246540

সুবর্ণচরে গৃহবধূকে গণধর্ষণ: হাটহাজারীতে গ্রেফতার ১

নিউজ ডেস্ক।। নোয়াখালীর সুবর্ণচরে আওয়ামী লীগ-যুবলীগের সন্ত্রাসীরা সিএনজিচালক স্বামী, ছেলের হাত বেঁধে ও কন্যাশিশুকে পিটিয়ে আহত করে তাদের সামনে গৃহবধূকে গণধর্ষণের ঘটনায় আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার নাম মো. জসিম উদ্দিন (৩৫)। শুক্রবার ভোর সাড়ে ৭টার দিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার নাজিরহাটে অভিযান চালিয়ে নোয়াখালীর চরজব্বার থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল তাকে গ্রেফতার করে। জসিম সুবর্ণচরের চরজুবলী ইউনিয়নের মধ্যম বাগ্যা গ্রামের মোতাহের হোসেনের ছেলে। জসিম পেশায় একজন কলা বিক্রেতা বলে জানান চরজব্বার থানার ওসি নিজাম উদ্দিন।

চরজব্বার থানায় দায়ের করা মামলার এজাহারে বলা হয়, মামলার এজাহারে মোট ৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ওই ঘটনার মূলহোতাসহ মোট ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে একজন সাবেক ইউপি সদস্য ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মী এবং চারজন ইটভাটা শ্রমিক। জসিম উদ্দিন ছাড়া অপর পাঁচজন হলেন- একই এলাকার খোরশেদের ছেলে সুবর্ণচর ইউপি সদস্য রুহুল আমিন (৩৩) আবুল কাশেমের ছেলে বেছু (২৮), আবদুল মন্নানের ছেলে ও আওয়ামী লীগকর্মী স্বপন (৩০), একই এলাকার আহাম্মদ উল্লাহর ছেলে বাদশা আলম (৩৫) এবং একই গ্রামের ইসমাইলের ছেলে আওয়ামী লীগকর্মী মো. সোহেলকে (৩৫)।

ধানের শীষে ভোট দেয়ার জের ধরে রোববার রাত ১১টার দিকে সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবলি ইউনিয়নের মধ্যম বাগ্যা গ্রামে সিএনজি অটোরিকশাচালকের স্ত্রী (৪০) গণধর্ষণের শিকার হন। এ সময় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের সন্ত্রাসীরা গৃহবধূর স্বামী, ছেলে ও মেয়েকে পিটিয়ে আহত করে। ঘটনার পরপরই গোপনে গৃহবধূ ও আহতদের নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালে গৃহবধূর দাবি, নৌকার সমর্থকদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার জেরে তিনি ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। তবে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা এ ঘটনার সঙ্গে দলীয় সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এলাকাবাসী জানান, নোয়াখালী-৪ (সদর ও সুবর্ণচর) আসনে বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ শাহজাহানের ধানের শীষ প্রতীকে রোববার সকাল ১০টায় ভোট দেন ওই গৃহবধূ। এ কারণে আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়। এরপর ওই দিন রাত ১১টার দিকে গৃহবধূর বাড়িতে প্রবেশ করে তারা তিনজনকে মারধর এবং বেঁধে রেখে গৃহবধূকে গণধর্ষণ করে। এরপর ঘটনাটি কাউকে না বলতে এবং মামলা না করতে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তারা পালিয়ে যায়। ঘটনার পর গৃহবধূ ও আহতদের গোপনে গভীর রাতে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সোমবার রাতে হাসপাতালের গাইনি বিভাগের চিকিৎসক মমতাজ বেগম, সিনিয়র নার্স সাজেদা বেগম যুগান্তরকে জানান, গৃহবধূকে ধর্ষণ করার আলামত পাওয়া গেছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ ঘটনা মঙ্গলবার যুগান্তরের শেষ পৃষ্ঠায় ও বুধবার দ্বিতীয় পাতায় প্রকাশিত হয়। এ ঘটনায় একই গ্রামের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য রুহুল আমিন, মোশাররফ হোসেন, বাদশা, সোহেল, হেঞ্জু, সোহেল, বেছু, জসিম, স্বপন, মো. হানিফ, আবুল, আনোয়ার, আমির হোসেনসহ ১২ জনকে আসামি করে গৃহবধূর স্বামী প্রথমে থানায় অভিযোগ এবং পরে মামলা করেন।

ad

পাঠকের মতামত