স্বামীর মরদেহ নেপালে স্ত্রী চির নিদ্রায় শায়িত রাজশাহীতে
নেপাল ট্র্যাজেডিতে নিহত রাজশাহী মহানগরীর উপশহর এলাকার আখতারা বেগমের মরদেহ মঙ্গলবার সকালে দাফন করা হয়েছে। মহানগরীর গোরহাঙ্গা গোরস্থানে চির নিদ্রায় শায়িত হন আখতারা বেগম। এর আগে গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ ঘুরে সকাল ৯টা ২০মিনিটে তার মরদেহ উপশহর ক্রীড়া সংঘের মাঠে আনা হয়। এখানে অনুষ্ঠিত তার শেষ জানাজার নামাজে মানুষের ঢল নামে।
রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ আত্মীয়-স্বজন, শুভাকাঙ্খী, প্রতিবেশীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় শোকাবহ হয়ে ওঠে এলাকার পরিবেশ। স্বজনদের মধ্যে কান্নার রোল পড়ে যায়।
জানাজার নামাজে রাজশাহী সিটি মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, রাজশাহী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকারসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ উপস্থিত ছিলেন। তবে, একই সাথে নেপাল যাওয়া তার স্বামী নজরুল ইসলামের মরদেহ এখনও নেপাল থেকে দেশে পাঠানো হয়নি।
আখতারা বেগমের মেয়ে নাজনিন আকতার কাঁকনের স্বামী অ্যাডভোকেট ইমরান আলী বলেন, শাশুড়ির মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে প্রথমে গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে মঙ্গলবার সকালে রাজশাহীর উপশহর এলাকায় নিয়ে আসা হয়। উপশহর ক্রীড়া সংঘের মাঠে জানাজার নামাজ শেষে গোরহাঙ্গা গোরস্থানে দাফন করা হয়। কিন্ত তার শ্বশুড় নজরুল ইসলামের মরদেহ শনাক্ত হাওয়ার পরও প্রথম দফায় মরদেহ পাঠায়নি নেপাল। কবে পাঠাবে তাও নিশ্চিত নন। অ্যাডভোকেট ইমরান আলী বলেন, তার প্যান্টের সেলাইয়ে রাজশাহীর নিউমার্কেট এলাকার নিউ নেশন টেইলার্সের ট্যাগ রয়েছে। তা দেখে মরদেহ শনাক্তও করা হয়েছে। কিন্ত নিউ নেশন টেইলার্সের ট্যাগে থাকা ফোন নম্বরটি সম্ভবত বদল হয়ে গেছে। আর বর্তমানে যারা ব্যবহার করছেন নেপাল থেকে ফোন দেওয়ার পর তারা সেভাবে পরিচয় শনাক্তে সাড়া দেননি। কেবলমাত্র এই কারণে তার শ্বশুড়ের মরদেহ পাঠায়নি নেপাল।
এই ব্যাপারে সহযোগিতা কামনা করে আখতারা বেগমের জামাতা ইমরান আলী বলেন, একই সঙ্গে দুইজন বেড়াতে গিয়েছিলেন নেপাল। তাদের মধ্যে একজনের মরদেহ এসেছে। অন্যজনের কবে আসবে নিশ্চয়তা মিলছেনা। বর্তমানে শ্বশুড়ের মরদেহ পাওয়া নিয়ে তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। বিধায় তার মরদেহ দ্রুত দেশে আনার জন্য রাষ্ট্রের সহযোগিতা কামনা করেন ইমরান আলী।




