221976

‘ঢাকার এক অংশ লিখে দিলেও ছাত্ররা বদলাবে না’

ট্রাফিক, সার্জেন্টকে ৫০-১০০ টেকা দিলেই ছেড়ে দেয়। কিন্তু এই পোলাপানদের টেকা কেন রাজধানীর এক অংশ লিখে দিলেও বদলাবে না। ওরা ঠিকই তাদের কাজ করে যাবে। কথা গুলো বলছিলেন মইচ উদ্দিন নামের একজন রিকশা চালক।

বর্তমানে রিকশা চালালেও তার মূল পেশা ট্রাক চালানো। কিন্তু ট্রাক চালানোর লাইসেন্স না থাকায় এখন রিকশার চালক হয়েছেন তিনি। তবে এ নিয়ে কোনো ক্ষোভ নেই তার বরং ছাত্রদের সাধুবাদ জানিয়েছেন মইচ উদ্দিন।

আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যেই কাম এত বছরেও সরকার করতে পারে নাই, ওই কাম এহন পোলাপান কইরা দেখাইতাসে। এই যে দেহেন কত সুন্দর নিয়ম মাইন্না সব কিছু চলতাসে। আর পোলাপাইন গুলা এই রোদে বৃষ্টিতে ভিইজ্জা যেভাবে কাজ করতাসে তাতে আমাদের এই দেশ বদলাইবোই।’

‘বেপরোয়া বাসের চাপায় আমার সন্তানও মরতে পারতো’ উল্লখে করে মইচ উদ্দিন বলেন, ‘ওইদিন দুইডা পোলা-মাইয়্যা মইরা গেছে ওই জায়গায় আমি বা আমার সন্তানো হইতে পারতো। প্রশাসনের দুই নাম্বারির কারনেই আইজ এই অবস্থা। তই আগের হেই দিন এই ছাত্ররাই বদলাইবো।’

প্রসঙ্গত, গত রবিবার রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের কুর্মিটোলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাসের চাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। আহত হয় আরও ১০-১২ জন। এই ঘটনার পর-পরই উত্তাল হয় রাজধানীসহ সারাদেশ। এরপর থেকেই বিভিন্ন দাবিতে মাঠে নামে ছাত্র-ছাত্রীরা। সেই আন্দোলনের আজ পাঁচদিন।

যদি প্রশ্ন করা হয়, ‘গত পাঁচদিনে ঢাকা শহরে আপনি কী দৃশ্য দেখেছেন?’ শতভাগ মানুষ বলবেন, শিক্ষার্থীদের অনন্য সাধারণ সব উদ্যোগের কথা। তারা সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সরকার এবং প্রশাসনের উপর মহল পর্যন্ত সকলের গাড়ির লাইসেন্স এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স চেক করছে। তারা সড়ক পরিস্কার করছে। সড়কে সারি বেঁধে সুশৃঙ্খলভাবে গাড়ি চালাতে বাধ্য করছে। প্রচণ্ড ক্ষোভে গাড়ি ভাঙচুর করে সেই ভাঙা কাঁচের টুকরা রাস্তা থেকে নিজেরাই পরিস্কার করছে।

এই ছেলেরা আবার গুরুতর অসুস্থ রোগিকে পৌঁছে দিচ্ছে হাসপাতালে। রাস্তার মাঝে অসুস্থ হয়ে পড়া রিকশাচালককে নিজেরাই রিকশা চালিয়ে পৌঁছে দিচ্ছে হাসপাতালে।

ad

পাঠকের মতামত