বাবার মৃত্যুসনদ আনতে গিয়ে ‘পিটুনির শিকার’ পুলিশের এএসআই
বগুড়া প্রতিনিধিঃ বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে বাবার মৃত্যু সনদপত্র আনতে গিয়ে পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) লুৎফর রহমান চেয়ারম্যানের লোকজনের ‘পিটুনির শিকার’ হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোববার জেলার হাটশেরপুর ইউনিয়ন পরিষদে এই ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন সারিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল-আমিন।
পিটুনিতে আহত ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।ঘটনা প্রসঙ্গে ওই পুলিশ কর্মকর্তা দাবি করেন, সনদের বিনিময়ে দাবি করা ৫০ হাজার টাকা না দেয়ায় হাটশেরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমানের নির্দেশে তার ছেলে ও লোকজন তাকে মারপিট করেছেন।
জানা গেছে, যমুনা নদীর ভাঙনের শিকার হাটশেরপুর গ্রামের মৃত মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রহিম প্রায় ৩০ বছর আগে পরিবার নিয়ে পার্শ্ববর্তী সোনাতলা উপজেলার জোড়াগাছ গ্রামে চলে যান। তার ছেলে লুৎফর রহমান বর্তমানে নওগাঁর রানীনগর থানার এএসআই। শনিবার মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রহিম বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান। রোববার বেলা ১টার দিকে তার ছেলে এএসআই লুৎফর রহমান সারিয়াকান্দির হাটশেরপুর ইউনিয়নে বাবার মৃত্যু সনদপত্র নিতে আসেন।
লুৎফর রহমান অভিযোগ করেন, রোববার বেলা ১টার দিকে হাটশেরপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমানের কাছে তার বাবার মৃত্যুসনদ আনতে যান। কিন্তু চেয়ারম্যান সনদের বিনিময়ে তার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। এ নিয়ে বাকবিতন্ডা হলে চেয়ারম্যান ফোনে তার ছেলে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম ও ৪-৫ জনকে ডেকে আনেন। তারা এসেই তাকে বেদম মারপিট করেন।
পরে তিনি বাথরুমে আশ্রয় নিয়ে বিষয়টি নওগাঁর পুলিশ সুপারকে (এসপি) জানান। এরপর পুলিশ তাকে উদ্ধার করে সারিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।এদিকে এই ঘটনার পর অভিযুক্ত চেয়ারম্যান নিজেও হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ঘটনা প্রসঙ্গে তার কর্মচারি টিপু প্রামানিক জানান, পুরাতন কাগজপত্র খুঁজতে দেরি হওয়ায় ওই পুলিশ এবং তাদের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে উল্টো তাদের মারপিট করেছেন।তবে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান ও সন্ধ্যায় এ খবর পাঠানো পর্যন্ত কোন পক্ষই মামলা করেনি।
অভিযোগ প্রসঙ্গে হাটশেরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান বলেন, তিনি কাউকে মারপিট বা তার ছেলেকে ডেকে এনে কাউকে মারপিট করাননি। পুলিশ কর্মকর্তা লুৎফর রহমান বাবার মৃত্যুর সনদপত্র নিতে আসেন। চৌকিদারের ট্যাক্স পরিশোধের পুরাতন কাগজপত্র খুঁজতে দেরি হওয়ায় ওই পুলিশ ক্ষিপ্ত হয়ে টেবিল থেকে কাগজপত্র ছুঁড়ে ফেলে দেন। এরপর উপস্থিত এক চৌকিদারকে মারপিট করেন। এসময় তিনি বাধা দিলে তাকেও (চেয়ারম্যান) প্লাস্টিকের চেয়ার দিয়ে পেটানো হয়। খবর পেয়ে তার ছেলে তৌহিদ ও আশপাশের লোকজন ছুটে এলেও কেউ ওই পুলিশকে মারপিট করেনি। এ বিষয়ে সারিয়াকান্দি থানার ওসি আল-আমিনবলেন, বিকাল পর্যন্ত কোন পক্ষই অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগে পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।





