মানসিক ভারসাম্যহীন তরুণীকে পোশাক দিলেন পুলিশ কর্তা
নেতিবাচক অনেক অভিজ্ঞতার ভিড়ে পুলিশের সাহসিকতা আর মানবিকতার গল্পগুলো খুব কমই সামনে আসে। মানবিক গল্পে যে পুলিশ নায়ক চরিত্রে অবতীর্ণ হতে পারেন, তেমন অনেক উদাহরণই চাপা পড়ে যায় হাজারো ঘটনার ভিড়ে। যারা সাধারণ মানুষকে সহযোগিতার মতো মানবিক কাজগুলোও নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করেন।
গত সোমবার ঢাকা বিমানবন্দর চত্বরের পাশে একজন বিবস্ত্র মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে দেখা যায়। হাজারো মানুষের চোখের ভিড়ে এক পুলিশ কর্মকতার চোখের পলক পড়ে তার ওপর। তিনি বিলম্ব না করে নিজের গাড়ি থেকে নেমে নিজের ট্রাউজার এবং জার্সি পরিয়ে দেন বিবস্ত্র ওই নারীকে। মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি এ কাজটি করেছেন।
এমন হাজারো মানবিক কাজ করে পুলিশ বাহিনীর নেতিবাচক দিকগুলো ইতিবাচক করার মানবিক লড়াইয়ে নেমেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক উত্তরের বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার প্রবীর কুমার রায়। নিজের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা দিয়ে সেবা করে যাচ্ছেন সাধারণ মানুষকে।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) বিমানবন্দর চত্বরের পাশে ঐ তরুণীকে দেখেন উপ-পুলিশ কমিশনার। সাথে সাথেই গাড়ি থেকে নেমে বিবস্ত্র ঐ তরুণীকে নিজের ট্রাউজার এবং জার্সি পরিয়ে দেন প্রবীর কুমার।
এক পথচারী সেই মুহূর্তের ছবি তুলে ফেসবুকে প্রকাশ করলে দ্রুতই তা ভাইরাল হয়ে যায়। আর সেই সাথে এমন পদক্ষেপের প্রশংসা করেন নেটিজেনরা। আনিসুল হক নামের একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী লেখেন, পুলিশের নেতিবাচক দিকগুলোই আমরা দেখি। কিন্তু এটাও ঠিক যে তারাও মানুষ আর তাদের মাঝে ভাল মানবিক গুণগুলোও আছে। সেসব ভাল কাজের প্রশংসা করি না আমরা।
তবে কেউ সমালোচনা করেছেন নিজেদেরও। আতিক আহমেদ নামের একজন লেখেন, এই শহরে তো আমরাও থাকি। নিশ্চয়ই ঐ মহিলাটিকে আগেও ওখানে দেখা গেছে। অন্যরা যারা আগে দেখলেন তারা কেন এগিয়ে আসলেন না?
বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করলে নিজ প্রতিক্রিয়ায় ডিসি প্রবীর কুমার বলেন, অন্য কোন উদ্দেশ্য নয় বরং নিজস্ব মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই কাজটি করেছি। সে সময় হাতের কাছে যা ছিল তা দিয়েই ঐ নারীর লজ্জা নিবারণের চেষ্টা করেছি। আমার সীমিত সক্ষমতার মধ্যে তাকে কিছু টাকাও দিয়েছি।
তিনি বলেন, পুলিশকে নিয়ে এখনোও অনেকেই নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেন। কিন্তু আমার মনে হয়, আমার জায়গায় অন্য কোন পুলিশ সদস্য থাকলেও এমনটি করতেন। আমরা পুলিশেরাও মানুষ, এই সমাজেরই অংশ। এই ঘটনার মতো পুলিশ সদস্যদের এমন অনেক মানবিক উদাহরণ আছে। আশা করি জনগণের মাঝে আমাদের ‘ইমেজ’ এ পরিবর্তন আসবে।






