215563

রিয়াল মাদ্রিদ একটুর জন্য শিকার হলো না রূপকথার









স্পোর্টস ডেস্ক।। কী করতে হবে জানাই ছিল জুভেন্টাসের। এএস রোমার মতো রূপকথার প্রত্যাবর্তন লিখতে চাইলে চার গোল করতে হবে। রিয়াল মাদ্রিদের মাঠে কাজটা কঠিন হলেও নিজেদের ওপর বিশ্বাস রেখেছে তাঁরা। প্রথমার্ধের দুই গোলের পর দ্বিতীয়ার্ধেও এক গোল দিয়েছিল জুভেন্টাস। কিন্তু অতিরিক্ত সময়ে রোনালদোর পেনাল্টি গোলে স্কোরটা ৩-১ হলো। দুই লেগ মিলিয়ে ৪-৩ ব্যবধানে জিতে সেমিফাইনালে চলে গেল রিয়াল। চ্যাম্পিয়নস লিগে টানা ১১ ম্যাচে গোল করলেন রোনালদো। পেনাল্টির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ কড়া ভাষায় করায় লাল কার্ড দেখেছেন জিয়ানলুইজি বুফন।

প্রথমার্ধে দুই গোল করেও নায়ক হতে পারলেন না মারিও মানজুকিচ। ইতিহাস যে জয়ীদের পক্ষেই লেখা হয়।
বার্নাব্যুতে নিজেদের মাঠে খেলার শুরুতেই রিয়াল সমর্থকদের বুকে ছুরি চালান মারিও মানজুকিচ। রিয়ালের ডি-বক্সে আনমার্কড মানজুকিচ সেমি খেদিরার ক্রস থেকে হেডে গোল করলে রিয়াল ১-০তে পিছিয়ে পড়ে ম্যাচের শুরুতেই। এরপর অষ্টম মিনিটে হিগুয়েনকে আটকে না দিলে গোল সংখ্যা তখনই বাড়াতে পারত জুভেন্টাস। পরের মিনিটে পাল্টা-আক্রমণে উঠে আসে রিয়াল। রোনালদোর শট জুভেন্টাসের রক্ষণের খেলোয়াড়ের পায়ে লেগে ফিরে আসে। দশম গ্যারেথ বেলের শট আটকে দেন জুভেন্টাস গোলরক্ষক বুফন। ১২তম মিনিটে কিয়েলিনির স্লাইংডিং ট্যাকলে রক্ষা পায় জুভেন্টাস।

ইসকোকে ওই যাত্রায় আটকে দিতে সক্ষম হন জুভেন্টাসের এই ডিফেন্ডার। প্রথমার্ধের পুরোটাই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ঠাসা ছিল। ১৫তম মিনিটে গোলসংখ্যা বাড়ানোর ভালো সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি জুভেন্টাস। ৩২তম মিনিটে ইসকো-কেসিমিরো-ক্রসের সমন্বিত আক্রমণ রুখে দেয় জুভেন্টাসের রক্ষণভাগ। ৩৬তম মিনিটে পর্তুগিজ সেনা রোনালদোর আক্রমণও আটকে দেন জুভেন্টাসের প্রহরীরা। পাল্টা আক্রমণে উঠে আসে জুভেন্টাস। ম্যাচের ৩৭তম মিনিটে আবারও মারিও মানজুকিচের হেড। এবার স্টিফেন লিচস্টেইনারের ক্রস থেকে (২-০)। প্রথমার্ধের যোগ হওয়া সময়ে (৪৬তম মিনিটে) রোনালদোকে ফাউল করায় বিপজ্জনক জায়গায় ফ্রি-কিক পায় রিয়াল। ক্রুসের শট বারের সামান্য ওপর দিয়ে চলে গেলে অল্পের জন্য রক্ষা পায় জুভেন্টাস। দুই গোল হজম করে প্রথমার্ধ শেষ করে স্বাগতিকেরা।



দ্বিতীয়ার্ধে স্কোরলাইনে পিছিয়ে থেকে খেলা শুরু করে রিয়াল মাদ্রিদ। দুই দল-ই ভালো কিছু আক্রমণ করে। তবে রিয়ালের নাভাস আর জুভেন্টাসের বুফন যথাক্রমে ৫৮ ও ৫৯ মিনিটে নিজ নিজ দলকে রক্ষা করেন। কিন্তু রিয়ালের শেষ রক্ষা করতে পারলেন না নাভাস। ৬১তম মিনিটে গোল হজম করে বসে স্বাগতিকেরা। কস্তার অসাধরণ ক্রস ঠিকমতো তালুতে নিতে পারেননি নাভাস। মাতুইদির পায়ের ছোঁয়ায় ৩-০ গোলে এগিয়ে যায় জুভেন্টাস।

ম্যাচের শেষ মুহূর্তে এসে নাটকীয়তার দেখা পান রিয়াল ভক্তরা। ম্যাচ শেষে যোগ হওয়া মিনিটে (৯৩তম মিনিটে) বুফনের সামনে বল পান রিয়ালের লুকাস ভাসকেজ। তাঁকে পেছন থেকে ফাউল করে বসেন মেধি বেনেশিয়া। পেনাল্টির ফাঁদে পড়ে জুভেন্টাস। সেসময় রেফারির সঙ্গে তর্ক করায় লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় বুফনকে। পরে টেলিভিশন পর্দায় দেখা গেছে রেফারির সিদ্ধান্তই ঠিক ছিল। ম্যাচের অমন মুহূর্তে ওই সিদ্ধান্ত ছিল সাহসীও। খানিক বিরতি নিয়ে পেনাল্টি শটে গোল করেন রোনালদো। চ্যাম্পিয়নস লিগে এ নিয়ে টানা ১১ম্যাচে গোল করেন রিয়াল সেনা। চ্যাম্পিয়নস লিগে আজ তাঁর ১৫০তম ম্যাচের উদ্‌যাপনটা মনে রাখার মতো করেই হবে। উৎস: প্রথম আলো।

ad

পাঠকের মতামত