করোনা ভাইরাস: বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে খাবার সরবরাহ
চীনে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে বাড়তে তা পৌঁছেছে ১৭০। তবে এখনও পর্যন্ত চীনে অবস্থানরত কোনো বাংলাদেশি আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
করোনাভাইরাস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের কাজটিকে আরও উন্নত করার জন্য এবং একইসঙ্গে চীনে অধ্যয়নরত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জীবন যাপনের সমস্যাগুলি কার্যত সমাধান করতে দেশটির চিয়াংশি প্রদেশের নানছাং শহরে অবস্থিত চিয়াংশি ইউনিভার্সিটি অব ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইকনোমিক্স বিশ্ববিদ্যালয়ে বিনামূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার দ্রব্যাদি সরবরাহ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
২৯ জানুয়ারি সন্ধ্যায় চীয়াংশী ইউনির্ভাসিটি অব ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইকনোমিক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল ডরমিটরি লবিতে বিভিন্ন দেশ থেকে আগত অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের মাঝে এই খাবার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
চীনে চান্দ্র নববর্ষের প্রাক্কালে ক্যাম্পাসের আশপাশে সুপারশপগুলো বন্ধ হওয়াতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। দেশটিতে নববর্ষের কারণে সরবরাহ কম থাকায় সবধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য কিনতে বেগ হতে হচ্ছে তাদের।
বিদেশি শিক্ষার্থীদের খাবার সামগ্রী ক্রয়ের সময় ক্রস সংক্রমণের ঝুঁকি হ্রাস করার জন্য, বিদেশি শিক্ষা কলেজ নুডলস, ডিম, আলু, পেঁয়াজ, টমেটো, রসুন এবং লেবু সরবরাহ করা হয়।
এই সময় উপস্থিত ছিলেন- চীয়াংশী ইউনিভার্সিটি অব ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইকনোমিক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়াং শিয়াওপিং, ওভারসিজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ডিন উয়েহুয়া ই-ইন্টারন্যাশনাল অফিসের শিক্ষক ইউআন ওয়ে।
খন্দকার রফিউল আলম নামে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী বলেন, আমি চীয়াংশি ইউনির্ভাসিটি অব ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইকনোমিক্স বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশোনা করছি। আমার মেজর হলো ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্ট। চীনের এই অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্যে আমি আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে সুরক্ষিত আছি। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজনীয় খাবার এবং জীবাণুনাশক হিসেবে সেফটি মাস্ক সরবরাহ করেছে। আপাতত সবকিছু নিয়ন্ত্রণে।
একজন নাইজেরিয়ান শিক্ষার্থী বলেন, চীয়াংশি ইউনিভার্সিটি অব ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইকনোমিক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক ছাত্র হিসেবে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম দ্বারা মুগ্ধ। বর্তমান পরিস্থিতির কারণে, খাবারের জিনিসপত্র এবং অন্যান্য সরবরাহ পাওয়া খুব চ্যালেঞ্জের কাজ। এই মূহূত্তে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় খাবার সরবরাহ সমস্ত প্রশংসার দাবিদার। আমি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং ওভারসিজ এডুকেশন স্কুল ধন্যবাদ জানাতে চাই।
জানা গেছে, চীনের অন্যান্য প্রদেশে অবস্থিত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় খাবার সরবরাহ, সেফটি মাস্ক, নিয়মিত তাপমাত্রা মাপা, ডরমিটরিতে স্প্রে করাসহ নিয়মিত খোঁজখবর রাখছে ইন্টারন্যাশনাল স্কুল।










