সেই কুয়েত মৈত্রীতে ভিপিসহ ছাত্রলীগের ৯, জিএসসহ স্বতন্ত্র ৪
সিলমারা ব্যালট উদ্ধারের ঘটনায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের হল বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের হল সংসদ নির্বাচনে সহসভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হয়েছেন ছাত্রলীগের সুস্মিতা কুণ্ডু। তবে এই হল সংসদে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নির্বাচিত হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সাগুপ্তা বুশরা। স্বতন্ত্র প্যানেল থেকে জয়ী হয়েছেন আরও তিন জন। সোমবার রাতে এই হলের নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হয়। এই নির্বাচনে ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে জয়ী হয়েছেন ৯ জন।
অন্যদিকে, নির্বাচনে সাতটি পদে প্রার্থিতা রেখে স্বতন্ত্র প্যানেল ঘোষণা করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে জয় পেয়েছেন চার জন। তারা হলেন জিএস, সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মুন্নী আক্তার, সাহিত্য সম্পাদক সাহরীন সুলতানা ইরা ও অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া সম্পাদক জয়নব আক্তার।কুয়েত মৈত্রী হলের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সেখানে ভোট শুরুর আগেই বস্তাভর্তি ব্যালট পেপার পাওয়া গেছে, যেগুলোতে ভোটের চিহ্ন দেওয়া ছিল।
খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর গোলাম রব্বানী এবং উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ সেখানে গেলে হলের গেইটে তাদের ঘিরে ধরে ভোট বাতিলের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে শিক্ষার্থীরা।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এক পর্যায়ে হলে পুলিশ ঢোকার চেষ্টা করলেও শিক্ষার্থীদের বাধায় তারা ফিরে যায়।হল সংসদ নির্বাচনের বিপুল পরিমাণ ব্যালট দেখিয়ে শিক্ষার্থীরা সাংবাদিকদের বলেন, আগের রাতেই এসব ব্যালটে ‘ক্রস’ দিয়ে ভোটের চিহ্ন দিয়ে রাখা হয়েছে। যেসব নামে ভোটের চিহ্ন দেওয়া হয়েছে সেগুলো ছাত্রলীগের হল প্যানেলের প্রার্থীদের।
ভোটে অনিয়মের ঘটনায় হলের ভারপ্রাপ্ত প্রাধ্যক্ষকে সরিয়ে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অনিয়মের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে চার সদস্যের একটি ‘তথ্যানুসন্ধান কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। এ ঘটনায় হলটিতে ভোট শুরু হয় তিন ঘণ্টা দেরিতে।সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদের দু’টি হল বাদে বাকি ১৬টি হলে সকাল ৮টা থেকে শুরু হয় ডাকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। এদিকে, রোকেয়া হলের ভোটগ্রহণ সকাল ৮টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা শুরু হয় এক ঘণ্টা পর। আবার দুপুর ১২টার দিকে রোকেয়া হল থেকে ব্যালট ভর্তি বাক্স উদ্ধারের পর ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। বিকেল ৩টার পর রোকেয়া হলে আবার ভোটগ্রহণ শুরু হয়। ওই হলের ভোটগ্রহণ সন্ধ্যা ৬টার পর শেষ হবে।
নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক আবদুল বাছির জানান, রোকেয়া হল ও বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের ভোট দেরিতে শুরু হওয়ায় হল দু’টোর ভোটগণনা শুরু হবে সন্ধ্যায়।এদিকে, ডাকসু নির্বাচনের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘প্রথমে আমি শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ দিই। তারা শান্তিপূর্ণভাবে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিয়েছে। আমি এটির ভূয়সী প্রশংসা করি।’ এ নির্বাচনের মাধ্যমে সামনের দিনগুলোতেও গণতান্ত্রিক রীতি-নীতি নতুন মাত্রায় এগিয়ে নেওয়ার অনুপ্রেরণা পাচ্ছেন বলে জানান তিনি।
তবে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ছাত্রলীগ ছাড়া ডাকসু নির্বাচনে অংশ নেওয়া সবগুলো ছাত্র সংগঠনের প্যানেলই নির্বাচন বর্জন করেছে। দুপুর ১টায় মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনের প্রতি ‘ঘৃণা’ জানিয়ে ডাকসু নির্বাচন প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেয় চার জোট। এসময় বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর দুই জোট ‘প্রগতিশীল ছাত্র জোট’ ও ‘সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ছাত্র ঐক্য’ লাগাতার ধর্মঘটের ডাক দেয়। বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা ঢাবি উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে ভিসির পদত্যাগ ও ফের ডাকসু নির্বাচন চেয়ে বিক্ষোভ করেন।
তবে ডাকসু নির্বাচন ঘিরে ছাত্রলীগের বিপক্ষে ষড়যন্ত্র হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ছাত্রলীগ। বিকেলে মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বলেন, ছাত্রলীগকে ঠেকাতে এবং নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করতে ছাত্র ইউনিয়নের লিটন নন্দী, কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নুর ও ছাত্রদলের অনিক একজোট হয়েছে ষড়যন্ত্র মঞ্চায়ন করেছে। বিভিন্ন জোটের পক্ষ থেকে নতুন করে ডাকসু নির্বাচনের দাবিকে হাস্যকর বলে আখ্যা দেন ছাত্রলীগ সভাপতি।




