295855

হাটহাজারীতে রেলসেতু ভেঙে তেলবাহী ওয়াগন খালে

চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে রেলসেতু ভেঙে তেলবাহী ওয়াগন খালে পড়ে গেছে। সোমবার বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার এগার মাইল এলাকার কাছে পূর্ব মধ্যম দেওয়ান নগরে এ ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর ট্রেনটিতে থাকা ফার্নেস অয়েল মরা খালে ছড়িয়ে পড়ে। যা হালদা নদীতে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। জানা যায়, হাটহাজারী ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ফার্নেস অয়েলবাহী ওয়াগন লাইনচ্যুত হয়। এ ঘটনায় সাতটি ওয়াগনের মধ্যে তিনটি ওয়াগন কালভার্ট ভেঙে মরা ছড়ায় (খাল) পড়ে যায়।

ওয়াগনবাহী রেলের লোকো মাস্টার কাজী নাসির উদ্দিন বলেন, হাটাহাজারী বিদ্যুৎকেন্দ্রে ফার্নেস অয়েল নিয়ে যাওয়ার সময় মরা ছড়ার উপর যে কালভার্ট রয়েছে তার পাটাতন ও স্লিপার হঠাৎ ভেঙে পড়লে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এর ফলে প্রায় এক লাখ ৫ হাজার লিটার ফার্নেস ওয়েল ছড়াসহ আশেপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। এটি হালদা নদীতে ছড়িয়ে পড়ার আশংকা করা হচ্ছে। তবে তেল যাতে আর না ছড়াতে পারে সেজন্য সাময়িক বাঁধ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেন, আমরা দুর্ঘটনাস্থল পরির্দশন করেছি। ছড়ায় ছড়িয়ে পড়া ফার্নেস অয়েল যাতে হালদায় না যেতে পারে সেজন্য নদীতে সাময়িক কয়েকটি বাঁধ দেওয়া হয়েছে। হাটহাজারী ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের ম্যানেজার শফি উদ্দিন আহমেদ বলেন, ফার্নেস অয়েলের দূষণ ঠেকানোর জন্য আমরা স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে কাজ করছি। এদিকে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন বলেন, হাটহাজারী ১০০ মেগাওয়াট পিকিং পাওয়ার প্ল্যান্টের জন্য চট্টগ্রাম থেকে ফার্নেস অয়েল ভর্তি আটটি ওয়াগন নিয়ে যাচ্ছিল ট্রেনটি। এর মধ্যে তিনটি লাইনচ্যুত হয়ে খালে পড়ে যায় ও দুইটি সেতুর পাশে কাত হয়ে পড়ে।

ওয়াগনগুলোর প্রতিটির ধারণ ক্ষমতা প্রতিটি সাড়ে ২৪ টন করে বলে জানান তিনি। দুর্ঘটনার পরপরই চট্টগ্রাম থেকে রিলিফ ট্রেন হাটহাজারীর উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে বলে জানান নাসির উদ্দিন। প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ১৯ জুন ও ২০১৩ সালের ৩১ জুলাই দোহাজারী বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ফার্নেস অয়েল নিয়ে যাওয়ার সময় বোয়ালখালী উপজেলার খিতাপচড় ও কালুরঘাটে দুইটি ট্রেন লাইনচ্যুত হয়। সে সময় কর্ণফুলী নদীসহ আশপাশের খালবিলে বিপুল পরিমাণ তেল ছড়িয়ে পড়ে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করে।

ad

পাঠকের মতামত