205378

মিয়ানমারে প্রেম, বাংলাদেশে বিয়ে

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের নাগরিকত্ব না পেলেও প্রেমিক যুগল মুহাম্মদ জোবায়ের ও নূর বেগমের বেশ ভালোভাবেই দিন পার হয়ে যাচ্ছিল। তারা প্রায় দুই বছর ধরে চুটিয়ে প্রেম করেছেন। এই যুগল জুটি পরে বিয়ের সিদ্ধান্তও নেন। কিন্তু তার পরের ঘটনা অত্যন্ত নির্মম, কষ্টের, পীড়াদায়ক যা কিনা বিয়ের বদলে তাদের জীবন বাঁচাতেই লড়তে হয়েছে অনেক গুলো দিন।

তা হলো- হঠাৎ করেই মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধরা রোহিঙ্গা নিধন শুরু করলে এ সময় তারা একে অপরকে হারিয়ে ফেলেন। এ অবস্থায় পণ্ড হয়ে যায় তাদের বিয়ে। অন্যদের মতো দু’জনেই জীবন বাঁচাতে পালিয়ে আসেন বাংলাদেশে। আশ্রয় নেন শরণার্থী শিবিরে।

প্রেমিক মুহাম্মদ জোবায়ের ভেবেই নিয়েছিলেন, হয়তো আর কোনোদিনই তার প্রেমিকাকে নূর বেগমকে খুঁজে পাবেন না।

অপরদিকে প্রেমিকা নূর বেগমও সেই রকম ধারণাই করেছিলেন।

কিন্তু কথায় আছে, রাখে আল্লাহ মারে কে। সৃষ্টিকর্তা যদি কারো কপালে কিছু লিখে দেন তাহলে সে কোনো না কোনো দিন সেটা পাবেই। এমনটিই হয়েছে প্রেমিক যুগল মুহাম্মদ জোবায়ের ও নূর বেগমের জীবনে।

বাংলাদেশ শরণার্থী শিবিরে এসে তারা একে অপরকে খুঁজে পান। আবারো চলতে থাকে তাদের দু’জনের প্রেম। শরণার্থী জীবনেও তাই সিদ্ধান্ত নেন ঘর বাঁধার। দু’জনে মিলে এক চিলতে সুখে থাকবে বলে।

নিজেদের দেশের সীমানা পেরিয়ে ক্যাম্পে এসেই ঘর বাঁধার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই রোহিঙ্গা মুসলিম প্রেমিক জুটি। প্রতিবেশী রোহিঙ্গাদের সহায়তায় করা হয় বিয়ের আয়োজন। ধুমধাম করে না পারলেও অল্প পরিসরে আয়োজন ছিল সেখানে।

অল্পবিস্তর সাজানোও হয় কনে নূর বেগমকে, তাকে পরানো হয় বিয়ের শাড়ি। তবে সাদামাটা পোশাকে আসতে দেখা যায় বর মুহাম্মদ জোবায়েরকে। তা নিয়ে অবশ্য কারোই আক্ষেপ নেই। কেননা, এটা যে শরণার্থী আশ্রয়কেন্দ্র। চাইলেও রাখাইনের মতো আয়োজন করা সম্ভব নয়। তেমনটাই শোনা যায় বরের কথায়।

সুখের খোরাগ এই যে শেষ পর্যন্ত এ যুগলের মনের বাসনা পূর্ণ হয় বাংলাদেশ শরণার্থী শিবিরেরই।

ad

পাঠকের মতামত