পুরুষ দেখলেই ভয় পায় শিশু রাইসা
![]()
![]()
![]()
![]()
নিউজ ডেস্ক।। মা ও ভাই খুনের আটদিন কেটে গেলেও ভয় কাটছে না চার বছরের শিশু রাইসার। পুরুষ লোক দেখলেই ভয়ে আঁতকে ওঠে, লুকিয়ে পড়ে। বারবার ঘরের চাবি লুকিয়ে রাখছে, যেন কেউ না ঢুকতে পারে। তার ধারণা, কেউ এসে তাকে মেরে ফেলবে। রাইসাকে এখন সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানার ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছে। সঙ্গে রয়েছেন খালা লিপি। ঘাতকরা তার চোখের সামনেই একের পর এক ছুরিকাঘাতে খুন করেছে মা ও ভাইকে। সেই ভয়ানক স্মৃতি এখানো তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে তাকে।
সিলেট নগরীর খারপাড়ায় মিতালী ১৫/জি নম্বর বাসায় নির্মমভাবে খুন করা হয় পার্লার ব্যবসায়ী রোকেয়া বেগম এবং তার ছেলে রবিউল ইসলাম রোকনকে। পুলিশ কর্মকর্তাদের ধারণা, ভয়ঙ্কর আক্রোশ নিয়ে রোকেয়া ও ছেলে রোকনের শরীরকে ছুরিকাঘাতে ছিন্নভিন্ন করা হয়েছে। রোকেয়ার মেয়ে রাইসাকেও গলা টিপে শ্বাসরুদ্ধ করে খুন করতে চেয়েছিল। শিশুটি ভয়ে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ায় মৃত ভেবে ফেলে যায় ঘাতকের দল। এর পর মা ও ভাইয়ের লাশের সঙ্গেই দুদিন কাটে শিশু রাইসার। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে নিয়ে যাওয়া হয় কোতোয়ালি থানার ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে। সেখানেই এখন আতঙ্ক আর ভয়ে কাটছে তার একেকটি দিন।
![]()
![]()
![]()
![]()
রাইসার মামা জাকির হোসেন জানান, তার ছোট বোন লিপি শিশু রাইসাকে নিয়ে কোতোয়ালি থানার ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে থাকছেন। কিন্তু এখনো আতঙ্কিত সে। কিছুক্ষণ পর পরই কান্নাকাটি করছে। পুরুষ দেখলেই ভয়ে লুকিয়ে যায়।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গৌছুল হোসেন বলেন, ‘রাইসাকেও হত্যার চেষ্টা করা হয়। সে বেঁচে গেছে। তার মনে এখনো ভয় কাজ করছে। সে যে কক্ষে থাকছে, সেটির চাবি বারবার লুকিয়ে রাখছে। তার ধারণা, কেউ এসে তাকে মেরে ফেলবে। পুরুষ দেখলেও ভয় পাচ্ছে, লুকিয়ে যাচ্ছে। এমনকি পুরুষ পুলিশ সদস্য দেখলেও সে ভয় পায়। আমরা কেউই তার পাশে যাচ্ছি না। পরিদর্শক (তদন্ত) রোকেয়া খানমই তাকে দেখাশোনা করেন। তাই সে তার কাছে যায়।
গত ১ এপ্রিল সিলেট নগরীর খারপাড়া থেকে পার্লার ব্যবসায়ী রোকেয়া ও তার ছেলে রোকনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় জীবিত অবস্থায় শিশু রাইসাকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ধারণা লাশ উদ্ধারের অন্তত দুদিন আগে মা ও ছেলেকে হত্যা করা হয়। হত্যার ঘটনায় সিলেট শহরতলির বটেশ্বর বাজার থেকে নাজমুল হাসান নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাকে গত বুধবার আদালতের মাধ্যমে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। উৎস: দৈনিক আমাদের সময়।




