210065

ক্যাপ্টেন আবিদের স্ত্রী আফসানাও মারা গেলেন

নেপালে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় নিহত ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতানের স্ত্রী আফসানা খানম মারা গেছেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়। তিনি রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স অ্যান্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আফসানা খানমের চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা ন্যাশনাল নিউরো সায়েন্স হাসপাতালের যুগ্ম পরিচালক ডা. বদরুল আলম।

তিনি বলেন, সকাল সাড়ে ৯টায় লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থাতেই হ্রদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মারা যান। লাশ এখনও হাসপাতালেই আছে। এখানে তার ছেলে, বাবা ও দেবরসহ পরিবারের সকল সদস্য আছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার ডা. বদরুল আলম জানান, আফসানা খানমের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে। তিনি এক রকম মৃত্যুর দুয়ারে দাঁড়িয়ে আছেন।

তিনি বলেন, আফসানার মস্তিস্ক একেবারেই কাজ করছে না, তার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রেণে রাখা যাচ্ছে না। বুধবার পর্যন্ত রক্তচাপ ঠিক রাখতে যে পরিমাণ ওষুধ দিতে হয়েছে আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিতে হয়েছে।

ডা. বদরুল আলম বলেন, আফসানার কিডনিও বৃহস্পতিবার ভালো কাজ করছে না। এর আগে প্রতি ঘণ্টায় ১০০ মিলি ইউরিন নির্গমন হলেও এখন তা কমে ৫০ এর নিচে নেমেছে।

উল্লেখ্য, ঢাকা থেকে ৭১ আরোহী নিয়ে গত ১২ মার্চ দুপুরে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় ইউএস-বাংলার ফ্লাইট বিএস-২১১ বিধ্বস্ত হয়।

এতে বিমানের ৫১ আরোহী নিহত হন। উড়োজাহাজে চার ক্রুসহ ৩৬ বাংলাদেশি ছিলেন। এদের ২৬ জনই নিহত হয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে উড়োজাহাজের পাইলট আবিদ সুলতানও ছিলেন।

আবিদ সুলতানের স্ত্রী আফসানা খানম দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর থেকেই উদ্বিগ্ন ছিলেন। প্রথমে তিনি জেনেছিলেন, স্বামী আবিদ আহত অবস্থায় নেপালে চিকিৎসাধীন। পরে আবিদের মৃত্যুর খবরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি।

গত রোববার ব্রেইন স্ট্রোক করেন আফসানা। প্রথমে তাকে উত্তরায় বাসার কাছে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। পরে সেখান থেকে শেরেবাংলা নগরে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্স অ্যান্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সোমবার সকালে তিনি ফের স্ট্রোক করলে দ্বিতীয় দফায় অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর থেকে তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।

ad

পাঠকের মতামত