249394

বাবা-মাকে তাড়িয়ে ‘কাশেম কটেজে’ কাওসারের রামলীলা

ফেনীতে ভালবাসার ফাঁদে ফেলে বিয়ের প্রলোভনে আড়াই মাস ঘরে আটকে রেখে চার তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগে মুল আসামী কাওসার বিন কাশেম নিলয়কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।গত শুক্রবার (১১ জানুয়ারি) বিকেলে শহরের রামপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।তাকে গ্রেপ্তারের পর বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। বাবা-মাকে তাড়িয়ে বাড়ি দখল করে ইয়াবা ও রমরমা দেহ ব্যবসা করছিলেন কাওসার।গত ৭ জানুয়ারি সোমবার ওই বাড়ি থেকে চার তরুণীকে উদ্ধারের পর এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে। এদিকে এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১০ জানুয়ারি) রাতে শহরের রামপুর এলাকা থেকে মো. ছোটন নামে আরো এক আসামীকে গ্রেপ্তার করেছিলো পুলিশ। এনিয়ে এ মামলায় মোট চার আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, ফেনী শহরের রামপুর সৈয়দ বাড়ি লেনের ‘কাশেম কটেজের’ মালিক আবুল কাশেম। চার ছেলের মধ্যে বড় ছেলে ইতালি, মেঝ ছেলে স্ত্রী হত্যার দায়ে কারাগারে, কাওসার ও তার ছোট ভাই দুইজন ইয়াবা ও নারী ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে যায়। একপর্যায়ে দুই ভাই বৃদ্ধ বাবা-মাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। নিরুপায় হয়ে তারা শহরের পাঠান বাড়ি এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকে। বাবা-মা চলে যাওয়ার পর বিভিন্নস্থান থেকে তরুণীদের এনে তারা দেহ ব্যবসা করে। এখানে ফেনী শহরের অনেক নামিদামি লোকদের আনাগোনা রয়েছে বলে জানা যায়।

জানা যায়, কাওসার বিয়ের কয়েক বছর পর তার স্ত্রীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। এরপর থেকে সে নেশার জগতে প্রবেশ করে। বাবা-মাকে তাড়িয়ে দেয়ার পর বিভিন্নস্থান থেকে তরুণীদেরকে এনে ৬ মাস ধরে দেহ ব্যবসা করে। রাজধানীর মিরপুর এলাকার ১০নং মোল্লা ভিলার বাসিন্দা মো. মোজাম্মেল হকের কলেজ পড়ুয়া মেয়ে প্রিয়ার সঙ্গে পরিচয় হয় তার। প্রিয়ার মাধ্যমে ফাতেমাসহ আরও দুই তরুণীকে এনে দেহ ব্যবসা করে কাওসার। এর কয়েকদিন পর কৌশলে প্রিয়া পালিয়ে যায়। ওই তরুণীদের বাসায় বন্দি রেখে ইয়াবা ও দেহ ব্যবসা চালায়। নির্বাচনের পর লোকজন না আসায় তাদের মারধর করে কাওসার। তাদের কান্নার শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন পুলিশকে খবর দেয়।

মামলার বরাত দিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা ফেনী শহর পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শাহজাহান জানান, জানায়, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রেমের প্রলোভন দিয়ে ফুঁসলিয়ে চার তরুণীকে এনে ফেনী শহরের রামপুর এলাকায় একটি বাসায় আটকে রাখে কাওসার বিন কাসেম নামে এক যুবক। দীর্ঘ আড়াই মাস ধরে কাওসার নিজেও তাঁর সহযোগীরা ওই তরুণীদের সাথে জোরপূর্বক যৌন সম্পর্ক করতো। এসময় ওই তরুণীরা অসামাজিক কাজে অসম্মতি জানালে তাদেরকে সিগারেটের ছ্যাঁকা, বৈদ্যুতিক শর্ট ও মারধর করে বিভিন্নভাবে নির্যাতন চালানো হতো।

স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ গত সোমবার ওই ঘর থেকে বন্দি অবস্থায় নির্যাতিত চার তরুণীকে উদ্ধার করে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বাসার মালিক কাওসারসহ নির্যাতনকারীরা পালিয়ে যায়। এসময় ওই বাসার বিভিন্ন কক্ষ থেকে ৫৩ পিস ইয়াবা বড়িসহ মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম ও নির্যাতনের আলামত জব্দ করে পুলিশ।এ ঘটনায় উদ্ধার এক তরুণী বাদি হয়ে কাওসার বিন কাসেম সহ অজ্ঞাতনামা কয়েক জনকে আসামি করে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করে। পরদিন ফেনী জেলা সদর হাসপাতালে চার তরুণীর শারীরিক পরীক্ষা শেষে আদালতে ‘২২ ধারায়’ তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

এদিকে চার তরুণী উদ্ধারের ঘটনায় ধর্ষন মামলা ছাড়াও ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দের ঘটনায় থানায় আরো একটি মামলা হয়েছে।এসআই শাহজাহান আরো জানান, মামলার মূলহোতা কাওসারসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপর আসামিদের গ্রেফতার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়াও কাওসারকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আদালতে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।

ad

পাঠকের মতামত