209860

ঢাকায় আলিফ, নজরুল ও পিয়াসের মরদেহ

নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত ২৬ জনের মধ্যে বাকি থাকা তিনজনের মরদেহ ঢাকায় আনা হয়েছে। তারা হলেন- আলিফউজ্জামান, মো. নজরুল ইসলাম ও পিয়াস রায়। তাদের মরদেহগুলো নিয়ে বিমান বাংলাদেশের একটি ফ্লাইট বিকেল ৪টা ৫৫ মিনিটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ল্যান্ড করে।

মরদেহগুলো বিমানবন্দরের ভেতরে তাদের পরিবার গ্রহণ করবে এবং বিমানবন্দরের ৮ নং গেট দিয়ে তাদের বের করা হবে।

এর আগে দুপুর ৩টা ১৫ মিনিটে নেপালের কাঠমান্ডু থেকে মরদেহগুলো ঢাকার পথে রওনা দেয়।

জানা যায়, গত সোমবার নিহত ২৬ জনের মধ্যে শনাক্ত হওয়া ২৩ জনের লাশ ফিরিয়ে আনা হয়। তবে তখন আলিফউজ্জামান, মো. নজরুল ইসলাম ও পিয়াস রায়ের মরদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তখন ডাক্তাররা জানিয়েছিলেন, দুর্ঘটনায় এই তিনজন এতো পরিমাণ পুড়ে গেছে যে, তাদের চেহারা দেখে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। তখন বলা হয়, ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে মরদেহগুলো চিহ্নিত করা হবে।

এ ব্যাপারে গত শুক্রবার বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী শাহজাহান কামাল বলেন, তাদের শরীর এতো পরিমাণ পুড়ে গেছে, যেন কয়লা হয়ে গেছে। তাদের লাশ ডিএনএর মাধ্যমে চিহ্নিত করতে সময় লাগবে।’

তবে ডিএনএ টেস্ট ছাড়া গতকাল বুধবার তাদেরকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে বলে ইউএস-বাংলা সূত্রে জানা গেছে।

ইউএস-বাংলার মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) কামরুল ইসলাম পরিবর্তন ডটকমকে জানান, মরদেহগুলো বিমানবন্দর থেকে সরকারের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। মরদেহগুলো বিমানবন্দরের ৮নং গেট দিয়ে বের করা হবে।’

তিনি জানান, তিনটি মরদেহ ঢাকার বাইরে যাবে। এর মধ্যে আলিফউজ্জামানের লাশ খুলনায়, মো. নজরুল ইসলামের লাশ রাজশাহী এবং পিয়াস রায়ের লাশ বরিশালে যাবে।

এর আগে বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, সকালে নেপাল কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ দূতাবাসের কাছে তিনজনের মরদেহ হস্তান্তর করেছে। পরে সকাল ১০টায় দূতাবাসের সামনে মরদেহের মধ্যে আলিফউজ্জামান ও মো. নজরুল ইসলামের জানাজা হয় এবং হিন্দুধর্ম মেতাবেক পিয়াস রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।

এদিকে, বিমান বাংলাদেশের বিজি০৭২ কাঠমান্ডু-ঢাকা নিয়মিত ফ্লাইটে নিহত তিনজনের মরদেহ আনা হচ্ছে। ফলে নিহতদের লাশ সাড়ে ৪টার পর পৌঁছাতে পারে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, ঢাকা থেকে ৭১ আরোহী নিয়ে গত ১২ মার্চ দুপুরে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় ইউএস-বাংলার ফ্লাইট বিএস-২১১ রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে এবং আগুন ধরে যায়।

এতে উড়োজাহাজে থাকা ৫১ আরোহী নিহত হন। উড়োজাহাজে চার ক্রুসহ ৩৬ জন বাংলাদেশি ছিলেন। এদের ২৬ জনই নিহত হয়েছেন। আহত হন ১০ জন।

সোমাবার শনাক্ত হওয়া ২৩ বাংলাদেশির মরদেহ ঢাকায় আনা হয়। আর্মি স্টেডিয়ামে জানাজা শেষে পরিবারের কাছে মরদেহগুলো হস্তান্তর করা হয়।

ad

পাঠকের মতামত