ফেসবুককে ব্যবহার করা হয়েছে রোহিঙ্গা নিধনে, স্বীকার জাকারবার্গের
নিউজ ডেস্ক।। মায়ানমারে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিম নিধনে ফেসবুকের ব্যবহৃত হওয়ার অভিযোগ স্বীকার করেছেন প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা ও প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ভক্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেছেন, খবরের নামে গুজব ছড়ানোর মধ্য দিয়ে মুসলিম ও রোহিঙ্গাবিদ্বেষী মনোভাবে উসকানি ও প্রণোদনা জোগানোর কাজে ফেসবুককে ব্যবহার করা হয়েছে।
![]()
![]()
![]()
![]()
সম্প্রতি জাতিসংঘসহ যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের অনুসন্ধানে মায়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত নিধনযজ্ঞে ফেসবুকের গুরুত্বপূর্ণ সংশ্লিষ্টতার খোঁজ মেলে।
মায়ানমার বিষয়ে জাতিসংঘের বিশেষ দূত বলেছেন, রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গা সংকটে গণহত্যার আভাস পাওয়া গেছে। মায়ানমারে জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তথ্যানুসন্ধান মিশনের চেয়ারম্যান মারজুকি দারুসমান সাংবাদিকদের বলেন, রোহিঙ্গা নিধনে সামাজিক মাধ্যম ‘নির্ধারণী ভূমিকা’ পালন করেছে।
তিনি বলেন, ‘এটি জনগণের মধ্যে বিরোধ, অশান্তি ও দ্বন্দ্বের মাত্রা বাড়িয়েছে বিপুল পরিমাণে। নিশ্চিতভাবেই বিদ্বেষী প্রচারণা সেই দ্বন্দ্ব-বিরোধ-অশান্তির একটা অংশ।’
জাকারবার্গ ভক্স নিউজকে বলেন, ‘আমি মনে করি মায়ানমার ইস্যুটিকে আমার প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে যথেষ্ট পরিমাণে গুরুত্ব পেয়েছে।’ ফেসবুককে রোহিঙ্গাবিরোধী প্রচারণার অস্ত্র করার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, … সেগুলো বাস্তব ঘটনা আর আমরা খুবই গুরুত্ব দিয়ে তা বিচার করেছি।
সাক্ষাৎকারে জাকারবার্গ জানান, ফেসবুকের নিজস্ব পর্যবেক্ষণেই দেখা গেছে এর মূল লক্ষ্য ছিল দুইপক্ষের মধ্যে সহিসংতা উস্কে দেওয়া। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এটা পরিষ্কার, পৃথিবীকে বাস্তবিক হুমকির মুখে ঠেলে দিতে ফেসবুককে ব্যবহার করছে।
![]()
![]()
![]()
![]()
তিনি সাক্ষাৎকারে বলেছেন, মায়ানমার থেকে যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের বিদ্বেষমূলক প্রচারণা, খণ্ডিত কিংবা আংশিক বক্তব্য বিপুল পরিমাণ সতর্কতা ও মনোযোগ দাবি করে। মিথ্যা প্রচারণা আর খণ্ডিত বক্তব্য ছড়িয়ে দিতে ব্যবহৃত ফেসবুকের টুলসগুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিচার করছে তার প্রতিষ্ঠান। চেষ্টা করছে সংকট নিরসনের।
ভক্স নিউজের সাক্ষাৎকারভিত্তিক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেসবুক রোহিঙ্গাদের প্রতি বিদ্বেষমূলক কিছু পোস্ট নামিয়ে নিয়েছে। হিংসাত্মক উপাদান ছড়ানোর অভিযোগে ভয়াবহ বিতর্কিত একজন কট্টর বৌদ্ধভিক্ষুর অ্যাকাউন্ট সাময়িক বন্ধ করে দেওয়ার কথাও জানা গেছে।
তবে ফেসবুকের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীর ওপর পরিচালিত সহিংসতার প্রমাণসহ অনেক পোস্ট মুছে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। ভক্স নিউজ এই প্রেক্ষাপটে সামাজিক নেটওয়ার্ক নজরদারির চেষ্টা কতটা চ্যালেঞ্জ ও জটিল তা জাকারবার্গের সামনে হাজির করার চেষ্টা করে।




