280432

সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত ছেলের সাথে বাবার শেষ কথোপকথন

নিউজ ডেস্ক।।  ‘বাবা, তুমি আমার মূল সার্টিফিকেটের কপিগুলো ফটোকপি করে অ্যাটেসটেড (সত্যায়িত) করে রেখো। তোমার কাছ থেকে সেগুলো সংগ্রহ করে নেব।’ আবরার আহমেদ চৌধুরীর সঙ্গে তার বাবা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আরিফ আহমেদ চৌধুরীর এই ছিল শেষ কথা। সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঘুমাতে যাওয়ার আগে বাবা-ছেলের মধ্যে ওই কথোপকথন হয়েছিল। সেই রাতের স্মৃতিচারণ করে গতকাল বুধবার আবরারের বাবা আরিফ আহমেদ চৌধুরী সমকালকে বলেন, ছেলেটা সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীতে যোগদানের জন্য লিখিত-মৌখিক সব পরীক্ষায় পাস করেছিল। কোন বাহিনীতে যোগ দেবে- তা ঠিক করা হয়ে ওঠেনি। এরই মধ্যে এমন মর্মন্তুদ ঘটনা ঘটল।

বেদনাবিধুর আর শোকার্ত কণ্ঠে আরিফ আহমেদ চৌধুরী জানালেন, মঙ্গলবার তার গাড়িতে বাসা থেকে বসুন্ধরা গেট পর্যন্ত যায় আবরার। সঙ্গে ওর তিন সহপাঠী ছিল। তাকে নামিয়ে দিয়ে আসার মিনিট দশেক পর আবরারের মায়ের কাছে সহপাঠীদের কারও একজনের ফোনকল আসে। সেই কল থেকে দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়। তখন তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। স্ত্রীর কাছ থেকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত প্রগতি সরণিতে ছুটে যান তিনি। গিয়ে দেখেন রাস্তার ওপাশে জটলা। পুলিশ তাকে জানায়, আবরার ভ্যানের মধ্যে আছে। সঙ্গে সঙ্গে ওই ভ্যান নিয়ে সিএমএইচে চলে যান। তিনি একমুহূর্তও সেখানে দাঁড়াননি। যদি ওকে রিকভারি করা যায়, সেই আশা নিয়ে ছুটে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ডাক্তার তাকে জানান, অলরেডি হি ইজ ডেড। ওয়ান আওয়ার হয়ে গেছে। তার মগজ বেরিয়ে যাওয়া, চাপা খাওয়ার ধরন থেকে আর দু-একজনের সঙ্গে কথা বলে তিনি বুঝতে পারেন, প্রথমে ডান দিক থেকে এসে একটি বাস তাকে হিট করেছে। এরপর আরেকটি বাস তাকে চাপা দিয়েছে। তাতে ও পড়ে গেছে। পরে সহপাঠীরা ধরাধরি করে ওকে এপারে নিয়ে আসে। জেব্রা ক্রসিংয়ের ওপর দিয়ে নিয়ম মেনেই সে পার হচ্ছিল।

ছেলের সঙ্গে কথোপকথনের স্মৃতিচারণ করে বাবা জানালেন, আইএসএসবিতে সাত দিনের পরীক্ষার জন্য আবরারের যাওয়ার কথা ছিল। মঙ্গলবার দুপুর ২টার মধ্যে সেখানে তার সার্টিফিকেট জমা দেওয়ারও কথা ছিল। বাবাকে সব সার্টিফিকেট সত্যায়িত করে রাখতে বলেছিল। সাড়ে ১১টার মধ্যে বিইউপিতে ক্লাস শেষ হওয়ার পর অ্যাটেসটেড সার্টিফিকেট জমা দিত সে।

ছেলেকে ঘিরে বাবার স্বপ্ন ছিল আকাশছোঁয়া। ছেলে সেই আকাশ প্রায় ছুঁয়েও ফেলেছিল। দুর্ঘটনা নয়, কার্যত সড়কে ‘হত্যার’ মধ্য দিয়ে আবরার আহমেদ চৌধুরীকে ঘিরে বাবার স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে গেল। গতকাল যখন প্রগতি সরণিতে আবরারের নামে একটি ফুট ওভারব্রিজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করা হলো, তখন অনেকের প্ল্যাকার্ডেই লেখা ছিল- ‘ওভারব্রিজ বা টাকা চাই না, নিরাপদ সড়ক চাই।’ ওই সময় উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘আবরারের বাবা আজ এখানে আসতে পারেননি। দুই মাসে ফুট ওভারব্রিজের কাজ শেষ হবে। উদ্বোধনের দিন তাকে আসার জন্য অনুরোধ জানাব।’

আবরারদের পারিবারিক বন্ধু তানবিরা খান তার ফেসবুক পোস্টে লিখেন, ‘ মঙ্গলবার যখন ওর মায়ের কাছে গেলাম, তখন সে অবিরত কথা বলে যাচ্ছে। তার আবরারের কত কথা! কিন্তু সব কথার মাঝে একটু পর পর, একটি কথাই “আমি তো আর ওরে পাব না!” ‍উৎস: সমকাল।

ad

পাঠকের মতামত