কলকাতায় অপুর ‘শর্টকাট’ সময়
ক্যারিয়ারের পালাবদলে বদলে যাওয়া অপু বিশ্বাস নিজেকে খুঁজে পেয়েছেন। নতুন করে জীবনের চিত্রনাট্য লিখতেও শুরু করেছেন তিনি। প্রত্যাবর্তনের পর ফের ফিরেছেন সিনেমায়। ঢালিউডের এ নায়িকা তার হারিয়ে ফেলা ‘মুকট’টা ফিরে পেতে নেমেছেন নতুন যুদ্ধে। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকাই ছবিতে অভিনয়ের পাশাপাশি কলকাতার ছবিতে অভিনয়ে নাম লিখিয়েছেন তিনি। বর্তমানে সে ছবিরই কাজ নিয়ে কলকাতায় ব্যস্ত সময় পার করছেন অপু।
ছবির নাম ‘শর্টকাট’, নির্মাণ করছেন সুবীর মণ্ডল। কণ্ঠশিল্পী নচিকেতার লেখা গল্প নিয়ে তৈরি হতে যাচ্ছে ছবিটি। এই চলচ্চিত্রে অপু অভিনয় করছেন নূরজাহান চরিত্রে। অপু ৫ জুন থেকে শুটিংয়ে যোগ দিয়েছেন। এজন্য গত সোমবার সকাল ৭টার একটি ফ্লাইটে কলকাতা যান তিনি। আর ১১ জুন দুপুরে অপু তার ফেসবুক পেজ থেকে ‘শর্টকাট’ ছবির শুটিংয়ের কিছু ছবি পোস্ট করেছেন। যেখানে দেখা মিলেছে হাস্যোজ্জ্বল এক অপুর। এর কিছুক্ষণ পরই এ নায়িকার সঙ্গে হলো ‘শর্টকাট’ আলাপ।
অপুর সঙ্গে যখন কথা হচ্ছিল তখন তিনি কলকাতার ইকোপার্কে ‘শর্টকাট’ ছবির শুটিং করছিলেন। তারই এক ফাঁকে কলকাতা থেকে তিনি বলেন, ‘বেশ ভালো শুটিং হচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা ছবিতে যারা যারা আছেন তারা অনেক সহযোগিতা পরায়ন ও পেশাদার অভিনেতা-অভিনেত্রী। যার কারণে ঠিক কেমন কাজ হচ্ছে, তার প্রতিক্রিয়াটা দ্রুত পাওয়া যাচ্ছে।
আমি আরেকটা বিষয়ে একটু বলতে চাই, অনেক ছবিটির নাম শুনে ভাবছে আমি আগে বাণিজ্যিক সিনেমাগুলোতে যে ধরনের চরিত্রে অভিনয় করতাম, সে রকম নয়। কিন্তু বিষয়গুলো ঠিক উল্টো। আমাকে ঠিক বাণিজ্যিক ছবির নায়িকার লুকেই এ ছবিতে দেখবে দর্শক। তাই এ নিয়ে কনফিউশনের কিছু নেই। দর্শক যখন কাজটি দেখবে তখনই বুঝতে পারবে।
আর এ কয়েকদিন কাজের পরে আমি এটা এখন বলতেই পারি, আমার কলকাতার যাত্রাটা বেশ দুর্দান্তই হবে। এ ছাড়া ছবিটির নির্মাতা টার্গেট নিয়ে কাজটি করছেন, যারা কারণে টানা শিডিউল দিয়েছি। এ অংশে আমাকে ভিত্তি করেই কাজ হচ্ছে। দু-তিন দিনের মধ্যেই দেশে ফিরব। আব্রামকে নিয়ে ঈদ করব। তার জন্য প্রস্তুতি নেওয়ারও বিষয় আছে।’
অপু ছাড়াও ছবিটিতে আরও অভিনয় করছেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, অরিন, গৌরব চক্রবর্তী, অনিন্দিতা বসু, চন্দন সেন প্রমুখ। জনপ্রিয় শিল্পী নিচিকেতা ছবিটির সংগীত পরিচালনা করছেন।
গল্প সম্পর্কে জানা গেছে, দুই যুবকের গল্প নিয়ে তৈরি হতে যাওয়া ‘শর্টকাট’-এ দেখা যাবে বিত্তবান পরিবারের এক ছেলে আর ঠিক পাশের বস্তিতে থাকা আরেকটি ছেলে। আপাতদৃষ্টিতে দুজনের অবস্থান আলাদা হলেও তাদের দুজনের জীবনেই ব্যর্থতা রয়েছে। তবে কোথাও গিয়ে তারা যেন মিলে যায়।
পরিচালক বলেন, ‘আমাদের সকলের মধ্যেই একটা শর্টকাট নেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। পরিণতিতে কেউ সফল, কেউ ব্যর্থ। এ পরিস্থিতি থেকে সেই যুবকরা বেরোতে পারে কিনা সেটি নিয়েই গল্প।’
নচিকেতা বলেন, ‘কলকাতাকে আমরা যেভাবে দেখি, সেটাই তো শহরের আসল রূপ নয়। গভীরে গভীরে অনেক স্তর রয়েছে। বাংলা ছবিতেও সেগুলো উঠে আসেনি। এই ছবির মাধ্যমে দর্শক তা জানতে পারবেন।’




