301557

দত্তক ফাতেমার করুণ পরিণতি

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউপির চরমনসা গ্রামের ফাতেমা আক্তার। তিন বছর বয়সে বাবা-মাকে হারান তিনি। সন্তানের অভাব পূরণে ফাতেমাকে এক দম্পতি দত্তক নিলেও তা স্থায়ী হয়নি। দুঃখই তার কপালে রইল।ফাতেমাকে দত্তক নেন চরমনসা গ্রামের গোলাম মাওলা ও আমেনা। ২০১৫ সালে এক সরকারি কর্মচারীর সঙ্গে ফাতেমার বিয়েও দেন তারা।

পরে ফাতেমার ঘরে জন্ম নেয় একটি মেয়ে। যার বয়সও এখন তিন বছর। দত্তক মেয়ে বিয়ে করে কিছু পায়নি এমন ভাবনায় স্বামী মাহবুবের নির্যাতন আর অপবাদে সংসার করতে পারেননি ফাতেমা। তাই বাধ্য হয়ে ফিরে যান দত্তক নেয়া বাবা-মার কাছে। কিন্তু এখন তাদের কাছেও ঠাঁই মিলছে না তার।

তারা প্লাস দিয়ে টেনে শরীরের বিভিন্ন স্থানে থেঁতলে আর রড দিয়ে পেটান। বাবা-মা ও তিন ভাই মিলে তার ওপর এ নির্যাতন চালান বলে অভিযোগ করেছেন চিকিৎসাধীন ফাতেমা।

ফাতেমা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, স্থানীয় ওয়াপদা অফিস সংলগ্ন আমাদের মূল বাড়ি। প্রকৃত বাবা নুরুল ইসলাম। তিন বছর বয়সে বাবা ও মা মারা যান। এরপর আমাকে দত্তক নেন পাশ্ববর্তী চরমনসা গ্রামের গোলাম মাওলা। তাকেই বাবা হিসেবে জানতাম। সেখানেই বড় হয়েছি। তবে তারা আমাকে গৃহপরিচারিকা হিসেবে কাজ করাতেন।

তিনি আরো বলেন, ২০১৫ সালে সরকারি কর্মচারী (লক্ষ্মীপুর আদালত) মাহবুবের সঙ্গে আমার বিয়ে হয়। পরে একটি কন্যা সন্তান আসে আমাদের সংসারে। কিন্তু বাবা-মায়ের দত্তক মেয়ে জানতে পেরে বিভিন্ন সময়ে স্বামী মারধর করতেন। একপর্যায়ে মিথ্যা অপবাদ তুলে আমাকে মৌখিক তালাক দেন। কিন্তু কাবিনের সাড়ে তিন লাখ টাকা এখনো বুঝিয়ে দেয়নি। বাধ্য হয়ে সেই বাবার বাড়িতে গেলে সেখানে বাবা-মা ও চার ভাই ঠাঁই দেননি।

ফাতেমা বলেন, তিন বছরের মেয়ে নিয়ে গ্রামে প্রাইভেট পড়িয়ে জীবন-যাপন করছি। অন্যের দয়ার আশ্রয়ে থাকছি বাবার বাড়িতে।এদিকে শনিবার সকালে ফাতেমার মেয়ে বাড়ির উঠানে প্রস্রাব করায় বাবা গোলাম মাওলা, ভাই বাবলু, আজিজ ও আতিক তাকে মারধর করেন। পরে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

অভিযুক্ত গোলাম মাওলা জানান, তার মায়ের সঙ্গে খারাপ আচরণ করায় ফাতেমাকে মারধর করা হয়েছে।সদর থানার ওসি একেএম আজিজুর রহমান মিয়া বলেন, অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ad

পাঠকের মতামত