222526

এমনও হয় কোন বাবা, একহাজার টাকার জন্য সন্তান বিক্রি!

প্রতিটি মা-বাবার কাছে সন্তান মানে একটি সুন্দর অনাগত দিনের স্বপ্ন। যে স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরে শরীরের রক্ত পানি এবং জীবন যৌবন মাটি করে সংগ্রাম করতে হয় মা-বাবাকে।

আর কেনইবা হবেনা? তাদের কাছে এক একটি সন্তান হচ্ছে কলিজার টুকরা, শ্রেষ্ট ধন। একজন মা দশ মাস দশ দিন গর্ভে ধারণ করে সন্তান প্রসব করেন। আর সেই সন্তানের একটি নিশ্চিত ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেন বাবা।

এক সময় সন্তান বড় হয়; বিস্তৃত হয় তাদের পৃথিবী। বেঁচে থাকার ইচ্ছেটাও ক্রমেই প্রবল হতে থাকে। কিন্তু সেই জন্মদাতা বাবাই কিনা নিজেদের কলিজার টুকরাকে অন্যের হাতে তুলে দিয়েছেন টাকার বিনিময়ে!

শুনতে অবিশ্বাস্য হলেও সত্য এ ঘটনাটি ঘটেছে সম্প্রতি কক্সবাজারের চকরিয়ায়। বাবা নামের পাষণ্ড মানুষটি মাদকের সর্বনাশা নীল ছোবলে নিজের হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে মাত্র একহাজার টাকার জন্য দেড় বছরের ফুটফুটে কন্যা সন্তানকে বিক্রি করে দেন।

এদিকে একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে পাগল প্রায় মা। মনে হতো তার কান্নার শব্দে আকাশ ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। এভাবে একদিন-দুদিন করে টানা এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও বুকের ধনকে না পেয়ে নিজেই হন্যে হয়ে খুঁজতে নেমেছিলেন।

অবশেষে লোক মুখে শুনে নিজের দেয়া তথ্য পেয়ে বুক থেকে সন্তান হারানোর আট দিন পর মহেশখালী উপজেলার শাপলাপুরের বারিয়াপাড়ার এক ব্যক্তির কাছ থেকে শিশু জান্নাতুল মেহেরাজকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরে জানা যায়, নেশার টাকার জন্য সন্তানকে নিজের স্বামীই ওই ব্যক্তির হাতে তুলে দিয়েছিলেন।

এ ঘটনায় অভিযোগ পেয়ে বাবা রেজাউল করিমকে ধরতে অভিযানে নামে পুলিশ। এক পর্যায়ে অভিযানে সফলও হয় তারা। পাষণ্ড ওই মানুষটি গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সঙ্গে ৩৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটও উদ্ধার করে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

জানতে চাইলে রেজাউল করিমের স্ত্রী রাবেয়া বলেন, আমার বাপের বাড়ি পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাজারপাড়ায়। আট দিন আগে আমি অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করতে গেলে অজান্তে কোলের শিশু জান্নাতুল মেহেরাজকে চুরি করে নিয়ে যায় মাদকাসক্ত স্বামী রেজাউল। এরপর অনেক খোঁজাখুঁজি করেও পাচ্ছিলাম না বুকের ধনকে।

হঠাৎ বৃহস্পতিবার বিকেলে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে খবর পাই শিশুটিকে মহেশখালীর শাপলাপুরের বারিয়াপাড়ায় এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। রেজাউল ওই ব্যক্তিকে জানিয়েছিল, সে চলার পথে শিশুটিকে কুড়িয়ে পায়। তার কথা বিশ্বাস করে ওই ব্যক্তি শিশুটিকে হেফাজতে নেন, বিনিময়ে রেজাউলকে হাজারখানেক টাকা দেন। ওই টাকা দিয়ে ইয়াবা কিনে সেবন করছে রেজাউল।

তখন স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পুলিশের কাছে গিয়ে বিস্তারিত জানাই। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে রেজাউলকে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করে। আট দিন পর গতকাল শুক্রবার সকালে পুলিশের সহায়তায় কোলের শিশুটিকে উদ্ধার করে নিয়ে আসি।

চকরিয়া পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. বশিরুল আইয়ুব বলেন, নিজের সন্তানকে কোনো বাবা এভাবে অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার ঘটনা নজিরবিহীন। বিষয়টি জানার পর তাত্ক্ষণিক শিশুটিকে উদ্ধার এবং মাদকাসক্ত রেজাউলকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশকে সহায়তা দিই। এ সময় বেশ কিছু ইয়াবা ট্যাবলেটও রেজাউলের কাছ থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।

থানার ওসি মো. বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, মাদকাসক্ত রেজাউলের নিজের সন্তান চুরি করে বিক্রির ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় রেজাউলের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ad

পাঠকের মতামত