মি-টু আন্দোলন : ধর্ষণের অভিযোগ বিশ্বকাঁপানো সেই অভিনেতার বিরুদ্ধেই
আন্তর্জাতিক ডেস্ক।। আসিয়া আর্জেন্টো। ইতালির প্রখ্যাত অভিনেতা। বিশ্ব নাড়িয়ে দেওয়া ‘মি-টু’ আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা। হলিউডের প্রযোজক হার্ভি উইনস্টাইন তাকে ধর্ষণ করেছিলেনÑ এ কথা প্রকাশ করে ওই মিডিয়া মোগলের ক্যারিয়ারই ধসিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। এখন সেই প্রতিবাদী, ধর্ষণবিরোধী নেতার বিরুদ্ধেই যৌন কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছে। চলচ্চিত্রে তার সঙ্গে কাজ করা মার্কিন এক তরুণ অভিনেতা জিমি বেনেট বলেছেন, অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়া সত্ত্বেও তার সঙ্গে আর্জেন্টো সঙ্গম করেছেন এবং বছর পাঁচেক আগের ওই দুঃস্মৃতি তার পেশাজীবনে খারাপ প্রভাব ফেলেছে বলে মন্তব্য করেছেন বেনেট।
এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস এ খবর দিয়েছে। আর্জেন্টোর বয়স এখন ৪২ বছর। বেনেটের ২২। ওই যৌন হেনস্তার ঘটনা ২০১৩ সালের। তখন বেনেটের বয়স ছিল ১৭ বছর। ক্যালিফোর্নিয়ার একটি হোটেলে তার সঙ্গে সঙ্গম করেন আর্জেন্টো। মার্কিন ওই রাজ্যের আইন অনুযায়ী যৌনকর্মে সম্মতির ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর।
নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে যেন যৌন হামলার অভিযোগ না করা হয়, সে জন্য রকসংগীত তারকা বেনেটকে ৩ লাখ ৮০ হাজার ডলার দিয়েছিলেন আর্জেন্টো। বেনেট তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়ার পর আর্জেন্টো এই অর্থ দেন। চুপ থাকার চুক্তিটি এ বছরের এপ্রিল মাসে চূড়ান্ত করা হয় বলে টাইমসের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়।
২০০৪ সালে একটি ফিল্মে আর্জেন্টো ও বেনেট অভিনয় করেন। ‘দ্য হার্ট ইজ ডিসিটফুল অ্যাবোভ অল থিংস’ নামের ওই ফিল্মে শিশু চরিত্রে অভিনয় করেন বেনেট, যখন তার বয়স আট বছর। শিশু বেনেটের পতিতা মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেন আর্জেন্টো।
যৌন নির্যাতনের বিষয়ে কথা বলার জন্য চেষ্টা করেও আর্জেন্টোকে পায়নি নিউইয়র্ক টাইমস। আর বেনেটের পক্ষে একটি সূত্র জানিয়েছে, এ অভিনেতা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চান না। তবে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, আদালতে দাখিল করা বিভিন্ন কাগজপত্র তাদের কাছে রয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে আর্জেন্টো ও বেনেটের বিছানায় তোলা একটি সেলফি।
হার্ভির বিরুদ্ধে আর্জেন্টোর অভিযোগ, ১৯৯৭ সালে এই প্রযোজক তাকে ধর্ষণ করেন, যখন আর্জেন্টোর বয়স ছিল একুশ বছর। এর পরও ভয়ে দীর্ঘসময় তিনি বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন। আর্জেন্টো ছাড়াই তিন নারীকে যৌন হেনস্তা করায় অভিযুক্ত হয়েছেন হার্ভি।
২০১৭ সালের অক্টোবরে হ্যাশট্যাগ মি-টু আন্দোলন ভাইরাল হয়ে যায় সারাবিশ্বে। ‘নীরবতা ভেঙে দেওয়া’ এই আন্দোলন টাইম সাময়িকীর বর্ষসেরা ব্যক্তিত্ব ২০১৭ হিসেবে বিবেচিত হয়।




