জামালপুরে শিক্ষককে অপহরণ, জোরপূর্বক নারীর সাথে ছবি তুলে ২০ লাখ টাকা দাবি পুলিশের
নিউজ ডেস্ক।। জামালপুরে নিজ বাসায় যাওয়ার পথে এক স্কুল শিক্ষককে রাস্তা থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে জোরপূর্বক এক নারীর সাথে অশ্লীল ছবি তুলে ২০ লাখ টাকা দাবির ঘটনায় বুধবার পুলিশের দুই কনস্টেবলকে ক্লোজড করা হয়েছে। তারা হলেন, পুলিশের কনস্টেবল মো. নকিব ও মো. আনোয়ার হোসেন। ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার রাতে শহরের সর্দারপাড়া এলাকায়। ঘটনার দিন রাত দেড়টায় ডিবি কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করলে বুধবার তাদেরকে ক্লোজ করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সুত্র জানায়, মেলান্দহ চরপলিশা জাহানারা লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক নাজির হোসেন শহরের সর্দারপাড়া থেকে পশ্চিম নয়াপাড়া নিজ বাড়িতে যাচ্ছিলেন। পথরোধ করে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে শিক্ষক নাজির হোসেনকে আটক করে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে কনস্টেবল নকিবের সর্দাপাড়ার ভাড়া বাসায় নিয়ে যায়।
সেখানে পুর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক দেহ ব্যবসায়ী এক নারীর সাথে বিব্রস্ত্র অবস্থায় মোবাইল ফোনে অশ্লীল ছবি তুলে। এরপর তারা ছবি দেখিয়ে ২০ লাখ টাকা দাবি করে। না দিলে ক্ষতি হবে বলে হুমকি দেয়া হয়। এ নিয়ে ৬ ঘণ্টা আটক রেখে টাকা আদায়ে দেন দরবার চলে। এক পর্যায়ে কৌশলে শিক্ষক নাজির হোসেন দুই লাখ টাকা দিতে রাজি হয়ে রাত ১২টায় ওই বাড়ি থেকে বের হয়ে ফোনে আত্বীয় স্বজনদের জানান। টাকা নিতে শিক্ষক নাজির হোসেনকে নিয়ে পাঁচরাস্তা মোড়ে গেলে লোক সমাগম দেখে দুই পুলিশ পিছন থেকে সটকে পড়েন। বিষয়টি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ চৌধুরীকে জানালে ওই শিক্ষককে সাথে নিয়ে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে যান। সেখানে ভুক্তভুগি শিক্ষক দুই কনস্টেবল ও অজ্ঞাত নারীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করে বিচার দাবি করেন।
পরে রাতেই ডিবি পুলিশের ওসি মো. সালেমুজ্জামান ও সদর থানার ওসি মো. নাছিমুল ইসলাম কনস্টেবল নকিব ও আনোয়ার হোসেনকে শনাক্ত করতে সক্ষম হন। দুইজনের মধ্যে নকিব কিছুদিন ডিবিতে ছিলেন, ইতোপুর্বে এমনই অপরাধ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বর্তমানে পুলিশ লাইনে ক্লোজড রয়েছে। তার সহযোগী কনস্টেবল আনোয়ার হোসেন জামালপুর কোর্টে কর্মরত আছেন। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ চৌধুরী রাতে ডিবি কার্যালয়ে যাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, নিরীহ একজন শিক্ষককে হয়ারানি করার কথা শুনে গিয়েছিলাম। আমি এ ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বলেছি।
ডিবির ওসি মো. সালেমুজ্জামান বলেন, অভিযুক্তরা ডিবির কেউ না। ডিবির পরিচয় দিয়েছে। জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. বছির উদ্দিন বলেছেন, শিক্ষক নাজির হোসেনের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। প্রাথমিকভাবে ওই দুই পুলিশ কনস্টেবলকে পুলিশ লাইন্সে ক্লোজড করা হয়েছে। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। উৎস: বিডি-জার্নাল।




