255889

কী রহস্য লুকিয়ে আছে ‘জাহান্নামের দরজায়’?

জাহান্নামের চৌরাস্তায় আছি কথাটা হরহামেশাই বলি। দরজাটা অচেনা বলেই হয়তো এর চৌরাস্তায় এসে ঘুরপাক খাওয়া হয়। কিন্তু এর দরজাটার ঠিকানা যদি দেওয়া হয় তা হলে বাস্তবে তো নয়ই, কল্পনায়ও কেউ জাহান্নামে যেতে চাইবে না। কারণ এর ভয়াবহতা সম্পর্কে সবাই যথেষ্ট শুনেছে।তবে কেউ যদি জীবিত অবস্থায় সত্যিই ‘জাহান্নামে’ যেতে চান, তাকে আপাতত তুর্কমেনিস্তানে পাঠিয়ে দিন। সেখানে জাহান্নাম তার দরজা খুলে অপেক্ষা করছে।ধূ ধূ মরুভুমির মধ্যে রহস্যময় এক গভীর গর্ত। কোনো আগ্নেয়গিরির জালামুখ না হয়েও টানা ৫০ বছর ধরে সেখানে জ্বলছে আগুন। এ কারণে রহস্যময় এই অগ্নিকুণ্ডের নাম হয়ে গেছে গেট অব হেল বা জাহান্নামের দরজা।

তুর্কমেনিস্তানের রাজধানী আশগাবাদ থেকে কিছুটা দূরেই এই জাহান্নামের দরজার অবস্থান। ১৯৭১ সালে ভূতত্ত্ববিদরা এখানে প্রাকৃতিক গ্যাস নিষ্কাশনের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছিলেন। কিন্তু তাদের খোঁড়াখুঁড়ির ফলে সেখানে তৈরি হয় বিশাল এক ক্রেটার বা গর্ত। গর্তটি থেকে যেন কোনো বিষাক্ত গ্যাস বেরিয়ে না আসে সেজন্যে সেখানে আগুন ধরিয়ে দেয় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। সেই আগুন নেভেনি আজও।বিজ্ঞানীরা বলছেন, সালফার, মিথেনসহ বেশ কিছু গ্যাসের কারণেই জ্বলছে এই আগুন। কিন্তু সেই গ্যাসের উৎসমুখ কোথায় সে প্রশ্নের কোনো উত্তর মেলেনি।

এই জাহান্নামের দরজাই এখন তুর্কমেনিস্তানের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্রে পরিনত হয়েছে। আশগাবাদের পার্শ্ববর্তী এলাকার আয়ের অন্যতম উৎসও এই জাহান্নামের দরজা। ২০১০ সালে তুর্কমেনিস্তানের প্রেসিডেন্ট গুরবানগুলি বের্দিমুহামেদো এটি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু পর্যটকদের প্রবল উত্সাহের কারণে ওই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বাধ্য হয় সরকার।

ad

পাঠকের মতামত