211932

সাবধান ‘সালাম পার্টি’ থেকে

নিউজ ডেস্ক।। চলতি পথে হঠাৎ ভদ্রবেশী একজন আপনার সামনে এসে সালাম দেবে। পর পরই আরও চার-পাঁচজন এসে ভিড় করবে সেখানে। এরপর আকস্মিকভাবে তারা আপনাকে ঘিরে ধাক্কাধাক্কি-মারামারি শুরু করে দেবে। আপনি তো মাথামুণ্ডু কিছুই বুঝে উঠতে পারছেন না। এর মধ্যে পরিস্থিতি দ্রুত শান্ত হয়ে আসবে। চলে যাবে সব উটকো লোকজন। কিন্তু তখন পকেট হাতড়ে দেখবেন, সঙ্গে থাকা টাকা, মোবাইল ফোন কিছুই নেই। এমন অভিনব কায়দায় ছিনতাইয়ে নেমেছে একদল দুর্বৃত্ত। পুলিশ যাদের নাম দিয়েছে ‘সালাম পার্টি’।

বুধবার রাজধানীর পল্টন থেকে ‘সালাম পার্টি’র একটি চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় তাদের দস্যুতার নানা কৌশল। বৃহস্পতিবার তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশের মতিঝিল জোনের সহকারী কমিশনার মিশু বিশ্বাস সমকালকে জানান, ‘অপরাধীরা সবসময় নতুন নতুন কৌশলে মানুষকে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করে। সালাম পার্টিও তেমনি কৌশলে ছিনতাই করছে। এরা পোশাক-আশাকে খুব স্মার্ট। কথাবার্তাও খুব সুন্দর। তাই তারা সালাম দিলে মুহূর্তের জন্য হলেও মানুষ থমকে দাঁড়ায়। আর এই সুযোগটি কাজে লাগিয়েই সর্বস্ব লুটে নেয় চক্রের সদস্যরা।’

পুলিশ সূত্র জানায় সালাম পার্টির আরও কিছু কৌশল। পার্টির সদস্যরা দুই বা তিন ঘণ্টার জন্য রিকশা ভাড়া করে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাঘুরি করতে থাকে। তাদের একজন ব্যাংক বা এটিএম বুথের পাশে সতর্ক দৃষ্টি রাখে। বোঝার চেষ্টা করে কে কত টাকা নিয়ে বের হচ্ছে। এরপর বেশি টাকা নিয়ে বের হওয়া একজনকে টার্গেট করে তার পিছু নেয়। এর মধ্যে মোবাইল ফোনে অপর সঙ্গীদের জানিয়ে দেয় অবস্থান। একপর্যায়ে রাস্তার সুবিধাজনক স্থানে ওই ব্যক্তির সামনে গিয়ে দাঁড়ায় পার্টির দলনেতা। সুন্দর করে সালাম দিয়ে বলে, ‘ভাই কেমন আছেন?’ এর পরের অংশটি সাধারণত দুইভাবে ঘটে থাকে। কখনও সহযোগীরা এসে সালাম পার্টির দলনেতাকে সালাম দিয়ে তার পাশে দাঁড়ায়। দলনেতা এ সময় টার্গেট ব্যক্তিকে বলে, ‘এরা সবাই আমার লোক। সঙ্গে অস্ত্রপাতি আছে। ঝামেলা না করে যা আছে দ্রুত দিয়ে দেন।’ এভাবে কাজ না হলে শুরু হয় নিজেদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি। এ সুযোগে লোকটির পকেট থেকে টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী হাতিয়ে নেওয়া হয়।

পল্টন থানা পুলিশ জানায়, বুধবার পল্টনের দি আইডিয়াল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে থেকে গ্রেফতারকৃতরা হলো- জিতু, মিজান, আকতার হোসেন, রিপন ও পিন্টু মিয়া। এ সময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাই করা এক লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পল্টন থানায় মামলা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা জানায়, তারা এলাকা ভাগ করে নিয়ে ছিনতাই করে। এক এলাকার চক্র সাধারণত অন্য এলাকায় যায় না। প্রতিটি চক্রে চার-পাঁচজন করে থাকে। গ্রেফতারকৃত চক্রটি রাজধানীর শান্তিনগর, পল্টন ও কাকরাইল এলাকায় ছিনতাই করত। এ ক্ষেত্রে একেকদিন একেকজন দলনেতা হয়, অর্থাৎ সালাম দেয়। যে সালাম দেয়, লুণ্ঠিত মালপত্রের ভাগও সে বেশি পায়। উৎস: সমকাল।

ad

পাঠকের মতামত