চৈত্র সংক্রান্তি আজ
ডেস্ক রিপোর্ট।। আজ ৩০ চৈত্র ১৪২৪। বাংলা বছরের শেষদিন। ঋতুরাজ বসন্তেরও বিদায়ের দিন। আজ চৈত্র সংক্রান্তি। বাংলা বছরের শেষ দিন হওয়ায় চৈত্র মাসের শেষ দিনটিকে বলা হয় চৈত্র সংক্রান্তি। বাংলার বিশেষ লোকজ উৎসব এই চৈত্র সংক্রান্তি।
চিরায়ত অসামপ্রদায়িক বাঙালির কাছে চৈত্র সংক্রান্তি পরিণত হয়েছে এক বৃহত্তর লোক উৎসবে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা এ দিনটিকে একটি অত্যন্ত পুণ্যদিন বলে মনে করে। হিন্দু পঞ্জিকা মতে দিনটিকে গণ্য করা হয় মহাবিষুব সংক্রান্তি নামে। হিন্দুু ধর্মাবলম্বীরা এইদিনে পিতৃপুরুষের তর্পণ করে থাকে, নদীতে বা দিঘিতে পুণ্যস্নানে। আজ সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে কালের অতল গর্ভে হারিয়ে যাবে আরো একটি বছর। আগামীকাল নানা আয়োজনের মাধ্যমে নববর্ষ ১৪২৫কে বরণ করে নেবে বাঙালিরা। চৈত্র সংক্রান্তি বাংলার লোকসংস্কৃতির এমন এক অনুষঙ্গ যা সর্বজনীন উৎসবের আমেজে বর্ণিল।
বছরের শেষদিনে বর্ষবিদায়ের পাশাপাশি বৈশাখ বন্দনায় মেতে ওঠে বাঙালি। চৈত্র সংক্রান্তির প্রধান উৎসব চড়ক। চড়ক গাজন উৎসবের একটি প্রধান অঙ্গ। এ উপলক্ষে একগ্রামের শিবতলা থেকে শোভাযাত্রা শুরু করে অন্যগ্রামের শিবতলায় নিয়ে যাওয়া হয়। একজন শিব ও একজন গৌরী সেজে নৃত্য করে এবং অন্য ভক্তরা নন্দি, ভৃঙ্গী, ভূত-প্রেত, দৈত্য-দানব সেজে শিব-গৌরীর সঙ্গে নেচে চলে। চড়ক মেলায় শূলফোঁড়া, বানফোঁড়া ও বড়শিগাঁথা অবস্থায় চড়ক গাছে ঘোরা, আগুনে হাঁটার মতো ভয়ঙ্কর ও কষ্টসাধ্য দৈহিক কলাকৌশলগুলো বর্তমানে কমে গেছে সময়ের পরিবর্তনে।
তবে এখনো পালিত হয় শাস্ত্র ও লোকাচার অনুসারে স্নান, দান, ব্রত, উপবাস প্রভৃতি ক্রিয়াকর্ম। এই দিনে বৈসাবি উৎসব পালন করে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলো। চৈত্র সংক্রান্তিতে দেশজুড়ে এখন চলছে নানা ধরনের মেলা ও উৎসব। হালখাতার জন্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সাজানো, লাঠিখেলা, গান, সঙযাত্রা, রায়বেশে নৃত্য, শোভাযাত্রাসহ নানা অনুষ্ঠান ও ভূত তাড়ানোর মধ্যদিয়ে উদযাপিত হবে চৈত্র সংক্রান্তি। আমাদের লোকজ সংস্কৃতির যা কিছু সুন্দর, শুভ ও শুচি তা টিকে থাকুক অনন্তকাল- এই হোক চৈত্র সংক্রান্তির প্রার্থনা। সূত্র : মানবজমিন




