ অবস্থা বিরাজ করছে যুক্তরাজ্যের লন্ডন ও স্পেনের মাদ্রিদ। এ শহর দুটির শোচনীয়তা ইতালির লম্বার্ডিকেও ছাড়িয়ে গেছে। এখানে প্রতিদিনই মৃতের সংখ্যা দ্বিগুণ হারে বাড়ছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক গবেষণা বলছে, লন্ডনে দু’দিন অন্তর করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দ্বিগুণ হচ্ছে। আর প্রতি ৩ দিনে দ্বিগুণ হচ্ছে পুরো ব্রিটেনে।
বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত ১টা পর্যন্ত করোনাভাইরাসে এ পর্যন্ত বিশ্বে ৪ লাখ ৫৯ হাজার ১৫৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যু ২০ হাজার ৮২২ জন। বুধবার ইউরোপের দেশ ইতালিতে নতুন করে ৬৮৩ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৭ হাজার ৫০৩ জন। করোনা মূল উপকেন্দ্র এখন ইতালির লম্বার্ডি। চীনের উহানের পর ওই শহরে ভয়াবহ তাণ্ডব চালাচ্ছে করোনা। তবে লন্ডন ও মাদ্রিদে মৃতের পরিসংখ্যান দেখে ধারণা করা হচ্ছে, এ শহর দুটি খুব শিগগিরই করোনার ‘হটস্পট’ হতে যাচ্ছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় স্পেনে ৪৪৩ জন মারা গেছেন।
দেশটিতে মৃতের সংখ্যায় চীনকে ছাড়িয়ে ৩ হাজার ৪৩৪ জনে দাঁড়িয়েছে। চীনে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৩ হাজার ২৮১ জন। স্পেনে আক্রান্ত হয়েছেন ৫৫৫২ জন। এরমধ্যে মাদ্রিদেই আক্রান্ত হয়েছেন ১২ হাজার ৩৫২ জন, যা মোট আক্রান্তের এক-তৃতীয়াংশ। এছাড়া মারা গেছেন এক হাজার ৫৩৫ জন, যা দেশটির মোট মৃতের ৫৭ শতাংশ। এমন পরিস্থিতিতে ন্যাটোর সহযোগিতা চেয়েছে দেশটি। এক সপ্তাহের ব্যবধানে যুক্তরাজ্যে মৃতের সংখ্যা ছয়গুণ বেড়েছে। ইংল্যান্ডে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ৪৩৫ জন। এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ৮২৬৪ জন।
নিউইয়র্কের গভর্নর অ্যান্ড্রিউ কুমো বলছেন, রাজ্যে প্রতি ৩ দিনে দ্বিগুণ হচ্ছে মৃতের সংখ্যা। বুলেট ট্রেনের চেয়েও দ্রুতগতিতে ভাইরাসের বিস্তার ঘটছে। এ জন্য দ্রুত মেডিকেল সরঞ্জাম সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছেন কুমো। কিন্তু পর্যাপ্ত সাড়া না পেয়ে তিনি ফেডারেল সরকারের কড়া সমালোচনা করেছেন।
হুশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেছেন, যেমনটা ধারণা করা হয়েছিল, করোনা সংক্রমণ তার চেয়ে অনেক ভয়াবহ। করোনা সংকট মোকাবেলায় কেন্দ্রীয় সরকার পর্যাপ্ত সরঞ্জাম সরবরাহ করেনি বলে অভিযোগ করেন। তিনি উল্লেখ করেন তার রাজ্যে প্রয়োজন ৩০ হাজার ভেন্টিলেটর।
এদিকে, করোনা মোকাবেলায় দুই লাখ কোটি ডলারের একটি প্যাকেজ পাস করেছে মার্কিন কংগ্রেস। করোনা আতঙ্কে প্রথমবারের মতো ভিডিও কনফারেন্সে বৈঠক করেছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও তার নিজ সংসদীয় আসন বারানসির নাগরিকদের সঙ্গে বুধবার ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলেছেন। এদিন সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বৈঠক করেছে মোদির মন্ত্রিসভা।






