214735

সিলেটে মা-ছেলে খুনে তান্নি ও তার স্বামী সরাসরি জড়িত





সিলেট নগরের মিরাবাজারের খারপাড়ায় মা-ছেলে হত্যার ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী তানিয়া বেগম তান্নির বয়ফ্রেন্ড নাজমুল হোসেন। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন তান্নি ও তার স্বামী ইউসুফ খান মামুন।

সোমবার ভোরে তান্নি ও তার স্বামীকে গ্রেফতারের পর বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল করিম মল্লিক এ তথ্য জানান।

এর আগে গত ৪ এপ্রিল শহরতলির শাহপরান থানার বটেশ্বর থেকে ওই এলাকার মুর্তিচক গ্রামের মৃত আব্দুল করিমের ছেলে নাজমুল হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তিনি আট দিনের রিমান্ডে রয়েছেন। অবশেষে সোমবার ভোরে কুমিল্লার তিতাস থেকে তান্নিকে গ্রেফতার করে পিবিআই।

সোমবার বিকেলে পিবিআইয়ের সিলেট কার্যালয়ের বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল করিম মল্লিক জানান, রোববার সন্ধ্যায় নগরের বন্দরবাজার থেকে তান্নির কথিত স্বামী মামুনকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেয়া তথ্যমতে কুমিল্লার তিতাসে মামুনের বাড়ি থেকে তানিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।

তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আমরা জানতে পেরেছি মা-ছেলে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী নাজমুল। তান্নি এই হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে বিশদ তদন্ত শেষে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত বলা যাবে।

রেজাউল করিম মল্লিক জানান, তান্নির দ্বিতীয় স্বামী হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেয়া মামুন তার এক আত্মীয়ের ট্রাভেল এজেন্সিতে কাজ করেন। তান্নিকে গ্রেফতার করলেও তান্নির সঙ্গে রোকেয়ার কীভাবে পরিচয় তা এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি পিবিআই।

স্থানীয়দের কেউ কেউ তান্নিকে ওই বাসার গৃহকর্মী আবার কেউ রোকেয়ার বান্ধবী হিসেবে চেনেন। তবে রোকেয়ার ভাই ও এই হত্যা মামলার বাদী জাকির হোসেন জানিয়েছেন, তিনি তান্নি নামের কাউকে চেনেন না।

এসপি রেজাউল করিম মল্লিক আরও বলেন, আমরা এ মামলার তদন্তের সঙ্গে যুক্ত না। এরপরও পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) বিশেষ নির্দেশে আমরা ছায়া তদন্ত করছি।

প্রসঙ্গত, সিলেট নগরের নগরের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের খারপাড়ায় মিতালী ১৫/জে নম্বরের তিনতলা বাড়ির নিচতলায় দুই সন্তানকে নিয়ে থাকতেন পার্লার ব্যবসায়ী রোকেয়া বেগম ওরফে শিউলী। গত ১ এপ্রিল বাড়ির ভেতরে থাকা রোকেয়া বেগমের পাঁচ বছরের মেয়ে রাইসার কান্না ও পচা গন্ধ পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে দুপুরে পুলিশ ওই বাড়িতে গিয়ে রোকেয়া বেগম শিউলী ও তার ছেলে রবিউল ইসলাম রোকনের মরদেহ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় গত ৪ এপ্রিল রাতে শহরতলির শাহপরান গেইট এলাকা থেকে নাজমুল হোসেন নামে একজনকে আটক করা হয়। নাজমুল ও তান্নি নিহত রোকেয়া বেগমের ঘনিষ্ট বন্ধু। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গত ১ এপ্রিল রাতে নিহত রোকেয়া বেগমের ভাই জাকির হোসেন বাদী কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৪/৫ জনকে আসামি করে কোতোয়ালি থানায় এ মামলা দায়ের করেন।

ad

পাঠকের মতামত