210649

যেভাবে অস্ট্রেলিয়ার ‘বল ট্যাম্পারিং’ কেলেঙ্কারিতে কাঁপল বিশ্ব

ক্যামেরন ব্যানক্রফট ধরা পড়লেন বল ট্যাম্পারিংয়ে। অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ প্রেস কনফারেন্সে শনিবার বিকেলে স্বীকার করলেন, এটা তাদের পরিকল্পিত। আরো জানালেন, সিনিয়র খেলোয়াড়রা মিলেই এই হীন চক্রান্ত করেছেন। তবে সেই সিনিয়র খেলোয়াড় কারা, নাম বলেননি। কেপ টাউনের নিউল্যান্ডসে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তৃতীয় দিনের খেলার লাঞ্চের সময়ই এই ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। এটাকে ব্যানক্রফটগেট কেলেঙ্কারি বলা যায়। বলা যায় এটাই অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের অন্ধকারতম দিন। এই কেলেঙ্কারিতে স্মিথ এবং তার ডেপুটি ডেভিড ওয়ার্নারকে অধিনায়কত্ব এবং সহ-অধিনায়কত্বের দায়িত্ব ছাড়তে হয়েছে। সেটা আপাতত এই টেস্টের জন্য। তবে এই দু’জনার নেতৃত্ব ভাগ্য মোটেও ভালো দেখা যাচ্ছে না।


ব্যানক্রফট আসলে কি করছিলেন?

একটা হলুদ কাপড় ব্যবহার করেছেন ব্যানক্রফট। মাঠের ধুলো লাগানো ছিল। সেটা দিয়ে বল ঘসেছেন। এটা অবৈধ কাজ। বলের বিকৃতি করার চেষ্টা। বাড়তি সুবিধা পেতে। কাপড়টা ঠাণ্ডা মাথায় পকেটে ঢুকিয়ে ফেললে হয়তো কথা উঠতো না। কিন্তু ব্যাপারটা অস্ট্রেলিয়ার জন্য বুমেরাং ও আরো খারাপের পর্যায়ে চলে যায় ব্যানক্রফট কাপড়টি বা প্রমাণটি ট্রাউজারের সামনের অংশে হাত ঢুকিয়ে ভেতরে ভরে দিলে। আম্পায়ারের চোখে ওটাই সন্দেহজনক লাগে। কিন্তু আম্পায়ার যখন প্রমাণটি দেখতে চান তখন ব্যানক্রফট হলুদ নয় পকেট থেকে একটি কালো কাপড় বের করে দেখান। ক্যামেরা তো আগেই হলুদ কাপড় ধরেছে। ক্যামেরার এই প্রমাণের ওপর ভিত্তি করেই ম্যাচ রেফারি বল ট্যাম্পারিংয়ের চার্জ আনেন।

ব্যানক্রফট কেন এমন করেছিলেন?

অস্ট্রেলিয়া-দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্ট সিরিজে বলের রিভার্স-সুইং বড় ভূমিকা রাখছে। এখন বলের একটি দিক ঘষে যদি কিছুটা ক্ষত করা সম্ভব হয়, শাইন তুলে ফেলা যায় তাহলে ফাস্ট বোলারদের জন্য রিভার্স-সুইং পাওয়া সহজ হয়। আনপ্লেয়বল ডেলিভারি করতে পারেন তারা চেষ্টা করলে।

দুই দলই প্রথম দুই টেস্টে শুরুর দিকেই রিভার্স-সুইং পেয়েছিল। কিন্তু কেপ টাউনে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের পক্ষে নতুন বল কিছুটা পুরনো হলেও তা পাওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। অস্ট্রেলিয়া দল মরিয়া হয়ে ওঠে। কারণ, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার হাতে চলে যাচ্ছিল। বলকে তাই পুরনো করতে নানা কৌশল আটে। সেই ফন্দির অংশ হিসেবে ব্যানক্রফটের কীর্তি।

বল ট্যাম্পারিংয়ের আইডিয়া কার ছিল?

স্টিভেন স্মিথ বলেছেন, দলের নেতৃত্বগ্রুপ তৃতীয় টেস্টের তৃতীয় দিনের লাঞ্চের সময় এই পরিকল্পনা করেছিল। তিনি কারো নাম বলতে রাজি হননি। বলেননি কার কাছ থেকে প্রথম আইডিয়াটা আসে। তবে এটা জানান, কোচ ড্যারেন লেম্যান এই বিষয়ে কিছুই জানতেন না। এর সাথে স্মিথ এও বলেন যে, অস্ট্রেলিয়া দল এর আগে কখনো এমন চেষ্টা করেনি।

অধিনায়ক স্মিথের পদত্যাগের দাবি কেন উঠল?

কোনো দল যদি আগেই কোনো চক্রান্ত করে মাঠে নামে তাহলে সেই দলের নেতার বিশ্বাসযোগ্যতা হারায়। কারণ, তিনি এই ষড়যন্ত্রে নেতৃত্ব দিয়েছেন। স্মিথ বলেছেন, তিনি ‘বিব্রত’ এবং ‘যেভাবে খেলাটার বদনাম করেছেন তা করার জন্য অবিশ্বাস্যরকম দুঃখিত।’ তবে তিনি অধিনায়কত্ব করে যাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন।

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া সিদ্ধান্ত দিয়েছে নেতা ও সহ অধিনায়ককে সরিয়ে দেওয়ার। এখন ক্রিকেট দুনিয়ার নিয়ন্তা আইসিসিও স্মিথ এবং তার লিডারশিপ গ্রুপের বিরুদ্ধে চার্জ আনতে পারে। তা না আনলে অস্বাভাবিক হবে।

এটা কি অস্ট্রেলিয়ার ১৯৮১ সালের আন্ডারআর্ম কেলেঙ্কারির চেয়ে ভয়াবহ?

দু’টি কাণ্ডই উন্মাদের মতো। দুটিতেই ক্যাপ্টেনের জয়ের তীব্র ইচ্ছার প্রকাশ ছিল এবং তা নিন্দনীয় পথে। গ্রেগ চ্যাপেল সেবার তার ছোট ভাই ট্রেভর চ্যাপেলকে বলেছিলেন বল মাটিতে গড়িয়ে দিতে। ওটা তখন বৈধ ছিল। কিন্তু নীচ মানসিকতা এবং খেলার স্পিরিট নষ্ট করা ব্যাপার ছিল।

নিউল্যান্ডসের ঘটনা একে অবৈধ তার ওপর খেলার স্পিরিট ধ্বংস করার মতো। অস্ট্রেলিয়ান দল তাদের একেবারে অনভিজ্ঞ এক খেলোয়াড়কে পূর্ব পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের জন্য বেছে নিয়েছে। সব দিক দিয়ে বিবেচনায় বল ট্যাম্পারিং যেখানে নিন্দনীয় তখন সেটা পরিকল্পনা করে করলে তো আর কথাই থাকে না।

এই ট্যাম্পারিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার জন্য কাজ হয়েছিল কিছু?

না। আম্পায়ার বল বদলাননি তার পরও। এমনকি ৫ রান জরিমানাও করেননি। বলের অবস্থা দেখে তারা সন্তুষ্ট ছিলেন। বলের অবস্থা অবৈধ চেষ্টার পরও বদলায়নি।

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া কি বলছে?

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া এই কাণ্ডে নিজেদের দলের তীব্র সমালোচনা করেছেন। নিন্দা করেছে। তারা এই ঘটনার পুরো তদন্ত করে তারপর ব্যবস্থা নেবে। আইসিসি যা করে করুক, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া নিজস্ব ব্যবস্থাও নেবে ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে।

সূত্র : এএপি।

ad

পাঠকের মতামত