224048

নিরাপত্তা চেয়ে এক বছর আগে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন সুবর্না

নিউজ ডেস্ক।। বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের পাবনা প্রতিনিধি সুবর্ণা নদী দুর্বৃত্তদের হামলায় খুন হওয়ার এক বছর আগেই জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন। গত বছর ২২ জুলাই পাবনায় এবং ৩ অক্টোবর ঢাকায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন তিনি।

ওই সময় তিনি স্বামী রাজীব হোসেন ও শ্বশুর আবুল হোসেনের হাত থেকে বাঁচতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা চেয়েছিলেন। পাবনায় সংবাদ সম্মেলন করে সুবর্ণা নদী বলেছিলেন, স্বামী রাজীব হোসেন ও শ্বশুর আবুল হোসেনের ভাড়াটিয়া গ্রন্ডাবাহিনী তাকে নির্যাতন ও হত্যার চেষ্টা করছে। ২০১৬ সালের ৬ জুন পাবনার শহরের রাজীব হোসেনের সাথে ৫ লাখ ১ টাকা দেনমোহর ধার্য করে বিয়ে হয় তার। একপর্যায়ে তার কাছে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে স্বামী। দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় তাকে প্রচন্ড মারধর করে। ২০১৭ সালের ৩১ মে স্বামী তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। ৪ জুন পাবনা সদর থানায় নারী-শিশু ও যৌতুক আইনে মামলা করেন তিনি। এছাড়া পাবনা জজ কোর্টে যৌতুক মামলা করেন।
বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সুবর্ণা বলেছিলেন, মামলা করার পর তার শ্বশুর-শাশুড়ি ও স্বামী প্রচন্ডভাবে তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে সব মামলা তুলে নেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ ও হুমকি প্রদর্শন করছেন। মামলা তুলে না নিলে আমাকে জানে মেরে ফেলার হুমকিও দেয়া হচ্ছে। রাস্তায় ভাড়াটিয়া গুন্ডা দিয়ে গলায় চাকু ধরে মামলা তুলে নেয়ার জন্য শাসিয়েছে। এ অবস্থায় তিনি ভয়ে পাবনা ছেড়ে ঢাকায় পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এ মামলার কারণেই সুবর্ণাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন নদীর বড় বোন চম্পা খাতুন।

নদীর বোন চম্পা খাতুন বলেন, আমার বোন মৃত্যুর আগে আমাদের বলে গেছেন, তার সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে গত বছরের ৪ জুন থানায় একটি মামলা করেছিল। মামলাটি আদালতে বিচারাধীন। ঘটনার দিন আদালতে শুনানি শেষে সাবেক স্বামী রাজীবের লোকজন নিশ্চিত ছিলেন যে তারা মামলায় হেরে যাবেন। আর এই কারণেই সুবর্ণা নদীকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

সুবর্ণা নদী আনন্দ টিভির পাবনা প্রতিনিধির পাশাপাশি অনলাইন পোর্টাল দৈনিক জাগ্রত বাংলার সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন। রাজীবের সঙ্গে বিয়ের আগেও তার আরেকটি বিয়ে হয়েছিল। সেই ঘরে তার একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। সুবর্ণা নদী পাবনা জেলার আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ড গ্রামের মৃত আইয়ুব আলীর মেয়ে।

ad

পাঠকের মতামত