253615

৯ বছরে হাফেজ হলো ২ শিশু

পবিত্র কোরআন শুধু আল্লাহতায়ালার প্রেরিত একটি গ্রন্থ নয়, বরং এটা একটা বড় নির্দশনও বটে। আল্লাহতায়ালা কোরআনে কারিম নাজিল করার সঙ্গে সঙ্গে সংরক্ষণ করারও দায়িত্ব নিয়েছেন নিজে। সৃষ্টিকর্তা আল্লাহতায়ালা কোরআনে কারিমকে বিভিন্নভাবে সংরক্ষণ করছেন এবং কেয়ামত অবধি তা সংরক্ষণ করবেন। কোরআন সংরক্ষণের অন্যতম একটি মাধ্যম হচ্ছে- মানুষের মাধ্যমে কোরআন মুখস্থ করা। যাকে আমরা হিফজ বলি।

পৃথিবীতে যত ধর্মগ্রন্থ আছে তন্মধ্যে কেবল কোরআনই মুখস্থ করা হয়। তাই পৃথিবীতে অসংখ্য অগণিত কোরআনের হাফেজ বিদ্যমান। আরও আশ্চর্যের বিষয় হলো- কোরআন হেফজ করার সময়। কেউ এই মহাগ্রন্থ এত অল্প সময়ে মুখস্থ করে ফেলে যে, তার রীতিমতো বিস্ময়ের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। সম্প্রতি এমনি বিস্ময় সৃষ্টি করে ৯ বছর বয়সে পবিত্র কোরআন হিফজ (মুখস্থ) করেছে দুই শিশু।

শারীরিকভাবে দুর্বল ও অসুস্থ একটি ছেলে মাত্র ২ মাস ৫ দিনে পুরো কোরআন মুখস্থ করেছে ‘হাফেজ’ খেতাব অর্জন করেছে। এই কীর্তিমান হাফেজ ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর কওমি কেরাতুল মাদরাসার শিক্ষার্থী। ৯ বছর বয়সী এই কৃতি ছাত্রের নাম আহমাদ তাইমিয়া। সে কোটচাঁদপুর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের আসলাম হোসেনের ছেলে। এমন মেধাবী শিশু কীর্তি নিয়ে এলাকায় চলছে তুমুল আলোচনা। অনেকে এই শিশু হাফেজে কোরআনকে দেখতেও আসছেন।

অল্পসময়ে কোরআন মুখস্থ করা প্রসঙ্গে কোটচাঁদপুর কওমি কেরাতুল মাদরাসার পরিচালক মুফতি ইবরাহিম খলিল জানান, ২ বছর আগে শিশু তাইমিয়া এই মাদরাসায় ভর্তি হয়। সেখানে নার্সারি ও প্রথম শ্রেণি শেষ করে। এর পর গত বছরের জুলাই মাসে কোরআনে কারিম পড়া শুরু করে। প্রথমে সহিহ-শুদ্ধভাবে দেখে দেখে কোরআন তেলাওয়াত শেখা শেষে কোরআন শরিফ মুখস্ত শুরু করে শুরু করে। গত ১৯ জানুয়ারি তার ৩০ পাড়া কোরআন মুখস্ত শেষ হয়। মাদরাসার পরীক্ষা, ছুটি বাদ দিয়ে মাত্র ৬৫ দিনে তাইমিয়া কোরআনে কারিমের হাফেজ হয়েছেন।

মুফতি ইবরাহিম আরো বলেন, আমাদের প্রত্যাশা- আল্লাহতায়ালা তাকে দ্বীনের জন্য কবুল করবেন।শিশু হাফেজ তাইমিয়ার পিতা আসলাম হোসেন বলেন, আমার আশা ছিল ছেলেকে কোরআনের হাফেজ বানানোর। আমার সেই আশা পূরণ হয়েছে। তাইমিয়ার বাবা ও তার পরিবারের ইচ্ছা সে যেন বড় আলেম হয়।এদিকে ১২০ দিনে (৪ মাস) কোরআন শরীফ মুখস্ত করলো আব্দুর রহীম। ৯ বছর বয়সের এই এতিম শিশুটি কক্সবাজার খানকায়ে হামেদিয়া এতিমখানা ও হেফজখানার ছাত্র। কক্সবাজারের টেকনাফের মধ্যম হ্নীলা গ্রামের মরহুম নুরুল আজিমের পুত্র সে। ২ ভাই ২ বোনের মধ্যে আব্দুর রহীম তৃতীয়।

শিশু হাফেজ আব্দুর রহিমের পিতা নুরুল আজিম চার বছর আগে সাগর পথে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় নৌকাডুবির ঘটনায় মারা যায়। মা ফাতেমা বেগমের বিয়ে হয়ে অন্যত্র। তাই এতিমখানায় মানুষ হচ্ছে শিশুটি। বাবার মৃত্যু ও মায়ের অন্যত্র বিয়ে হয়ে যাওয়ায় অনেকটা কুলহীন হয়ে পড়ে আব্দুর রহীম। এরপর দাদা-দাদীর কাছে থাকতে শুরু করে সে। দাদা ইউছুপ ও দাদী সারা খাতুনের তত্ত্বাবধানে ভর্তি হয় কক্সবাজার সদর হাসপাতাল সড়ক সংলগ্ন খানেকায়ে হামেদিয়া এতিমখানা ও হেফজ খানায়।

প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক হাফেজ নাজমুল কামাল জানান, আব্দুর রহীম খুবই মেধাবী ও শান্ত ছেলে। এক বৈঠকেই পুরো তিরিশ পারা কোরআন শরীফ শুনিয়েছে সে। এতিমখানার পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব তাকে সহযোগিতা করা হয়। তিনি বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা, অভিভাবকত্ব না পেলে মেধাবী শিশুটির পড়ালেখা ও ভবিষ্যত জীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।এ প্রসঙ্গে এতিম খানার তত্ত্বাবধায়ক সালাহ উদ্দিন আহমদ জানান, আব্দুর রহীমের পড়ালেখার বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আছে। তবে শিক্ষানুরাগী বিত্তবানরা তার পড়ালেখার সহযোগিতায় এগিয়ে এলে আমরা স্বাগত জানাব।হাফেজ আব্দুর রহীম বড় হয়ে ইসলামের একজন দাঈ ও খ্যাতনামা আলেম হতে চায়। সে সকলের দোয়া চায়।

ad

পাঠকের মতামত