263245

যেভাবে এমপি হলেন এই দম্পতি তা জুলিয়াস সিজারের কাহিনীকেও হার মানাবে

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : ভিনি, ভিডি, ভিসি—এলাম, দেখলাম, জয় করলাম। কে? ইতিহাস পড়ুয়াদের ঠোঁটের আগায় থাকবে জবাবটা, জুলিয়াস সিজার। চার ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে প্রায় বিনা বাধায় পন্টুস রাজ্য দখলের পর রোমের সিনেটকে ওই তিন শব্দে জয়ের খবর জানিয়েছিলেন সিজার। এই ঘটনা খ্রিষ্টপূর্ব ৪৭ সালের। দুই হাজারেরও বেশি বছর পেরিয়ে প্রবাদে পরিণত হওয়া এই কথাটা মনে করিয়ে দিলেন লক্ষ্মীপুরের এই দম্পতি।

দীর্ঘ প্রবাসজীবন কাটিয়ে মাত্র বছর দুয়েক আগে দেশে ফেরেন কাজী শহীদ ইসলাম পাপুল ও সেলিনা ইসলাম দম্পতি। রাজনৈতিক অঙ্গন তো দূরের কথা, নিজের এলাকায় তেমন পরিচিতি ছিল না তাদের। কিন্তু দুবছরের মাথায় রাজনৈতিক অঙ্গনে এই দম্পতি বাজিমাত করেছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাপুল লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদর আংশিক) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী (আপেল প্রতীক) হিসেবে এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর এবার তার স্ত্রী সেলিনাও সংসদ সদস্য হতে যাচ্ছেন। জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে স্বতন্ত্র এমপিদের গ্রুপ থেকে তিনি এমপি নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন।

জানা যায়, কুয়েতে ব্যবসা করতেন কাজী শহীদ ইসলাম পাপুল। প্রবাস জীবন শেষ করে বছর দুয়েক আগে তাঁর নিজ গ্রাম লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে আসেন। একাদশ সংসদ নির্বাচনে পাপুল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে বিভিন্নভাবে লবিং করে ব্যর্থ হন। পরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন এবং বিজয়ী হন। এ আসনে মহাজোটের শরিক দল জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নোমানকে আবারও মহাজোট থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল কিন্তু নির্বাচনের ঠিক সপ্তাহখানেক আগে রহস্যজনক কারণে তিনি এলাকা থেকে উধাও হয়ে যান। জনশ্রুতি রয়েছে, স্বতন্ত্র প্রার্থী পাপলুর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ গ্রহণ করে নোমান আত্মগোপনে গিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। পরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের পরোক্ষ সমর্থন নিয়ে নির্বাচনী বিজয়ী হন পাপুল।

সংরক্ষিত (নারী) আসনে স্বতন্ত্র এমপিদের গ্রুপ থেকে শহীদ ইসলাম পাপুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। এ কোটায় তাঁরও সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া কেবল সময়ের ব্যাপার। সেলিনার পৈতৃক বাড়ি কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায়। তিনি কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। পাপুল-সেলিনা দম্পতি এমপি নির্বাচিত হওয়ায় তাঁদের সৌভাগ্যবান মনে করছেন সবাই। তাদের শুভাকাক্সক্ষীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিনন্দন জানিয়েছেন। আবার মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন অনেকে। কেউ বলছেন, অনন্য এক ইতিহাস গড়লেন এ দম্পতি। কেউ বলছেন, টাকা দিয়ে সৌভাগ্য কিনেছেন তারা। ত্যাগীরা বঞ্চিত হয়েছেন বলে কারও কারও ফেসবুক আইডিতে মন্তব্য করতে দেখা গেছে। লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু বলেন, লক্ষ্মীপুরের চার এমপির পাশাপাশি আমরা আরও একজন এমপি পেলাম। যিনি লক্ষ্মীপুরের বধূ।

ad

পাঠকের মতামত