৪ বছরের প্রেম, প্রত্যাখান করায় থানায় বিয়ে
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানায় বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে প্রেমিক-প্রেমিকার। রোববার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে কাশিয়ানী থানার পুলিশের সহযোগিতায় উভয়পক্ষের অভিভাবকদের উপস্থিতিতে এ বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। কাজী বিয়ে পড়ান ও দোয়া মোনাজাত করেন। এর পরপরই উপস্থিত সবাইকে মিষ্টি দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। বিয়ের পর নব দম্পত্তি সকলের কাছে দোয়া আশির্বাদ কামনা করেন।
কাশিয়ানী থানার এসআই মোঃ আব্দুল বারেক জানান, উপজেলার দহিসারা গ্রামের শামচুল মোল্যার ছেলে সোহেল মোল্যার সাথে দীর্ঘ ৪ বছর ধরে একই উপজেলার জোনাশুর গ্রামের মঞ্জুর শেখের মেয়ে জলি খানমের প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিলো।
এ সূত্র ধরে শনিবার দুপুরে সোহেল মোল্যার সাথে দেখা করতে রাজপাট গ্রামে সোহেলের এক বন্ধুর বাড়িতে জলি আসে। বিষয়টি টের পেয়ে প্রেমিক-প্রেমিকা দু’জনকে আটক করে স্থানীয়রা। পরে স্থানীয় লোকজন তাদেরকে রাজপাট ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মনিরুল আলম খানের কাছে সোপর্দ করে।
ওই পুলিশ কর্মকর্তা আরো জানান, এ সময় জলি খানম বিয়ের জন্য সোহেল মোল্যাকে চাপ দেয়। কিন্তু সোহেল মোল্যা প্রেমিকা জলিকে রেখে কৌশলে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পালিয়ে যায়। বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা রাত ১১ টা পর্যন্ত সমঝোতার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। বিয়েতে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় সোহেল মোল্যার পরিবার। অবশেষে প্রতারিত জলি খানম নিরুপায় হয়ে রোববার কাশিয়ানী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওইদিন বিকালে প্রেমিক সোহেল মোল্যার ভাই সোহাগ মোল্যাকে আটক করা হয়। রোববার রাতে কাশিয়ানী থানার ওসি (তদন্ত) মাজহারুল ইসলাম, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও উভয়পক্ষের অভিভাবকদের উপস্থিতিতে থানায় তাদের বিয়ের আয়োজন করা হয়।
উভয়পক্ষের সম্মতিতে ৫ লাখ টাকা মোহরানায় তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয় বলে জানান পুলিশের ওই কর্মকর্তা।




