শিক্ষকদের ভুলের কারণে পরীক্ষা দিতে পারলো না কিশোরী, অভিমানে আত্মহত্যার চেষ্টা
শিক্ষকদের ভুলে প্রবেশপত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে মায়ের নাম ভুল থাকায় দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি রুনা আক্তার নামে এক মাদ্রাসা ছাত্রী। এতে অভিমান করে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করে সে। কিন্তু পরিবারের লোকজন তা দেখে ফেলায় সে প্রাণে রক্ষায় পেয়ে যায়।আজ শনিবার চাঁদপুর সদর উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে। উপজেলার লক্ষীপুর মডেল ইউনিয়নের বহরিয়া গ্রামে নিজ বাড়ির কক্ষে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায় রুনা। তার বাবা নুরু মোল্লা এ ঘটনায় চাঁদপুর মডেল থানা ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
জানা গেছে, চাঁদপুরের লক্ষীপুর মডেল ইউনিয়নের মোহাম্মদীয়া দাখিল মাদ্রাসার ছাত্রী রুনা আক্তার এবারের দাখিলের (এসএসসি ও সমমান) পরীক্ষার্থী ছিল। পরীক্ষার প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে তার বাবার নাম ঠিক থাকলেও প্রতিষ্ঠানের ভুলের কারণে তার মায়ের নাম পরিবর্তন হয়ে যায়। এতে করে রুনার প্রবেশপত্র চলে যায় দিনাজপুর জেলায়। পরীক্ষার আগে এই সমস্যার সমাধান করতে না পারায় পরীক্ষায় বসতে পারেনি সে।রুনার বাবা নুরু মোল্লা জানান, বান্ধবী ও অন্যান্য শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রবেশপত্র আসলেও রুনার প্রবেশপত্র আসেনি। এদিকে সকালে সে তার বান্ধবীদের পরীক্ষা দিতে যেতে দেখে অভিমান করে ঘরে চলে যায়। পরে নিজ ঘরেই আত্মহত্যা করার চেষ্টা করে রুনা। তবে তার মা ও পরিবারের অন্যান্যরা এ ঘটনা দেখে ফেলায় রুনার চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
এ ব্যাপারে খবর চাউর হলে মোহাম্মদীয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার আহসান উল্যাহ পালিয়ে যান। তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে মুঠোফোনে কল করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।রুনার মামা ওমর ফারুক আমাদের সময়কে জানান, মোহাম্মদীয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার আহসান উল্যাহ দায়িত্বে অবহেলার কারণে তার ভাগনী এবার পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি। কিন্তু পরীক্ষার আগে মাদ্রাসার দাবিকৃত ৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন তারা।এ ব্যাপারে চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কানিজ ফাতেমা জানান, শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না পারার কারণ তদন্ত করে ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




