এক মুঠো বালি ও এক বন্দী হাফেয
অন্ধকার রাতে পথ ভুলে একজন হাফেযে কুরআন তরুণ মুজাহিদ সেভিয়েত সৈন্যদের ক্যাম্পে গিয়ে উঠলো। লম্বা জামা গায়ে, মাথায় টুপি-একজন লোককে দেখেই ক্যাম্পের সেন্ট্রিরা তাকে ধরে নিয়ে গেল কর্ণেলের তাঁবুতে। মুজাহিদদের গুপ্তচর ভেবে হাফেয ছেলেটিকে অনেক জিজ্ঞাসাবাদ করলো। কিন্তু পথহারা এই তরুণের কাছে তারা উল্লেখযোগ্য কোন তথ্য না পেয়ে তার ওপর নির্যাতন শুরু করলো। এক পর্যায়ে ক্যাম্পটির ইন-চার্জ রুশ কর্ণেল এসে বললোঃ “এই ছোকরা শোন্! তোরা নাকি ‘বালি’ বা ‘কংকর’ ফুঁ দিয়ে নিক্ষেপ করলে তা বিস্ফোরিত হয়ে কমিউনিস্ট সৈন্যদের ট্যাংক, সাঁজোয়া গাড়ী, কামান ইত্যাদি পুড়ে যায়? যদি এটা সত্যি হয় তাহলে তোকে ছেড়ে দেয়া হবে, আর না পারলে মৃত্যু।”
হাফেয ছেলেটি বহুবার এমন অলৌকিক ঘটনার কথা শুনেছে, তবে কোনদিনই নিজে এমন করেনি। সীমাহীন শংকা ও দ্বিধা নিয়ে সে বললোঃ “আমাকে একটু ওযুর পানি দিন।”
নামাজ পড়ে সিজদায় হাফেয ছেলেটি কেঁদে-কেটে কাকুতি-মিনতি করে আল্লাহর কাছে দুয়া করলোঃ “আয় আল্লাহ! তোমার দুশমনেরা কুরআনের শক্তি দেখতে চায়। দেখতে চায় ইসলামের সত্যতা। তোমার পথের সৈনিকদের কারামত নাস্তিকরা মানেনা। তোমার কুদরত, কুরআনের শক্তি এবং ইসলামের সত্যতা তুমি প্রমাণ করো। আল্লাহ আমার প্রাণ নিয়ে আমি মোটেও চিন্তুিত নই। তোমার দীনের হুরমত, ইসলানের সৈনিকদের হজ্জত নিয়ে আমি চিন্তা করছি। আয় খোদা! তুমি তেমার কুদরত দেখাও। ইসলামকে-জিহাদকে-আফগান জাতিকে, আমার বুকে লুকানো ত্রিশ পারা কালামকে তুমি শরমিন্দা করো না।”
সিজদা থেকে মাথা তুললো হাফেয তরুণটি চোখে, তার অশ্রুর বন্যা, মুখে একটি প্রভাবময় বিশ্বাসের জান্নাতী দীপ্তি, ঠোঁটে উচ্চারিত হলো –
وَمَا رَمَيْتَ إِذْ رَمَيْتَ وَلَـكِنَّ اللّهَ رَمَى *
(ওয়ামা রামাইতা ইয রমাইতা ওয়ালা কিন্নালল্লাহা রমা)
“আর তুমি মাটির মুষ্ঠি নিক্ষেপ করনি, যখন তা নিক্ষেপ করেছিলে, বরং তা নিক্ষেপ করেছিলেন আল্লাহ স্বয়ং”। (সুরা আনফালঃ ১৭)
বড় বড় রুশ সামরিক অফিসার, শত শত কমিউনিস্ট আর্মি উৎসুক দৃষ্টি নিয়ে চেয়ে আছে এই মর্দে ফকিরের দিকে-সামনের খোলা মাঠে আঠারোটি ট্যাংক সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানো-হাতে একমুঠো বালি নিয়ে আল্লাহর নামে ছুঁড়ে মারলো অসহায় হাফেয ছেলেটি-বিস্ফোরিত হলো প্রতিটি বালিকণা-চুরমার হয়ে গেল সবগুলো ট্যাংক-দাউ দাউ করে জ্বলতে লাগলো রুশ সৈন্যবাহিনীর ক্যাম্প-ভয়াল শব্দে কেঁপে উঠলো পাহাড়ী উপত্যকার পাথুরে মাটি।
পরিস্হিতি দেখে দুইহাত তুলে আত্মসমর্পন করল কর্ণেলসহ সমস্ত ব্যাটেলিয়ান। নাস্তিক সৈন্যরা আল্লাহর জাজ্বল্য সাহায্য ও শক্তি দেখে সেভিয়েতপক্ষ ত্যাগ করে যোগ দিল আল্লাহওয়ালা মুজাহিদদের দলে। এক বিরাট সৈন্যবাহিনী সাথে নিয়ে মুজাহিদ ক্যাম্পে ফিরে এলো পথহারা এই বন্দী হাফেজ।
*
[ #সূত্রঃ “আফগানিস্তানে আমি আল্লাহকে দেখেছি”
#লেখকঃ মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী।]
*
#বিঃদ্রঃ “একজন ফরাশি জার্নালিস্ট আফগানিস্তান সফরে আল্লাহর কুদরতী সাহায্য, গায়েবী মদদ দেখে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেন। এরপর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেনঃ “আফগানিস্তানে আমি আল্লাহকে দেখেছি।” তাঁর এই ইমানী কথার অণুকরণেই লেখক এই কিতাবটির নামকরন করেন ও ‘ফিলিস্তীনের’ নাগরীক ও মুজাহিদ ‘তামিম আদনান’ এর বিভিন্ন সম্মেলনে বর্ণণাকৃত ঘটনার অণুবাদে উপরোক্ত সত্য ঘটনাটি সংগৃহীত হয়। আল্লাহ আমাদের বুঝ দান করুন। আমিন।।




